Wednesday, August 17th, 2016

বিজ্ঞান, বিজ্ঞাপন ও সুন্দরবন

কয়েক বছর ধরেই কয়লাবিদ্যুত্ নিয়ে পড়াশোনা করছি মূলত পরিবেশের প্রশ্নটাকে কেন্দ্রে রেখে। সুন্দরবনের কাছে রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র করার ঘোষণা আসার পর থেকে স্বাভাবিকভাবেই এ পড়াশোনার মাত্রা আরেকটু বাড়াতে হয়েছে। তবে কিছুদিন ধরে কয়লাবিদ্যুতের পক্ষে সরকারি আর কোম্পানির প্রচার-প্রচারণায় নিজেরই সন্দেহ হতে থাকল— এত দিন যা জেনেছি, ঠিক জেনেছি তো? তাই আবারো পুরনো জানাটাকে ঝালিয়ে নেয়া আর নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করতে হলো। গত কয়েক সপ্তাহে পক্ষে-বিপক্ষে বহু নিবন্ধ, রিপোর্ট, বই-পুস্তক, জার্নাল ঘাঁটাঘাঁটি করা হলো। উদ্দেশ্য, প্রথমত. নিজের জানা-বোঝায় যাতে ঘাটতি না থাকে। যারা রামপালবিরোধী আন্দোলন করছেন, তাদের অনেকের মধ্যেই এ চেষ্টা জারি আছে। নানা জন নানা দিক থেকে বিশ্লেষণ করছেন। এ জানা-বোঝাটা একেবারে কেবল জানা-বোঝার উদ্দেশ্যে নয়, এর অন্য একটা উদ্দেশ্য আছে। সেটা হলো, সুন্দরবনকে রক্ষা করা। যাতে তার কোনো ক্ষতি না হয়, সেটা নিশ্চিত হওয়া। বিপরীতে কোম্পানির চেষ্টা হওয়ার কথা তাদের প্রকল্প চালু করা, এতে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না কেন, সে বিষয়ে সততার সঙ্গে জনগণকে আশ্বস্ত করা। অন্যদিকে রাষ্ট্র কিংবা সরকারের কাজ হওয়ার কথা নাগরিকদের উদ্বেগ আমলে নিয়ে কী কী বিকল্প আছে, তার অনুসন্ধান, কোম্পানিকে অন্যত্র বিদ্যুৎকেন্দ্র সরিয়ে নিতে বলা এবং তার ব্যবস্থা করা, যদি নাগরিকদের দাবি অযৌক্তিক বলেও মনে হয় তবুও তাদের সংশয় দূর করার উদ্যোগ নেয়া, সুন্দরবনকে রক্ষায় তাদের পদক্ষেপগুলো সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা। কিন্তু আমরা বর্তমানে কোম্পানি এবং সরকারের ভূমিকার কার্যত কোনো পার্থক্য দেখতে পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে, তারা একাকার হয়ে গেছে। আবার আন্দোলনকারীদের দিক থেকে কয়লাবিদ্যুত্ নিয়ে জানাশোনার যে চেষ্টাটা দেখা যাচ্ছে, প্রকল্পের পক্ষের লোকদের সুন্দরবন নিয়ে জানাশোনার সেই আগ্রহটা দেখা যাচ্ছে না। রামপাল প্রকল্প সুন্দরবনের ক্ষতি করবে না— এটা বলার জন্য সুন্দরবনকে যতটুকু উল্লেখ করতে হয়, তাদের বক্তব্যে সুন্দরবনের উল্লেখ ততটুকুই। সুন্দরবনের কী কী ধরনের বাস্তুতন্ত্র আছে, কীভাবে তাদের রক্ষা করা হবে বা তাদের আন্তঃসম্পর্ক কী কী কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, সেগুলো নিয়ে কোনো কথাবার্তা আমরা তাদের বক্তব্যে পাই না।

