Sunday, May 31st, 2020

প্রাণ বিনাশী উন্নয়ন ধারা পরিবর্তনে দেশবিদেশে জনপ্রতিরোধ তৈরি করতে হবে

বিশ্বজুড়ে করোনা বিপর্যয় এবং বাংলাদেশে উন্নয়ন ধরন ও জনবিপদ পর্যালোচনার লক্ষ্যে ৩০ মে তেল গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির যুক্তরাজ্য শাখার সাথে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য কমিটির আহবায়ক ড. কিউ.এম রহমান। সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ, কেন্দ্রীয় সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, সাইফুল হক, জোনায়েদ সাকি, জহিরুল ইসলাম এবং ইউরোপীয় কমিটির সমন্বয়ক মোস্তফা ফারুক, যুক্তরাজ্য শাখার সদস্য সচিব ড. আখতার সোবহান মাশরুর, সদস্য রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, নিসার আহমদ, ওয়ালিউর রহমান প্রমুখ।

সভায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘করোনা বিপর্যয়ের পর বিশ্বজুড়ে উন্নয়ন সম্পর্কে নয়া উপলব্ধি হচ্ছে যে, উন্নয়ন ও ভোগের বর্তমান ধারা বিশ্বের মানুষের জন্য মহাবিপদ ডেকে আনছে। প্রাণবিনাশী মারণাস্ত্র আর জীবাশ্ন জ্বালানী নির্ভর উন্নয়ন ধারা পরিবর্তন করে পরিবেশবান্ধব কৃষি ও শিল্পের বিকাশ করতে হবে, প্রাণ প্রকৃতি ও মানুষের জন্য অনুক’ল জ্বালানী ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমফান, বুলবুল চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে সুন্দরবন বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্য অপরিহার্য। অথচ সরকার রামপাল সহ উপক’ল জুড়ে প্রাণবিনাশী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং দেশবিনাশী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে এখনও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ বাংলাদেশে ধনীসংখ্যা বৃদ্ধির হার বিশ্বে সর্বোচ্চ, আর এই দেশেরই কয়েক কোটি মানুষ অনাহারে বিনা চিকিৎসায় বিপর্যস্ত। পাশাপাশি দেশের রাজধানী ঢাকা এখন বিশ্বের সবচাইতে দুষিত নগরী, নদী বন বিনাশে কোটি কোটি মানুষ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের শিকার। এই সবগুলোই পরস্পর সম্পর্কিত। যে সরকারের নাকের ডগায় রাজধানী বিষাক্ত, নদী নর্দমায় পরিণত হচ্ছে সেই সরকার জেনে বুঝে সুন্দরবনের ওপর বিষ ঢেলে দিয়ে বলছে তার কোনো ক্ষতি হবে না।’ তিনি বলেন, ‘জাতীয় কমিটি কয়লা ও পারমাণবিক কেন্দ্র বাতিল করে উন্নয়নের নতুন গতিমুখের জন্য যে আন্দোলন করছে তা এখন সারা বিশ্বেরই গন্তব্য।’

সভায় বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘সরকার একদিকে গ্যাস সংকটের কথা বলে কয়লা ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠা করে দেশকে ভয়াবহ বিপদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে গ্যাস সম্পদের শতভাগ দেশে ব্যবহারের জন্য জাতীয় সক্ষমতা ব্যবহার না করে গ্যাস রপ্তানির জন্য পিএসসি মডেল তৈরি করছে।’ সাইফুল হক বলেন, ‘সরকার কতিপয় গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে দেশকে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’ জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘জবাবদিহিহীন সরকার বলেই এভাবে জনস্বার্থবিরোধী তৎপরতা চালাতে পারছে।’ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘কক্সবাজার থেকে সুন্দরবন লংমার্চ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’ মোস্তফা ফারুক বলেন, ‘সারা বিশ্বে এখন উন্নয়নের নতুন ধারা তৈরির যে আন্দোলন শুরু হয়েছে বাংলাদেশকে সেই ধারায় আরও জোরদার ভাবে অগ্রসর হতে হবে।’ ড, মাশরুর বলেন, ‘বাংলাদেশ বিনাশী দেশি বিদেশি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে আন্দোলন করতে হবে।’ ড. রহমান বলেন, ‘ফুলবাড়ী নিয়ে যে নতুন চক্রান্ত শুরু হয়েছে তা মোকাবিলায় লন্ডনে ব্রিটিশ জালিয়াত কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন আরও জোরদার হচ্ছে।’

সভায় আরও বলা হয়, দেশ যখন জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদের মুখে তখন সরকার উপকূল জুড়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে বাংলাদেশকে আরো বিপদগ্রস্ত করছে। ফুলবাড়ী নিয়ে চক্রান্ত চলছে। করোনাকালেও সরকারের মধ্যে নতুন কোনো উপলব্ধি নেই। চীন, ভারত ও জাপানের বিভিন্ন কোম্পানির বিনিয়োগে এসব কয়লা প্রকল্প করা হলেও এই সবগুলো দেশই নিজ নিজ দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরে আসছে। রূপপুরে পারমারবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে বাংলাদেশকে আরো বিপদে নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে দেশ ও বিদেশে আন্দোলন জোরদার করা দরকার। এজন্য বাংলাদেশের মানুষের পাশে প্রবাসী বাংলাদেশীদেরও যুক্ত করতে হবে।

রামপালসহ সুন্দরবন বিনাশী ও দেশবিনাশী সকল প্রকল্প বাতিল, ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, গ্যাস রপ্তানির অপতৎপরতা বন্ধ এবং জাতীয় কমিটির প্রস্তাবিত খসড়া মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে সুলভ পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। এই লক্ষ্যে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার প্রতিনিধিদের নিয়ে জুন মাসে একটি বৃহত্তর সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।