Tuesday, February 28th, 2017

যৌক্তিক দাবিতে শান্তিপূর্ণ হরতালে পুলিশী হামলার প্রতিবাদ এবং জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবি

গ্যাসের বর্ধিত মুল্য প্রত্যাহারের দাবিতে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার হরতালে পুলিশী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তেল-গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আজ এক বিবৃতিতে বলেছেন:

“গণশুনানীর প্রাপ্ত ফলাফলের বিরুদ্ধে গিয়ে, বেআইনীভাবে সরকারের নির্দেশে বিইআরসি গত ২৩ ফেব্রুয়ারি গ্যাসের দামবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। সকল পর্যায়ে লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও, কতিপয় গোষ্ঠীস্বার্থে এই দামবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য বোঝা হবে, সকল পর্যায়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াবে। এর ফলে পরিবহণ ব্যয় বাড়বে, বিদ্যুতের দাম বাড়বে, এগুলোর কারণে আবার বাড়বে বাসাভাড়াসহ অন্য সব দ্রব্যসামগ্রীর দাম, বাড়বে শিল্পকৃষি উৎপাদন ব্যয়। সকল উদ্যোক্তার জন্যই নতুন বিনিয়োগ এতে আরও কঠিন হয়ে যাবে। যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কখনোই গ্যাস সংযোগ পাননি তাদেরও জীবনযাত্রার ব্যয় এভাবে বাড়বে। এরকম একটি অযৌক্তিক দেশবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ সিপিবি-বাসদ-গণতান্ত্রিক বাম মোর্চাসহ কয়েকটি দল ঢাকা মহানগরীতে ৬ ঘন্টা হরতালের আহবান করেছিলো। শান্তিপূর্ণভাবে এই হরতাল পালনকালে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে অনেককে আহত করেছে, বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতা কর্মীদের মুক্তির দাবি জানাই।

“শুধু গ্যাসের দামবৃদ্ধি নয়, নিজেদের জাতীয় সক্ষমতা বিপর্যস্ত করে সরকার একদিকে সাগরের গ্যাস রপ্তানির বিধান রেখে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করছে, অন্যদিকে গ্যাস সঙ্কটের অজুহাতে সুন্দরবন বিনাশী প্রকল্প, ভয়ংকর ঝুঁকি ও বিপুল ঋণের রূপপুর প্রকল্পের উদ্যোগ নিচ্ছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার দরের চাইতে কয়েকগুণ বেশি দামে বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে গ্যাস কেনার চুক্তি হচ্ছে। আমরা তাই একইসঙ্গে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, সুন্দরবনবিনাশী প্রকল্পসহ দেশবিধ্বংসী সব তৎপরতা বন্ধ করে গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।”