সুন্দরবনের বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী কী কী এবং কীভাবে তাদের ওপর এ বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রভাব রাখবে না, সে রকম কথাও আমরা তাদের কাছে শুনছি না। অথবা সুন্দবনের উদ্ভিদকুলের প্রতিবেশগত প্রয়োজন কী কী এবং সেগুলো মাথায় রেখে তা রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, সে রকম কোনো কিছুও আমরা তাদের কাছ থেকে জানতে পারছি না। বরং তাদের বক্তব্যে সত্যিকার বোঝাপড়া বা অনুসন্ধানের চেয়ে বিজ্ঞাপনের একরৈখিক প্রচারণার সুরই প্রধান। ফলে তারা বৈজ্ঞানিকতার দাবি করে আসলে বিজ্ঞান নয়, প্রচার করছেন বিজ্ঞাপন। এই বিজ্ঞাপনের বিপরীতে আমরা এখানে সত্য অনুসন্ধানের বৈজ্ঞানিক পথেই বিষয়গুলোর মীমাংসার চেষ্টা করব। আর মনে রাখব টেকনোলজিই বিজ্ঞান নয়, বরং সত্য অনুসন্ধানের পথই বিজ্ঞান।

বিজ্ঞাপন-১

রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এ প্রযুত্তি ব্যবহার করলে পরিবেশ দূষিত হবে না। কাজেই সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা না থাকলেও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ না জেনে অহেতুক বিরোধিতা করা হচ্ছে।

বাস্তবতা

এটাই যারা বিদ্যুৎকেন্দ্র করার পক্ষে তাদের দিক থেকে দেয়া এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বহুল প্রচারিত যুক্তি। এতে বিরোধিতাকারীদের ওপর একটা ছাপ মেরে দেয়ার চেষ্টা খোলা চোখেই দৃশ্যমান। সরকারি যুক্তিতে সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন তা সব সমস্যার সমাধান করে দেবে। জ্বালানি ও বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে কয়লাকে এমনকি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসলে এসব বক্তব্যে সত্যের ছোঁয়া সামান্যই। সারা দুনিয়ায় কয়লা সবচেয়ে দূষণকারী ও নোংরা জ্বালানি হিসেবেই স্বীকৃত, পরিবেশবান্ধব নয়। আজকাল ইন্টারনেটের যুগে যে কেউ গুগল করেই এ বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেন। বিশেষ গবেষণা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের দরকার নেই। আর সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি খুব নতুন কিছু নয়। মূলত পঞ্চাশের দশকের শেষ দিক থেকেই এর ব্যবহার শুরু হয় কম কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুত্ উত্পাদনের সুবিধার জন্য। মূলত এর সঙ্গে পরিবেশের যা সম্পর্ক, তা কয়লা পোড়ানোর পরিমাণ ও দক্ষতার সঙ্গে। এ প্রযুক্তিতে অপেক্ষাকৃত দক্ষতার সঙ্গে কয়লা পোড়ানো হয়। ফলে কম কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা যায় এবং দূষণও খানিকটা কম হয়। এ প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু হওয়ার পর বেশ কিছুদিন চললেও কয়লার দাম মোটামুটি স্থিতিশীল হওয়ার পর নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকেই নতুন করে এর ব্যবহার বন্ধ হয়। কেননা বেশি কয়লা পুড়িয়েও বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে আর অসুবিধা থাকে না, প্রযুক্তিগত আয়োজনের খরচ মিটিয়ে কম কয়লা ব্যবহার করেও এই পদ্ধতিতে পুরনো সাব-ক্রিটিক্যাল পদ্ধতির চেয়ে বেশি হওয়ার ফলে। অর্থাত্ এ প্রযুক্তির আবির্ভাব ও ব্যবহার কমে যাওয়ার পেছনে ছিল অর্থনৈতিক বিবেচনা, পরিবেশ নয়। এহেন সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিকে যে সর্বরোগহর দাওয়াই হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, এমনকি কয়লাকে পরিবেশবান্ধব বানিয়ে দেয়া হচ্ছে— এটা বাংলাদেশের বিশেষ ও অনন্যবাস্তবতা। এমন উদাহরণ আর কোথাও পাওয়া যাবে না। তবে এ সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি আবারো ব্যবহার শুরুর কারণ হিসেবে আসলে আছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হিসেবে সবচেয়ে দায়ী জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার বন্ধ করার দাবির পরিপ্রেক্ষিত। নতুন করে এ বিষয়ে গবেষণা শুরু হয় প্রযুক্তিকে আরো উন্নত করতে। বলা বাহুল্য, সেগুলো করার ক্ষেত্রে কয়লা কোম্পানির উদ্দেশ্য ছিল কয়লাকে গ্রহণযোগ্য করা, তার ভাবমূর্তি পরিষ্কার করা। এ গবেষণার মাধ্যমে প্রযুক্তিকে আরো উন্নত করার পদক্ষেপ নেয়া হয়। সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির চেয়েও কয়লার এনার্জি কনভারশন রেট বাড়ানো যেতে পারে আলট্রাসুপারক্রিটিক্যাল টেকনোলজি মারফত। তাতে দূষণও আরেকটু কমে। কয়লার দহন দক্ষতা আরো বাড়ানোর প্রযুক্তি হচ্ছে অ্যাডভান্সড আলট্রাসুপারক্রিটিক্যাল টেকনোলজি। যদিও রামপালে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে না। বর্তমানে কার্বন উদ্গীরণ নিয়ে যে সচেতনতা, তার ফলে নতুন করে সে প্রযুক্তির কথা বলা হচ্ছে সেটা হলো— কার্বন ক্যাপচার ও স্টোরেজ বা সিকুয়েন্সশন (সিসিএস) প্রযুক্তি। যাতে কার্বনের নিঃসরণ অনেকটা কমে আসে। সেটি এখনো বহুল ব্যবহারের পর্যায়ে আসেনি। এখন পর্যন্ত (জুলাই ২০১৬) এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে কেবল দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে। কিন্তু এমনকি সেই প্রযুক্তিও কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ COP21 -এ স্বাক্ষর করে এসেছে, তা পূরণে সক্ষম নয়।

