Thursday, October 24th, 2013

জাতীয় সংসদে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তথ্যভিত্তিক নয়

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির পক্ষে আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছেন, সম্প্রতি জাতীয় পার্টির একজন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্বন্ধে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন ও এর সমর্থনে যে যুক্তি দিয়েছেন তা তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ইতিপূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন এবং যথারীতি পরবর্তীতে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির বিভিন্ন সময়ে সংবাদ সম্মেলন ও জনসভায় যুক্তি দিয়ে আমরা প্রতিবাদ করেছি। প্রধানমন্ত্রী যুক্তি দিয়েছেন যে বহুদিন ধরে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু আছে কিন্তু সেখানে পরিবেশের কোন ক্ষতি হয়নি।

আমাদের বক্তব্য এবং যুক্তি এই যে, বড়পুকুরিয়ায় ২০ বছর ধরে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে তা গড়ে ৮০ মেগাওয়াট এর বেশি নয়। যদিও উৎপাদন ক্ষমতা (২x১২৫) ২৫০ মেগাওয়াট। যাই হোক বড়পুকুরিয়ায় ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষতি প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৩২০ মেগাওয়াট এর ক্ষতি অবশ্যই এক স্কেলের নয়। বড়পুকুরিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন রামপালের প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সোয়া ৬% বা ১৬ ভাগের ১ ভাগ। এ কথা সবারই জানা যে ক্ষতির মাত্রা স্কেলের উপর নির্ভর করে এমনকি ক্ষতি আনুপাতিকের তুলনায় বহুগুনে হতে পারে। এমনকি সহনশীলতার সীমা লঙ্ঘন করতে পারে। কয়লা পরিবহন ও দহনকালে যে বিষক্রিয়া হয় তার মধ্যে পারদ, সীসা ও অন্যান্য ক্ষতিকর খনিজ পদার্থ থাকে। এগুলো পরিবেশের বিষ। সাপের বিষ বা গুটি বসন্তের যে বিষ তা সীমা লঙ্ঘন করলে মৃত্যু ঘটতে পারে। কিন্তু সীমাধীন থাকলে ক্ষতির পরিমান সহনশীল হতে পারে। যার জন্য অল্প মাত্রায় বিষ ভ্যাকসিন বা ইমমিডনিটিদায়ী হতে পারে।

অতএব বড়পুকুরিয়ায় যে সামান্য ক্ষতি হয়েছে তা দিয়ে বিরাট আকারের রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দরুন ক্ষতি বিশেষ করে সুন্দরবনের মত পরিবেশ স্পর্শকাতর স্থানে যে ক্ষতি হবে তা আনুপাতিক হারে যাচাই করা যায় না।

বলা আবশ্যক যে, বড়পুকুরিয়াতে সামান্য স্কেলে যে ক্ষতি হয়েছে তা সামান্য হলেও মানুষের ব্যাপক দুর্দশার কারন হয়েছে। স্বচক্ষের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি যে সেখানে কয়লার গুড়ো পানিতে মিশে শস্যের ক্ষতি করেছে এবং সামান্য পানির  চাহিদা মেটাতে ভূগর্ভস্থ পানি শূন্যতাও হয়েছে দুষিতও হয়েছে।

অতএব প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও যুক্তি আদৌ তথ্য ভিত্তিক নয়, গ্রহণযোগ্যও নয়। তাই প্রধানমন্ত্রী রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবেশের তেমন কোন ক্ষতি হবে না বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় কমিটি তা প্রত্যাখ্যান করছে।