Thursday, June 25th, 2020

গ্যাস বিদ্যুতের যথেচ্ছ দামবৃদ্ধির বিল প্রত্যাহার কর

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন

“আমরা গভীর ক্ষোভের সঙ্গে জানতে পেরেছি যে, তথাকথিত জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বছরে যতোখুশি ততোবার গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) বিল-২০২০’ উত্থাপন করা হয়েছে। এই অধিবেশনে একই সাথে উত্থাপিত বাজেট প্রস্তাবে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ রূপপুরসহ প্রাণবিনাশী সব প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, করোনাকালেও দেশি বিদেশি কতিপয় গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষায় সরকারের তৎপরতায় কিছুমাত্র ছেদ পড়েনি। স্বাস্থ্যসেবার চরম অব্যবস্থা, সমন্বয় ও দায়হীনতার পাশাপাশি দুর্নীতি লুন্ঠনের তৎপরতাও থেমে নাই।

সর্বজনের অর্থের অপচয় করে নাটক করার জন্য বানানো হয়েছে বিইআরসি। যতোবার গণশুনানীতে যুক্তি তথ্যে প্রমাণিত হয়েছে গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নয় বরং কমানো উচিৎ এবং তা সম্ভব, ততোবার সরকারের পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠিক দাম বাড়ানো হয়েছে! এখন এই প্রতিষ্ঠান দিয়ে আরও স্বোচ্ছাচারীভাবে দাম বাড়ানোর জন্য এই বিল আনা হয়েছে।

স্থলভাগ ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমরা অনেকদিন থেকেই দাবি জানিয়ে আসছি। সরকার এই পথে কখনও যায়নি, বরং সক্ষমতা বাড়ানোর বদলে যতটুকু সক্ষমতা আছে তা আরও সংকুচিত করা হয়েছে। জাতীয় সংস্থাকে সুযোগ না দিয়ে কয়েকগুণ বেশি খরচে বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দেয়া হয়েছে। ব্যয়বহুল কুইকরেন্টাল কেন্দ্র বন্ধ রেখে তাদের হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। সমুদ্রের সম্পদ অনুসন্ধানে উদ্যোগ না নিয়ে গ্যাস সংকট জিইয়ে রাখা হয়েছে তারপর তার অজুহাতে কয়েকগুণ বেশি দামে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। গ্যাস সংকটের অজুহাতে ব্যাপকভাবে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হচ্ছে, এমনকি দেশের প্রাকৃতিক রক্ষাবাঁধ সুন্দরবন ধ্বংস করতেও সরকারের দ্বিধা নেই, করছে দেশবিনাশী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। অন্যদিকে এই একই সরকার দেশের নিজস্ব গ্যাস তেল সম্পদ রপ্তানির বিধান রেখে বিদেশি কোম্পানি ডাকছে। এসব কারণে বাড়ছে গ্যাস-বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়, আর তার বোঝা জনগণের ওপর চাপাতে বারবার গ্যাস বিদ্যুতের দামবৃদ্ধি করা হচ্ছে। উপরন্তু ঘরে ঘরে দেওয়া হচ্ছে ভুতুড়ে বিল।

২০১০ সালে প্রণীত দায়মুক্তি আইনের সহায়তা নিয়ে সব দেশবিনাশী চুক্তি করা হচ্ছে, আর এখন যখন তখন গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য করা হচ্ছে নতুন আইন। আর সরকারের অনিয়ম, দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করে মানুষের ওপর জোরজুলুম করা হচ্ছে। ‘তেল-গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি’ কমদামে পরিবেশসম্মতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প মহাপরিকল্পনা উপস্থিত করা সত্ত্বেও তাতে কান না দিয়ে সরকার তার মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ খাতকে ক্রমাগত কিছু দেশি বিদেশি গোষ্ঠীর ডাকাতি ব্যবসার খাতে পরিণত করছে। তাদের স্বার্থ রক্ষা করতেই এই বিল।

আমরা অবিলম্বে গ্যাস বিদ্যুতের অবিরাম দামবৃদ্ধির এই বিল প্রত্যাহার করে জাতীয় কমিটি প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। তাতে রামপাল, রূপপুর সহ প্রাণবিনাশী জাতীয় অসুস্থতা বৃদ্ধির প্রকল্প ছাড়াই কমদামে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথনির্দেশ করা হয়েছে।”