 

কয়লা হচ্ছে দুনিয়ার সবচেয়ে দূষিত জ্বালানি, কয়লাখনি বিপুলভাবে ভূমিরূপের গঠন পরিবর্তন করে, গাছপালা-পশুপাখি-মানুষের মৃত্যু ঘটায়। দূষিত ও ধ্বংস করে পানির উত্সকে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রবেশের আগেই কয়লা পরিবহন মারফত একবার দূষণ ঘটে। এর পর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ঢোকানোর আগে কয়লা ধুয়ে নিতে হয়, যা লক্ষ লক্ষ টন কোল স্লারির উদ্ভব ঘটিয়ে পানির উত্সকে দূষিত করে। এতে পানির মান ধ্বংস হয়, তীরবর্তী প্রাণের ক্ষতি হয় এবং আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির জন্ম দেয়। আর এসব প্লান্টে দুর্ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে সব দিকেই। উদাহরণস্বরূপ, টেনেসিতে কিংস্টন ফসিল প্লান্টে কোল স্লারির দেয়ালে ফাটল ধরে ৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন ঘন গজ তরল কয়লার ছাই ছড়িয়ে পড়ে, যা নিকটস্থ টেনেসি নদীর ৩ হাজার একরজুড়ে এক ফুট গভীর স্তরের জন্ম দেয়। ছড়িয়ে পড়ে কয়েক মাইলজুড়ে, মানুষের বাড়িঘর, রেললাইন, রাস্তা, পুকুর ধ্বংস করে এবং পানিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি বেড়ে যায়, যার বিষক্রিয়া পানিকে দূষিত করে।

