Saturday, October 6th, 2018

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং প্রাণ প্রকৃতি বিনাশী প্রকল্প বন্ধের দাবিসহ জাতীয় কমিটির বক্তব্য

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
শুভেচ্ছা নেবেন।
দেশে সাধারণ নির্বাচন আসন্ন। আমরা আশা করি দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, দেশের মানুষ প্রকৃত জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে পারবে, জনস্বার্থ কেন্দ্রে রেখে প্রকৃত উন্নয়ন পথ গ্রহণ করবার মতো রাজনৈতিক শক্তির বিকাশ ঘটবে। এরজন্য প্রয়োজন জনস্বার্থের বিষয়গুলো রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসা, উন্নয়ন দর্শনকে নতুন ভাবে হাজির করা। নির্বাচনের প্রাক্কালে, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বর্তমান সরকার ও সকল রাজনৈতিক দলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আমরা আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলন আহবান করেছি।

সুন্দরবন বিনাশী সকল প্রকল্প
গত ৮ বছরে সুন্দরবন বিনাশী রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প কীভাবে বাংলাদেশের জন্য ভয়ংকররকম সর্বনাশা তার অনেক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ আমরা সরকারের কাছে হাজির করেছি। বাংলাদেশের জন্য, দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের কোটি কোটি মানুষের জন্য, সুন্দরবন একটি জীবন মরণ প্রশ্ন। সবাই জানেন যে, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন পরিবেশগত দিক থেকে, প্রাণবৈচিত্রের দিক থেকে অতুলনীয়, সেজন্য এটি ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষিত। শুধুু তাই নয়, এই বন বাংলাদেশের জন্য অসাধারণ একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা প্রাচীর হিসেবে কাজ করে। উপকূলের কয়েক কোটি মানুষের জীবন জীবিকা সম্পদ সুন্দরবনের অস্তিত্বের ওপর নির্ভরশীল। প্রাকৃতিক ভাবে পাওয়া এরকম অতুলনীয় সম্পদ হেলায়, লোভে, দায়িত্বহীনতা দিয়ে ধ্বংস করা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।

শুধু রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়, এই কেন্দ্রের কারণে প্রলুব্ধ হয়ে দেশের বনগ্রাসী ভূমিগ্রাসী কতিপয় গোষ্ঠী তিন শতাধিক বাণিজ্যিক প্রকল্প নিয়ে সুন্দরবন ঘিরে ফেলেছে। এভাবে সুন্দরবনের পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের মানুষ, প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দেশি বিদেশি বিশেষজ্ঞরা শক্ত মত দিয়েছেন। রামপাল প্রকল্পসহ সুন্দরবন বিনাশী সকল তৎপরতা বন্ধের দাবিতে গত ৮ বছর ধরে আমরা গবেষণা, প্রকাশনা, আলোচনা, মিছিল, গান, নাটক, সমাবেশ, হরতাল, মহাসমাবেশ, উপক’লীয় সমাবেশ, লংমার্চ, বৈশি^ক প্রতিবাদ, বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছি।

কিন্তু গত কয়েক বছরে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, উন্মুক্ত কয়লা খনি, এলএনজি এবং এলপিজি’র লবিস্ট, কোম্পানী স্বার্থে কাজ করে যাওয়া ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর দৌরাত্ন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মন্ত্রণালয় এখন তাদেরই দখলে। সুন্দরবন ধ্বংসকারী রামপাল কয়লা ভিত্তিক প্রকল্প তাই এখনও বাতিল হয় নি, উপরন্তু কোন প্রকার পরিবেশ সমীক্ষা না করে দেশের বিদ্যমান পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে উপকূল রক্ষাকারী বন বিনাশ করে মহেশখালি, বরগুনা ও পটুয়াখালিতেও কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সুন্দরবনের ঘাড়ের ওপর বসানো হচ্ছে এলএনজি প্লান্ট।

আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সুন্দরবন বিনাশী সকল বাণিজ্যিক তৎপরতা বন্ধ করুন। সকল রাজনৈতিক দলের কাছে আহবান জানাই সুন্দরবন রক্ষায় রামপালসহ বিভিন্ন বিষাক্ত প্রকল্প বন্ধের দাবিকে আপনাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারে অন্তর্ভুক্ত করুন।

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প
রূপপুরে বাংলাদেশের সবচাইতে ব্যয়বহুল পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প করা হচ্ছে, একে অভিহিত করা হচ্ছে ‘জাতীয় গৌরব’ হিসেবে। পারমাণবিক বিদ্যুতের ঝুঁকি ও বিপদের যে কোনো সীমা পরিসীমা নেই তা সর্বজনবিদিত। বাংলাদেশের মতো ঘন জনবসতি, পানি ও আবাদী জমির উপর বিপুল ভাবে নির্ভরশীল একটি দেশে এই ঝুঁকি বিশ্বের যে কোনো দেশের চাইতে বেশি।
তারপরও এই প্রকল্পের কোনো পরিবেশ সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়নি, প্রত্যক্ষ ঝুঁকির মধ্যে বসবাসরত প্রায় ১ কোটি মানুষের কাছে এর সমস্যা, বিপদ ও ঝুঁকির কথা গোপন রাখা হয়েছে, বদলে একটানা উন্নয়নের মিথ্যাপ্রচার চালানো হচ্ছে। এলাকায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান, সংবাদ সম্মেলন, সভা-সমিতি করার ব্যাপারে জারি করা হয়েছে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা। স্বাধীন মতামত প্রকাশের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞরা যেসব উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেগুলোর কোনো সদুত্তর দেয়া হয়নি। পারমাণবিক বর্জ্যসহ বিভিন্ন ঝুঁকির বিষয় অনিষ্পন্ন রাখা হয়েছে।

এই ২৪০০ মেগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ব্যয় ৩ বছরের ব্যবধানে ৩২ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর জন্য বিপুল ঋণের ভার বহন করতে হবে বাংলাদেশকে। আগামী কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকা খরচ এবং সুদ সমেত ঋণ পরিশোধের খরচ মিলিয়ে এই কেন্দ্র হতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ হবে সবচেয়ে ব্যয়বহুল। বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে ডিকমিশনিং এর জন্যও আছে বিশাল খরচ, সেই সাথে আছে ক্রমাগত শুকিয়ে যেতে থাকা পাশ্ববর্তী পদ্মা নদীর পানি ব্যবস্থাপনাগত ঝুঁকি। অর্থাৎ যে কোনো সময়ে চেরনোবিল বা ফুকুশিমার মত ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকির প্রশ্ন বাদ দিলেও শুধুমাত্র অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত দিক বিবেচনায় নিলেও এই বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক বোঝা হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে।

আমরা রূপপুর প্রকল্পের ব্যয়, পরিবেশ সমীক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের শে^তপত্র দাবি করি। এসব বিষয় সন্তোষজনকভাবে নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানাই। সকল রাজনৈতিক দলকে এ বিষয়ে সোচ্চার হবার আহবান জানাই।

সমুদ্র বন্দর
সরকার বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ভারতকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু এ বিষয়ে জনগণকে বিস্তারিত কিছুই জানানো হয়নি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের চাপ নিতে ব্যতিব্যস্ত এই বন্দরগুলো ভারতকে কী শর্তে ও কী সুবিধার বিনিময়ে ব্যবহার করতে দেয়া হবে, ব্যবস্থাপনা অগ্রাধিকার কী হবে সে বিষয়ে সবকিছু অস্বচ্ছ রেখে নেয়া এসব উদ্যোগকে আমরা বিপজ্জনক মনে করি। বন্দর, নদী, সড়ক, রেল ব্যবহারে আন্তর্জাতিক চুক্তি অবশ্যই স্বচ্ছ ও জাতীয় স্বার্থের অনুক’ল যাতে হয় সে বিষয়ে নিশ্চয়তার দাবি জানাই এবং সবাইকে সোচ্চার হবার আহবান জানাই।

