Wednesday, January 30th, 2013

রামপালে জাতীয় কমিটির সমাবেশে পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে এবং এশিয়া এনার্জির বহিস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ

রামপালে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি’র সমাবেশে পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে ৩০ জানুয়ারি বুধবার বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় কমিটির উদ্যোগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ থেকে গণধিকৃত এশিয়া এনার্জির বহিস্কার দাবি করেন।

জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ও নজরুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাগীব আহসান মুন্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, ওয়ার্কার্স পার্টির (পুনর্গঠিত) নেতা অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, সিপিবি নেতা খান আসাদুজ্জামান মাসুম প্রমুখ।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ভারতের কোম্পানির স্বার্থে রামপাল বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট নিয়ে যে চুক্তি করা হয়েছে তা জাতীয় স্বার্থবিরোধী ও অসম। ভারতের এই কোম্পানির মুনাফার বলি হবে সুন্দরবন ও বাংলাদেশের মানুষ। তিনি এ অসম জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তির বিরুদ্ধে সারাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

সমাবেশে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের নামে দেশি-বিদেশি দুর্বৃত্ত গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে সরকার নতুন নতুন বিপদ তৈরি করছে। রামপাল বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট সেরকমই একটি নতুন বিপদ। তিনি ফুলবাড়ীর জনগণের প্রতিরোধের উল্লেখ করে বলেন, ফুলবাড়ীর জনগণ আবারো দেখিয়েছে সন্ত্রাস-দুর্নীতি করে দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেয়া জনগণ মেনে নেবে না।

তিনি আরো বলেন, সরকার জনশত্রুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এশিয়া এনার্জির হাতে দেশের কয়লা সম্পদ তুলে দিতে ঢাকায় দালাল তৈরির মেশিন বসানো হয়েছে। সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে মন্ত্রী-এমপি-কনসালটেন্ট ও কিছু সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা এশিয়া এনার্জির পক্ষে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানুয়ারি মাসের মধ্যে এসব দালালদের অবস্থান পরিবর্তনের আহ্বান জানান। না হয় ফেব্রুয়ারির প্রধম সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব দালালদের তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

এসময় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আগামী ৯-১১ মার্চ খুলনা-রামপাল লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

সমাবেশে অবিলম্বে এশিয়া এনার্জিকে বাংলাদেশ থেকে বহিস্কারের দাবি জানিয়ে এই কোম্পানির অপতৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করায় ফুলবাড়ী-বিরামপুর-পার্বতীপুরের জনগণকে অভিনন্দন জানানো হয়।

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।