Monday, November 5th, 2012

ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন ও সুন্দরবন ধ্বংস প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি : সরকার দেশের সর্বনাশ করে বিদেশি কোম্পানি ও লুটেরাদের স্বার্থরক্ষায় মরিয়া হয়ে ওঠেছে

গত ৪ নভেম্বর ২০১২ তারিখ জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র কার্যালয়ে কমিটির এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, নুর মোহাম্মদ, প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, বিমল বিশ্বাস, রুহিন হোসেন প্রিন্স, বজলুর রশিদ ফিরোজ, জোনায়েদ সাকী, ড. আখতারুজ্জামান, রাগীব আহ্সান মুন্না, এড. আবদুস সালাম, নজরুল ইসলাম, আজিজুর রহমান, জাহেদুল হক মিলু, আবু তাহের, মাসুদ খান, সুবল সরকার প্রমূখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ফুলবাড়ীতে এশিয়া এনার্জির পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্কুলারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলা হয় এশিয়া এনার্জি নামে অনভিজ্ঞ, জালিয়াত ও খুনি কোম্পানি বহিষ্কার এবং উন্মুক্ত খনি নিষিদ্ধসহ ৬ দফা ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে জনগণের কাছে বর্তমান প্রধাণমন্ত্রী অঙ্গীকারাবদ্ধ। সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, দেশের সর্বনাশ করে সরকার এখন এশিয়া এনার্জির স্বার্থরক্ষায় মরিয়া হয়ে ওঠেছে। একদিকে কোম্পানির প্রচারকদের দ্বারা পরিচালিত তথাকথিত ‘বিশেষজ্ঞ কমিটি’র প্রতারণার জাল, অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্কুলার। মনে হয়, সরকার এশিয়া এনার্জির লাঠিয়াল বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ন হতে চায়। জনগণ এই সর্বনাশা অপতৎপরতা প্রতিরোধ করবেই। সভায় ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন ও লন্ডনে বাংলাদেশের কয়লা দেখিয়ে এশিয়া এনার্জির প্রতারণামূলক শেয়ার ব্যবসা বন্ধ করবার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে আগামী ৮ নভেম্বর সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রতিরোধ কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় অন্য এক প্রস্তাবে পরিবেশগত সমীক্ষার ন্যুনতম শর্ত ভঙ্গ করে, জোরপূর্বক মানুষ উচ্ছেদ করে, সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের সর্বনাশ করে ভারতের কোম্পানিকে সুবিধা দিতে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে সরকারি তৎপরতার নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, জনস্বার্থে দেশের প্রয়োজনে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পরিবেশগত সমীক্ষা করে নিরাপদ স্থানে প্লান্ট নির্মাণ করতে হবে। সুন্দরবন ধ্বংস করে ভারতীয় কোম্পানির স্বার্থরক্ষার আয়োজন জনগণ কোনভাবেই মেনে নেবে না। এজন্য সভায় ঐক্যবদ্ধ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।