দুর্নীতিবাজদের জন্য দায়মুক্তি
দুটো দায়মুক্তি আইন বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে রাহুর মতো চেপে আছে। এর একটি ২০১০ সালে প্রথমে ৪ বছরের জন্য বহাল করা হয়, এরপর তার মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে গৃহিত সকল প্রকল্প দরপত্র ছাড়া, বিদ্যমান আইনী বাধ্যবাধকতার বাইরে গিয়ে বাস্তবায়ন করার এখতিয়ার নেয়া হয়েছে। এ সম্পর্কে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক আদালতের দারস্থ হতে পারবে না। এই দুর্নীতি অনিয়মের কারণেই একের পর এক অসম্ভব ব্যয়বহুল ক্ষতিকর প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

আরেকটি দায়মুক্তি আইন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য জারি করা হয়েছে ২০১৫ সালে। এই আইন অনুযায়ী এই প্রকল্পে যদি কোন দুর্ঘটনা হয় তার দায় কোম্পানি বা কোনো কর্মকর্তা গ্রহণ করবেনা।
স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, জনস্বার্থ নিশ্চিত করে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করলে দায়মুক্তি আইনের কোন প্রয়োজন হয় না। সকল তথ্য ও প্রমাণাদি থেকে এটা স্পষ্ট যে, এই ধরনের দায়মুক্তি আইন প্রকৃতপক্ষে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের নামে দুর্নীতি, অনিয়ম ও টাকা পাচারের মত অপরাধ থেকে দায়মুক্তি পাবার জন্যই করা হয়েছে।

জ¦ালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি তাই মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণ, চোরাই টাকার বিস্ময়কর প্রবৃদ্ধি এ খাতের সঙ্গে নানাভাবে সম্পর্কিত। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি, তিতাস গ্যাস, মাগুড়ছড়া-টেংরাটিলা ক্ষতিপূরণ অনাদায়ী রাখা, রেন্টাল কুইক রেন্টাল, নাইকো নিয়ে দুর্নীতি এর কিছু কিছু আভাস দেয়। জাতীয় সক্ষমতা বিপর্যস্ত করে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের পথ কন্টকিত করে এলপিজি ও এলএনজির ব্যবসা তৈরি এই দুর্নীতিমূলক তৎপরতারই অংশ বলে আমরা মনে করি। দুর্নীতি ও ভুলনীতির কারণেই বারবার গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পথ গ্রহণ করা হচ্ছে। সেজন্য এই খাত নিয়ে বিশেষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের যথাযথ বিকাশের জন্য অপরিহার্য। সরকার এবিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ না করলে জাতীয় কমিটি নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে জ্বালানি অপরাধীদের বিরুদ্ধে গণআদালত গঠন করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

নির্বাচনের তফসিলের আগে আমরা এসব দায়মুক্তি আইন বাতিলের দাবি জানাই এবং সকল রাজনৈতিক দলকে তাদের ইশতেহারে দায়মুক্তি আইন বাতিল করে সর্বজনের সম্পদ ব্যবহারে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার দাবি যুক্ত করার আহবান জানাই।

ফুলবাড়ী ও বড়পুকুরিয়া
ফুলবাড়ী গণঅভ্যূত্থানের মুখে ২০০৬ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন ৪ দলীয় জোট সরকার বাধ্য হয়েছিল জনগণের সাথে এশিয়া এনার্জি (জিসিএম) বহিষ্কার ও উন্মুক্ত খনি নিষিদ্ধসহ ‘ফুলবাড়ী চুক্তি’ স্বাক্ষর করতে। সেই চুক্তির প্রতি পূর্ণ অঙ্গীকার প্রকাশ করেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অথছ তিনি প্রায় ১০ বছর ক্ষমতায় থাকলেও ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী উন্মুক্ত খনি নিষিদ্ধ করবার কথা থাকলেও আবারও বড়পুকুরিয়া ধরে উন্মুক্ত খনির ষড়যন্ত্র চলছে। আর পুরো এলাকায় লুটেরাদের প্রবেশ সম্ভব করতে ফুলবাড়ী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে।