সাধারণভাবে একটা ৫০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত করে। প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকার ও দক্ষতার ওপর কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনের পরিমাণ নির্ভর করে। মার্টিনস লেক টেক্সাসে ২০০৬ সালে শুধু একটি বিদুৎকেন্দ্রই ২১০ লাখ টন কার্বন নির্গত করে; যা স্লোভেনিয়া, এস্তোনিয়া, বলিভিয়া বা আফগানিস্তানের ২০০৪ সালের মোট কার্বন নির্গমনের চেয়ে বেশি। বিশ্বজুড়ে যে ২৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘সবচেয়ে বেশি কার্বন নির্গমনের জন্য দায়ী, তার সবকটিই কয়লাভিত্তিক।’ এগুলোর সম্মিলিত কার্বন নির্গমন ৫ হাজার ৭০০ লাখ টন, যা যুক্তরাজ্যের মোট বার্ষিক নির্গমনের সমান। ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, যার রয়েছে বহুমাত্রিক প্রভাব, তার প্রধান উত্স হলো কার্বন নির্গমন; যা সুপারক্রিটিক্যাল, আলট্রাসুপারক্রিটিক্যাল, এমনকি অ্যাডভান্সড আলট্রাসুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি দিয়েও রোধ করা যায় না। আর কার্বন শুধু বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিই ঘটায় না বরং বাতাসে কার্বনকণা ছড়িয়ে পড়লে তা উদ্ভিদের সালোক সংশ্লেষণের হারও কমায়। ফলে বনভূমি অঞ্চলে তা বাড়তি বিপদ ডেকে আনে। আর নানাভাবে এরই মধ্যে সংকটাপন্ন সুন্দরবন নতুন করে এ চাপ নিতে সক্ষম নয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষের কয়েকজন গবেষক হিসাব করে দেখিয়েছেন যে, সুন্দরবন বার্ষিক ৪১ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইডের চাপ নিতে সক্ষম এবং আমাদের দুশ্চিন্তা না করতে উপদেশ দিয়েছেন। কিন্তু তারা বেমালুম চেপে গেছেন যে, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে এর চেয়ে অনেক বেশি কার্বন নিঃসরণ হবে এবং সুন্দরবন এরই মধ্যে কার্বন শোষণ করে, নতুন কার্বন হবে তার জন্য বাড়তি চাপ। আর এ চাপ নেয়ার সক্ষমতা সুন্দরবনের নেই। কিন্তু এগুলো রামপালে কয়লাবিদ্যুতের পক্ষের লোকেরা মানতে রাজি নন। তারা বলছেন, তারা এমন ব্যবস্থা করবেন, যাতে আর দূষণই হবে না। কয়লাবিদ্যুত্ উত্পাদনের নতুন কোনো প্রযুক্তি কি তারা আবিষ্কার করে ফেলেছেন? নিশ্চয়ই তা করেননি। ফলে দুনিয়ায় নতুন যেসব প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হচ্ছে, সেগুলোর ব্যবহারই তাদের করতে হবে। এগুলো নিয়ে যখন বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়া যায় তখনই দেখা যায়, আসলে ‘ক্লিন কোল’ পক্ষীয়দের যে যুক্তি, কমবেশি তারই কথা বলছেন তারা। আসলে ক্লিন কোল বলে কিছু নেই বরং তা ‘কোলের ইমেজ ক্লিন’ করারই একটা প্রচেষ্টা মাত্র। এখানে আমরা ক্লিন কোল-বিষয়ক যেসব মিথ ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে, কোম্পানির প্রচার মারফত সেগুলোর উল্লেখ করে এর বিপরীতে বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। এখানে প্রাসঙ্গিকভাবে কোম্পানির পক্ষ থেকে যে প্রচার/নিবন্ধের জবাব দেয়া হয়েছে, তারও পর্যালোচনা করা হবে।

বিজ্ঞাপন-২

কয়লা ধৌতকরণ কয়লায় সালফার ও অন্যান্য খনিজ উপাদান কমায়।

বাস্তবতা

কয়লা ধৌতকরণ বিপুল পরিমাণ কোল স্লারির জন্ম দেয়। যাকে বর্জ্যের স্তূপে জমা করা হয়। বৃষ্টির পানি এগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে নদী বা অন্যান্য জলাধারে মেশায়। এগুলো অ্যাসিডিক ও এতে অনেক ভারী ধাতু মিশে থাকে। কয়লা ধোয়া বাবদ কোল স্লারি দূষণ বিষয়ে বক্তব্য কোম্পানি বা সরকার কারো দিক থেকেই আসেনি।

