Monday, October 1st, 2012

ঘেরাও কর্মসূচীতে হামলার প্রতিবাদে জাতীয় কমিটির বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

“জ্বালানি মন্ত্রণালয় জনগণের নয়, বহুজাতিক কোম্পানী ও দেশী-বিদেশী লুটেরাদের প্রতিনিধিত্ব করে”

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশী হামলা, টিয়ারশেল নিক্ষেপ, অর্ধশত নেতা-কর্মীদের আহত করার প্রতিবাদে জাতীয় কমিটির আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, হামলা চালিয়ে দেশী-বিদেশী লুটেরা, রেন্টাল-কুইক রেন্টালের মালিকদের মন জয় করা যাবে, জনগণের মন জয় করা যাবে না। বিদ্যুতের দাম কমানো, লোডশেডিং বন্ধ ও নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ না করা হলে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এ দাবি আদায় করা হবে।

আজ ১ অক্টোবর ২০১২ বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)’র সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পাটি (সিপিবি)’র কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাগীব আহসান মুন্না, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাইফুল হক, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির  মোশরেফা মিশু, গণসংহতি আন্দোলনের অ্যাড. আব্দুস সালাম, কমিউনিস্ট লীগের নজরুল ইসলাম, সাম্যবাদী দলের মোশাহিদ আহম্মেদ, জাতীয় গণ-ফ্রন্টের আবু তাহের, বাসদের মহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির শামসুল আলম প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবন্দ বলেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয় জনগণের নয়, বহুজাতিক কোম্পানী ও দেশী-বিদেশী লুটেরাদের প্রতিনিধিত্ব করে। তাইতো দেশী-বিদেশী লুটপাটজনিত লোকশান পুষিয়ে নিতে বিদ্যুতের উপর্যুপরী ও অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয় কমিটির নেতৃত্বে শত শত মানুষের শান্তিপূর্ণ মিছিল গতকাল প্রেসক্লাব থেকে বের হয়ে পুরানা পল্টন মোড় হয়ে সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দিয়ে ও একাধিক টিয়ারশেল ছোড়ে এবং বিনা উস্কানিতে লাঠিচার্জ করে বহু নেতাকর্মীকে আহত করে। আহতদের মধ্যে সরাসরি টিয়ারশেল লেগে জাতীয় কমিটির কর্মী, সিপিবি’র আরাফাতুল কবীর রিজভী’র দাত-চোয়াল-নাক ভেঙ্গে যায়। এছাড়া আরো কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়ে এখনো চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। সরকারের বিভিন্ন গণবিরোধী কার্যক্রমে ইতিমধ্যে অতিষ্ঠ জনগণের উপর বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির দূর্ভোগ চাপানোর বিরুদ্ধে জনগণের পক্ষে সংগঠিত ন্যায্য প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের এই ন্যক্কারজনক হামলার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নাই। আমরা বলতে চাই হামলা চালিয়ে জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলন থেকে আমাদের পিছু হঠানো যাবে না।

নেতৃবৃন্দ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ৬ বার এই সরকারের আমলে বিদ্যুৎ-এর দাম বাড়ানো হয়েছে অথচ রাষ্ট্রীয় খাতে বৃহৎ বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণ হয়নি। মাত্র ১ হাজার কোটি টাকা খরচ করে বন্ধ রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ প্লান্ট মেরামত-নবায়ন স¤প্রসারণ করলে ১৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেত। সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিলে পর্যাপ্ত গ্যাস উত্তোলনও করা যেত। তা না করে হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্চা দিয়ে রেন্টাল-কুইক রেন্টাল এর মাধ্যমে মাত্র ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে-তা আবার নিয়মিত নয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, ৩৪ জন ব্যবসায়ীকে সুযোগ দিতে ১৬ কোটি মানুষের ওপর বার বার দাম বৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে জাতীয় কমিটির প্রস্তাবিত স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিদ্যুতের এই বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত ঢাকাসহ সারা দেশে বিভিন্ন জেলায় জেলায় ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে ও অবিলম্বে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রত্যাহার না করলে এবং রেন্টাল কুইক-রেন্টাল বন্ধ ও বাতিল না করলে অবস্থান, অবরোধ, হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি নিতে আমরা বাধ্য হব।
সমাবেশ থেকে হামলার সাথে জড়িতদের পুলিশ কর্মকর্তা ও এদের নেপথ্যের নায়কদের বিচার দাবি করা হয়।

সমাবেশে শেষে বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদিক্ষণ করে।