আমাদের দাবি নির্বাচনের আগেই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, উন্মুক্ত খনির চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে এবং অবিলম্বে ফুলবাড়ী চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের উৎকৃষ্ট ও নিরাপদ পথ
বাংলাদেশের যৌক্তিক বিদ্যুৎ চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, এই চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য। দেশের সকল মানুষ, শিল্প কারখানা, শিক্ষা চিকিৎসা কেন্দ্র যাতে ২৪ ঘন্টা সুলভে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ পায় তার জন্য আমরা চাই প্রয়োজনীয় নীতিমালা গ্রহণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ। সরকার বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের কথা বলেই পিএসএমপি ২০১৬-র অধীনে একের পর এক ব্যয়বহুল, পরিবেশ বিধ্বংসী, ঋণনির্ভর, বিদেশি কোম্পানি নির্ভর নানা প্রকল্প গ্রহণ করছে। কিন্তু জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের জন্য দেশ ধ্বংস অপরিহার্য নয়, এরজন্য অনেক নিরাপদ পরিবেশবান্ধব ভালো পথ আছে। এ বিষয়ে কয়েক বছরের গবেষণার মধ্য দিয়ে জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে তার একটি খসড়া প্রস্তাবনা আমরা হাজির করেছি গতবছরের জুলাই মাসে। দেশের সম্পদ ও সম্ভাবনা, ভারত-চীনসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা, বৈশ্বিক পর্যায়ে বিভিন্ন গবেষণা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি পর্যালোচনা করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের জন্য রামপাল, রূপপুর, বাঁশখালীর মতো কোনো সর্বনাশা পথের দরকার নেই, দরকার নেই ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি কিংবা ঋণ নির্ভরতা। বরং এর জন্য দরকার পিএসএমপি ২০১৬ বাতিল করে জাতীয় কমিটি প্রস্তাবিত বিকল্প খসড়া মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী জাতীয় সক্ষমতা, জাতীয় স্বার্থ, প্রাণ প্রকৃতি পরিবেশ এবং জনগণের মালিকানার ভিত্তিতে অগ্রসর হওয়া।

তাই আমাদের দাবি, রামপাল- রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সহ পিএসএমপি-২০১৬’তে বর্ণিত ব্যয়বহুল, আমদানি ও ঋণনির্ভর, প্রাণপ্রকৃতি বিনাশী বিদ্যুৎকেন্দ্র মুখি পরিকল্পনা বাতিল করে সুলভ, টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জাতীয় কমিটির বিকল্প খসড়া প্রস্তাবনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচনী ইশতেহার, অঙ্গীকার, প্রতিশ্রুতি ও বিতর্কের মধ্যে এই দাবি অন্তর্ভুক্ত করবার জন্য সকল দলের কাছে আমরা আহবান জানাই।

এসব দাবিতে অক্টোবর নভেম্বর মাসে জনসংযোগ, প্রচার ও বিভিন্ন অঞ্চলে সভা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় কমিটির শরীক দল ও সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন ভাবে এসব বিষয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করবে। এছাড়া আগামি ১০ নভেম্বর, নূর হোসেন দিবসে, বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ‘সুন্দরবনের জন্য বৈশ্বিক সংহতি’ (Global Solidarity for Sundarban) কর্মসূচি পালন করা হবে। দেশের সকল ব্যক্তি/সংগঠন, প্রবাসী সবাইকে এই দিনে নিজ নিজ ব্যানারে কর্মসূুচি গ্রহণের আহবান জানাচ্ছি।

ধন্যবাদ।
তেল গ্যাস খনিজসম্পদ বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি
মুক্তিভবন, ৬ অক্টোবর ২০১৮