বিজ্ঞাপন-৩

লো নাইট্রোজেন অক্সাইড বার্নারের মাধ্যমে নাইট্রোজেন অক্সাইড কমানো যেতে পারে। শিখা তাপমাত্রা ও দহনের রাসায়নিক পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এগুলো নাইট্রোজেনের অক্সাইড তৈরি হতে বাধা দেয়। এর পর পোস্ট কমবাশন স্তরে এসএনসিআর বা এসসিআর পদ্ধতি ব্যবহার করে এর পরিমাণ বিপুল পরিমাণে কমানো যায়।

ফ্লু গ্যাস ডিসালফারাইজেশনের (FGD) মাধ্যমে সালফার ডাই-অক্সাইড দূর করা যায়। ওয়েট এফজিডি বা ওয়েট স্ক্র্যাবিং বেশি ব্যবহূত হয়, যা সালফার শোষণকারী রাসায়নিক যেমন— লাইম (চুন) ব্যবহার করে সালফার দূর করে।

দহনের সময় ক্লিন কোল টেকনোলজিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং তাতে দূষিত গ্যাস নির্গমন বন্ধ হয়। কণা দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ইলেকট্রোস্ট্যাটিক প্রেসিপিটর (ESP) ও ফ্যাব্রিক ফিল্টার ব্যবহার করা হয়। ইএসপি সাধারণত বেশি ব্যবহূত হয়। জ্বালানি গ্যাসকে একটা সংগ্রাহক পাতের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বৈদ্যুতিক চার্জের মাধ্যমে সেগুলো কণাকে আকর্ষণ করে।

ক্ষুদ্রকণা যেমন— মার্কারি, আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম অপসারণের জন্য কণা নিয়ন্ত্রণ ও এফজিডি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়। মার্কারি দূর করার জন্য অ্যাক্টিভেটেড কার্বন ইনজেকশন করা যেতে পারে।

বাস্তবতা

কয়লার ৭-৩০ শতাংশ থাকে দহন অযোগ্য উপাদান, যেগুলোকে কোথাও না কোথাও ফেলতে হয়। ক্লিন কোল টেকনোলজি ব্যবহূত কয়লা ধোঁয়ায় পরিণত হওয়ার আগেই সেগুলো ধরে ফেলতে চায়। দহন অযোগ্য কয়লায় বিষাক্ত উপাদান থাকা সত্ত্বেও সেগুলো ব্যবহার করা হয় বা গর্ত করে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।

প্রকৃতপক্ষে নাইট্রোজেন অক্সাইডের মাত্রা কমানো যেতে পারে কিন্তু দূর করা যায় না। সব নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সুচারুভাবে অনুশীলন করলে ৫০-৯০ শতাংশ কমানো সম্ভব। সেক্ষেত্রে কেবল বার্নারের পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। পরবর্তীতে পোস্ট কমবাশন টেকনোলজি যেমন— এসসিআর ব্যবহার করতে হয়। এখন দেখা যাক এ বিষয়ে কোম্পানির প্রশ্নোত্তর:

প্রশ্ন: রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নাইট্রোজেন অক্সাইড নিঃসরণের হার কমানোর লক্ষ্যে সিলেকটিভ ক্যাটালিস্ট রিঅ্যাক্টর (এসসিআর) বা এ ধরনের অন্য কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা?

উত্তর: হ্যাঁ, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নাইট্রোজেন অক্সাইড নিঃসরণের হার কমাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারে উন্নত প্রযুক্তি সংযোজনের কারণে রামপাল প্রকল্পে নাইট্রোজেন অক্সাইডের নিঃসরণ অত্যন্ত কম (৫১০ এমজি/এনএম৩মাত্রার মধ্যে) হবে। স্টয়কিয়োমেট্রিক এয়ার ফুয়েল ও স্বল্পমাত্রার কমবাশন সীমিত নাইট্রোজেন অক্সাইড তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

