Tuesday, November 22nd, 2016

জাতীয় কমিটির সংবাদ সম্মেলন: ২৬ নভেম্বর শনিবার মহাসমাবেশ সফল করে সুন্দরবন ও দেশকে রক্ষার আহ্বান

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে রামপাল প্রকল্পসহ সুন্দরবনবিনাশী সকল অপতৎপরতা বন্ধ এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যা সমাধানে জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আগামী ২৪ নভেম্বর। ঐদিন দেশের ৭টি প্রান্ত থেকে যাত্রা শুরু হবে। খুলনা বিভাগে রামপাল এলাকা থেকে, রংপুর বিভাগে পঞ্চগড় থেকে, ময়মনসিংহ বিভাগে নেত্রকোনা থেকে, বরিশাল বিভাগে পটুয়াখালী থেকে, রাজশাহী বিভাগে কানসাট থেকে, সিলেট বিভাগে সুনামগঞ্জ থেকে এবং চট্টগ্রাম বিভাগে কক্সবাজার থেকে যাত্রা শুরু হবে। এ যাত্রা শেষে আগামী ২৬ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুপুর ২টায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সকাল ১১টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে। মহাসমাবেশ শেষে মিছিল করে শহীদ মতিউল-কাদের চত্বরে (হাইকোর্ট কদম ফোয়ারা মোড়) সমাপনী অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘সর্বজনের স্বার্থে ক্রমবিকশিত এই কর্মসূচিতে দেশের সকল পর্যায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন আমরা পাচ্ছি। এই সমর্থনকে সক্রিয়তায় পরিণত করে আমাদের সুন্দরবন ও দেশকে রক্ষা করতে হবে। কেননা বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেক বিকল্প আছে, সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নাই। তাই সুন্দরবন আন্দোলনে বিজয়ী হবারও কোনো বিকল্প নাই।’

আজ সকাল ১১টায় রাজধানীর মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। জাতীয় কমিটির সংগঠক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বজলুর রশীদ ফিরোজ, সাইফুল হক, জোনায়েদ সাকী, আব্দুস সাত্তার, মোশরেফা মিশু, ফখরুদ্দিন কবির আতিক, শামছুল আলম, রজত হুদা, মাহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন, অধ্যাপিকা মোশাহিদা সুলতানা, বহ্নি শিখা জামালী, শহিদুল ইসলাম সবুজ, মিজানুর রহমান, রেজাউল আলম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘মহাপ্রাণ সুন্দরবন বাংলাদেশকে রক্ষা করে। তাই সুন্দরবনকে রক্ষা করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের সাথে অন্যান্য বনগ্রাসী প্রকল্প ও অপতৎপরতা বন্ধের জন্য সুন্দরবন নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নেরও দাবি জানানো হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশের স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প সুন্দরবন বিনাশের কারণ হবে বলে মত দিয়ে এই প্রকল্প বাতিলের সুপারিশ করেছেন। পরপর কয়েকটি সতর্ক বার্তা দেওয়ার পর ইউনেস্কো তার চুড়ান্ত প্রতিবেদনে একই মত প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশে এবং বিশ্বের দেশে দেশে এই প্রকল্প বাতিলের দাবিতে স্বতঃস্ফূর্ত সভা-সমাবেশ-মিছিল-গবেষণা-তৎপরতা অভূতপূর্বহারে বিস্তৃত হচ্ছে। আমরা জনগণের শক্তি, বৈজ্ঞানিক তথ্য যুক্তি, দেশ ও মানুষের প্রতি আমাদের দায় সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর ভর করে এই আন্দোলন পরিচালনা করছি। কিন্তু সরকার সব যুক্তি তথ্য অগ্রাহ্য করে, দেশ ও মানুষের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উপেক্ষা করে দেশি বিদেশি মুনাফালোভীদের স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। নৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে সরকার বিজ্ঞাপনী ভাড়াটে প্রচার ও দমন-পীড়নের পথ ধরেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘আমরা উন্নয়নের নামে প্রাণ ও দেশবিনাশী প্রকল্পের বদলে জনস্বার্থভিত্তিক প্রকল্প, জাতীয় সক্ষমতা বিনাশের বদলে তার বিকাশে, দেশকে ঋণ, দুর্নীতি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ঠেলে দেবার বদলে টেকসই উন্নয়নের কথা বলি। এই দেশের মালিক এদেশের জনগণ। তাঁদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করে যেসব প্রকল্প, তাকে আমরা উন্নয়ন প্রকল্প বলতে পারি না। আমরা এদেশকে অন্য কোনো দেশ তা ভারত, চীন, রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্র যেই হোক না কেন তাদের পরিত্যক্ত আবর্জনার স্তুপে পরিণত করতে দিতে পারি না। তাদের স্বার্থে এমনকি দেশি লুটেরা দখলদার গোষ্ঠীর স্বার্থে এই দেশকে বিপন্নতার দিকে ঠেলে দেয়ার মুখে নীরব থাকতে পারি না।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ‘জাতীয় কমিটির ৭ দফাই বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান এবং টেকসই উন্নয়নের পথ দেখাতে পারে। এজন্য প্রয়োজনে আমরা সরকারের সাথে বসে বিকল্প পথ দেখাতে প্রস্তুত।’