Monday, July 30th, 2018

অনিয়ম ও দুর্নীতির কেন্দ্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আজ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, “বড়পুকুরিয়ায় বিশাল পরিমাণ কয়লা লুন্ঠনের ঘটনা চাপা দিয়ে রাখার অবস্থা ছিল না বলে এখন তার খবর সবার জানা। আমাদের অনুসন্ধান বলছে, আরো বহুভাবে এখানে দুর্নীতি সংগঠিত হয়েছে এবং তার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও জড়িত আছেন।

বস্তুত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রনালয় এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি বড় কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এদের ভ’মিকায় শুধু সম্পদ লুন্ঠিত হচ্ছে না, ভয়াবহ দুর্নীতি বাংলাদেশের নদী-বন-মানুষ বিনাশে রেকর্ড করে চলেছে, বারবার গ্যাস বিদ্যুতের দামও বাড়ছে একইকারণে।

প্রকৃতপক্ষে বড়পুকুরিয়ার দুর্নীতি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক বহুমুখী দুর্নীতির তুলনায় খুবই ক্ষুদ্র একটি অংশ। গ্যাস খাতের দুর্নীতির কারনে গ্যাস সংকটে ভুগছে সাধারন নাগরিক ও বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান। এলএনজি ও এলজিপিসহ নানা চুক্তি দুর্নীতি ও কমিশন নির্ভর হবার কারণে গ্যাস অনুসন্ধান বিপর্যস্ত করা হয়েছে। মাগুড়ছড়া ও টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের কারণে মার্র্কিন ও কানাডার কোম্পানির কাছে বাংলাদেশের প্রাপ্য ৪০ হাজার কোটি টাকা এখনও আদায় হয়নি মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির কারণেই। সুন্দরবন বিনাশী রামপাল প্রকল্প প্রথম থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ভরা। এই প্রকল্পের সাথে যোগ হয়েছে দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় আইন ভেঙ্গে সুন্দরবন সীমানায় শত শত প্রকল্প অনুমোদন দেয়া। ইআইএ ছাড়াই বরগুনায় কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প করে আরেকটি সমৃদ্ধ অঞ্চলকে বিপর্যস্ত করা হচ্ছে। মাতারবাড়ী ও বাঁশখালীতে দুর্নীতি ও অনিয়মের সীমা নেই। দুর্নীতির কারণে এখনও খুনি জালিয়াত এশিয়া এনার্জিকে দেশ থেকে বিতাড়ন না করে ফুলবাড়ী নিয়েও নানা চক্রান্ত চালানো হচ্ছে। ইআইএ ছাড়া রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প অস্বচ্ছতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি বড় দৃষ্টান্ত।

অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গোষ্ঠীকে রক্ষা করতেই সরকার বার বার দায়মুক্তি আইনের মেয়াদ বাড়াচ্ছে, রূপপুরের জন্য করা হয়েছে আরেকটি দায়মুক্তি আইন। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দাবি করছি, দায়মুক্তি আইন বাতিল করে শুধু বড়পুকুরিয়া নয় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সকল প্রকল্প নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। মন্ত্রী ও জ্বালানি উপদেষ্টাদের কার্যক্রমও হিসাবে আনতে হবে। জ্বালানি অপরাধীদের বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। সরকার যদি অবিলম্বে এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ না করে তাহলে নাগরিকদের নিয়ে আমরা গণআদালত গঠন করতে বাধ্য হবো।”