বিশ্লেষণ: এখানে স্পষ্টভাবেই এক ধরনের চাতুরির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। প্রশ্নে যেখানে সুনির্দিষ্টভাবে এসসিআর টেকনোলজির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে আধুনিক প্রযুক্তির কথা বলে পাশ কাটানো হয়েছে পুরো বিষয়টা। আর যে প্রযুক্তির উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো— কমবাশন টেকনোলজি। অন্যদিকে এসসিআর বা এসএনসিআর আসলে পোস্ট কমবাশন টেকনোলজি। কমবাশন প্রক্রিয়ায় সামান্যই নাইট্রোজেন অক্সাইড নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ফলে পোস্ট কমবাশন নিয়ন্ত্রণ জরুরি হয়ে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে সিলেকটেড নন ক্যাটালাইটিক রিডাকশন (এসএনসিআর) বা সিলেকটেড ক্যাটালাইটিক রিডাকশনের (এসসিআর) আশ্রয় নিতে হয়। এসএনসিআরে নাইট্রোজেন অক্সাইড সরানোর হার ১৫-৩৫ শতাংশ আর এসসিআরে তা ৫০-৯০ শতাংশ। সেজন্যই বিশেষভাবে এসসিআর প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু তাকে পাশ কাটিয়ে উত্তরটা হ্যাঁ দিয়ে শুরু করে আসলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সততার সঙ্গে প্রশ্নটির উত্তর দিলে তা শুরু হতো না দিয়ে। অর্থাত্ এখানে যে টেকনোলজি ব্যবহার করা হবে তাতে নাইট্রোজেন অক্সাইডের দূষণ থেকে যাবে এবং যেসব ক্ষতি করে তাও অব্যাহত থাকবে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইডের গুরুত্বপূর্ণ উত্স, যা অ্যাসিড রেইন ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে।

নাইট্রোজেনের অক্সাইডগুলো গ্রিনহাউজ গ্যাস ও জৈব যৌগের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে, যা উদ্ভিদের প্রাণ ধ্বংস করে। উদ্ভিদকে রোগ ও ঋতুর হেরফেরের ক্ষেত্রে অধিক নাজুক করে। অ্যাজমা, শ্বাসতন্ত্রের ক্ষয়, অকালমৃত্যু ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষের ওপর এটা বিরাট স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করে।

যখন সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইড পানি, অক্সিজেন ও বাতাসের অন্যান্য রাসায়নিকের সঙ্গে মেশে তখন অ্যাসিড বৃষ্টি হয়। এই বিষ আকাশ থেকে বৃষ্টির আকারে একটা বিরাট এলাকাজুড়ে পড়তে পারে, যা উদ্ভিদ ও মাছের মৃত্যু ঘটায়। বনভূমির ক্ষেত্রে এটা উদ্ভিজ্জরাজির সরাসরি ক্ষতি করতে পারে আবার মাটির পুষ্টি ক্ষয় করেও তা করতে পারে।

উন্নত মানের কয়লা, যেগুলোয় সালফারের পরিমাণ কম, সেগুলো নির্গমন কমানো ও দক্ষতা বাড়ানোর কথা। কিন্তু এটা মাত্র এক ভাগ তাপীয় দক্ষতা বাড়ায়। অন্যদিকে সালফারের দূষণ কমানোর যেসব ব্যবস্থা এবং তার পরিমাণ কমানোর জন্য ধৌতকরণ পানিতে সেই দূষণ ছড়িয়ে দেয়। এফজিডি পদ্ধতিতে বা স্ক্র্যাবেও যে সালফার বা অন্যান্য উপাদান ধরা পড়ে তা পানির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়, যা আশেপাশের অঞ্চলে পানি দূষণ বাড়ায়। নর্থ ক্যারোলিনায় অধিবাসীদের অধিক দূষিত পানি পাওয়ার প্রেক্ষিতে ডিউক ইউনিভার্সিটি পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, সেখানে এফজিডি ব্যবহারের পর পানির দূষণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

এখনো বিদ্যুত্ উত্পাদনের সময় তৈরি হওয়া সালফার নির্গমনের সবচেয়ে বড় উত্স কয়লা। ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তৈরি হওয়া সালফার ডাই-অক্সাইডের ৯৫ শতাংশ ও নাইট্রোজেন অক্সাইডের ৯০ শতাংশ এসেছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে।

জাতিসংঘের পরিবেশ প্রকল্পের (ইউএনইপি) রিপোর্টের তথ্য অনুসারে, মার্কারি মানুষের স্বাস্থ্য ও বনভূমির জন্য একটা বৈশ্বিক হুমকি। রিপোর্টে এটাও বলা হয়েছে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রই হলো বৈশ্বিক মার্কারি দূষণের জন্য দায়ী এককভাবে সবচেয়ে বড় উত্স। এখন দেখা যাক মার্কারি দূষণ সম্পর্কে কী ব্যবস্থা নেয়ার কথা আসলে বলা হচ্ছে:

প্রশ্ন: রামপাল প্রকল্পে কি মার্কারি রিমুভাল (পারদ দূরীকরণ) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে?

উত্তর: হ্যাঁ, এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এফডিজির সঙ্গে ওয়েট লাইমস্টোন প্রযুক্তি পারদ দূরীকরণে কাজ করবে। তাছাড়া স্বাভাবিক নিয়মে কিছু পারদ ছাইয়ের মাধ্যমে শোষিত হবে। বটম অ্যাশ ও ফ্লাই অ্যাশ উভয়ই শুকনো অবস্থায় সংগ্রহ করা হবে এবং সেগুলো উপযুক্ত কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হবে। যার ফলে ভেজা ছাই মজুদ করে রাখার দরকার হবে না।

এখানে যে প্রযুক্তির কথা বলা হচ্ছে, তা মূলত সালফার দূর করার প্রযুক্তি। সালফার কমানোর সঙ্গে সঙ্গে তা কিছু মার্কারিও সরায়। কিন্তু সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট এক গবেষণায় বলছে, (এ রকম আরো গবেষণা একই ধরনের কথা বলে) শুধু অক্সিডাইজড মার্কারি বা আয়নিত মার্কারিকেই তা সরাতে পারে, মার্কারি অনুকে নয়। রামপালে এসসিআর পদ্ধতি ব্যবহার না করা হলে তা কার্বনকে অক্সিডাইজ করে তাকে আয়নিত করার উপায় কি হবে? যদি এফজিডি দিয়ে মার্কারি দূর করতে হয় তাহলে তো আয়নিত করার বিকল্প নেই। আর আয়নিত মার্কারি আটকানোর সমস্যা হলো যে, মার্কারিকে যা আটকায় তা স্থায়ী নয়, ফলে গ্যাসীয়করণের স্তরে এসে তার পুনর্নিঃসরণ ঘটতে পারে। আসলে মার্কারি দূর করার প্রযুক্তি বলতে বোঝায় পিএসি (পাওডারড অ্যাক্টিভেটেড কার্বন) ইনজেকশন, যার কথা প্রশ্নে আসলে জিজ্ঞেস করা হয়েছে। কিন্তু এখানেও চাতুরির আশ্রয় নিয়ে তা এড়িয়ে ছাই শুকনা অবস্থায় সংগ্রহকে সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে। আসলে এ পদ্ধতিতে মার্কারি নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি কমিশন রিপোর্ট বলছে, মার্কারি দূষণ সরানোর প্রযুক্তিতে প্রতি কেজি মার্কারি সরানোর খরচ ৭ লাখ ৬১ হাজার ডলার। রামপালে এ প্রযুক্তির ব্যবহারের কোনো উল্লেখ কোম্পানি করেনি এবং এ প্রকল্পে দূষণ নিয়ন্ত্রণের মোট ব্যয় বরাদ্দের সঙ্গেও এর ব্যবহার সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যদিও এমনকি এ প্রযুক্তি ব্যবহারের পরও ১০ ভাগ মার্কারি থেকে যায়, যা বিপুল দূষণ ঘটাতে সক্ষম।

বৈশ্বিকভাবে মার্কারি দূষণের সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। মানুষ সব মিলিয়ে যা মার্কারি দূষণ করে, তার ৫০ ভাগেরও বেশি আসে কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। মার্কারি নির্গত হওয়ার পর তা নদী-নালা, খাল, হ্রদে ও ভূপৃষ্ঠে ছড়িয়ে যায় এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে ভূগর্ভের পানিতেও তা প্রবেশ করে। সেখান থেকে শৈবাল হয়ে সব ধরনের প্রাণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তা খাদ্যশৃঙ্খলে ঢুকে পড়ে। একেবারে ছোট থেকে বড়। মাছ থেকে পাখি, মাছ খায় এমন স্তন্যপায়ী, সবার খাদ্যশৃঙ্খলেই এটা ঢুকে পড়ে। খাদ্যশৃঙ্খলের যত উপরে সে উঠতে থাকে, মার্কারির ঘনত্বও তত বাড়তে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯টি রাজ্যে মার্কারি দূষণের কারণে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা বা সতর্কতা জারি করতে হয়েছে।

মার্কারি স্নায়বিক ব্যবস্থার গঠনের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর বলে এটা বিশেষভাবে ভ্রূণ, সদ্যোজাত ও ছোট শিশুদের জন্য মারাত্মক। মার্কারি দূষণের শিকার হলে মস্তিষ্কের ক্ষয়, মানসিক অবসাদ, অন্ধত্ব, বাকশক্তি হারানো, মৃগী রোগ ইত্যাদি হতে পারে। মার্কারির ক্লোরাইড ও মিথাইল মার্কারি ক্যান্সারের কারণ।

বিজ্ঞাপন-৪

কার্বন ক্যাপচার ও স্টোরেজ টেকনোলজি (সিসিএস) ব্যবহার করে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কার্বন সংগ্রহ করে সাগর কিংবা মাটির নিচে নিরাপদে রেখে দেয়া সম্ভব।

বাস্তবতা

সিসিএস পূর্ণভাবে কার্বন নির্গমন দূর করতে পারে না। এটা কমিয়ে ১১০ g/kwh পর্যন্ত নিয়ে আসতে পারে মাত্র। সেটাও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার যে লক্ষ্যমাত্রা, তা পূরণ করতে সক্ষম নয়। আর সিসিএস যেমন কার্বন নিঃসরণ কমায়, তেমনি কয়লার মোট প্রয়োজনীয়তা বাড়ায়। ফলে প্রকৃত নিঃসরণ উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি হয়। এনার্জি জাস্টিস নেটওয়ার্কের হিসাবমতে, এটা কার্বন কমালেও সালফার অক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইডের মাত্রা ৪০ ভাগ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। নতুন প্রযুক্তি হওয়ায় এর প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলমান। ২০১৫ সালের শেষে একটি ও বর্তমানে আরেকটি মিলিয়ে এখন (জুলাই ২০১৬-এর রিপোর্ট অনুসারে) মাত্র দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে এ প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। এ প্রযুক্তির ফলে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর খরচ ৪৭ ভাগ বেড়ে গেছে। কয়লা ব্যবহারের পক্ষে প্রধান যে যুক্তি দেয়া হয়— কয়লা সস্তা, তা আর মোটেই সত্য থাকে না। বরং নবায়নযোগ্য জ্বালানির চেয়েও ব্যয়বহুল হয়ে যায় তার চেয়ে বহুগুণ বেশি দূষণ করেও।

আমাদের আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, নতুন প্রযুক্তি হয়তো কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রের দূষণ খানিকটা কমায় কিন্তু তার পরও তা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় দূষণ করে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আর যেসব প্রযুক্তি তাত্পর্যপূর্ণ মাত্রায় দূষণ কমাতে সক্ষম, সেগুলোর বেশির ভাগই রামপাল প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে না। আর সেগুলোর সব ব্যবহার করতে গেলে অর্থনৈতিকভাবে এ প্রকল্প পুরোপুরিই অর্থহীন। সেক্ষেত্রে সুন্দরবনের মতো প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এবং একই সঙ্গে অতিজরুরি স্থানে এ ধরনের প্রকল্পের আসলে যৌক্তিকতা কী? হ্যাঁ, আমাদের বিদ্যুতের দরকার আছে। কিন্তু বিদ্যুত্ প্রকল্প আমরা এখন বা ভবিষ্যতে অনেক করতে পারব। কিন্তু সুন্দরবন কোনোভাবেই নয়। তার একটা অংশও নয়। তাই তার সামান্যতম ক্ষতি করার অধিকারও আমাদের থাকতে পারে না, কোনো যুক্তিতেই নয়।

[লেখাটি বণিক বার্তায় ১৬ ও ১৭ আগস্ট ২০১৬ তারিখে দুই পর্বে প্রকাশিত হয়]