Tuesday, June 14th, 2016

মাগুড়ছড়া দিবসে আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ: ‘দূর্নীতি ও ভুলনীতির গ্রাস থেকে জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাত মুক্ত কর’

মাগুড়ছড়া দিবস উপলক্ষে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ মাগুড়ছড়া ও টেংরাটিলা বিস্ফোরণের জন্য দায়ী শেভরণ ও নাইকোর কাছ থেকে প্রাপ্য ৫০ হাজার কোটি টাকা আদায়ের দাবি জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ একই সাথে ‘দুর্নীতি ও ভুলনীতির গ্রাস থেকে জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাতকে মুক্ত করারও’ আহ্বান জানান।

আজ ১৪ জুন ২০১৬ সকাল ১১টায় মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান, অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা, রুহিন হোসেন প্রিন্স, বজলুর রশীদ ফিরোজ, আজিজুর রহমান, কিশোর রায়, ফখরুদ্দিন কবির আতিক, সুবল সরকার, নজরুল ইসলাম, খান আসাদুজ্জামান মাসুম, জুলফিকার আলী প্রমুখ।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ১৯৯৭ সালে ১৪ জুন মাগুড়ছড়ায় বিস্ফোরণে অন্তত: ৫০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এর ক্ষতি হয়েছে, যা দিয়ে বর্তমানের চাহিদা অনুযায়ী দেড় বছরের বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেত। তিনি বলেন, দেশের জাতীয় সম্পদকে ক্রমান্বয়ে ব্যক্তিখাতে ছেড়ে দিয়ে দেশি-বিদেশি লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে, লুটপাট করা হচ্ছে দেশের সম্পদ।

তিনি জাতীয় সম্পদের উপর শতভাগ মালিকানা নিশ্চিত ও জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানান। তিনি সুন্দরবন রক্ষায় নীতিমালা প্রণয়ন, সুন্দরবন বিনাশী রামপাল-ওরিয়ন বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল এবং স্থানীয় পর্যায়ে জোর জুলুম বন্ধের দাবি জানান।

তানজিম উদ্দিন খান বলেন, আমাদের রাষ্ট্র জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে না, রক্ষা করে কোম্পানীর স্বার্থ। তিনি লাউয়াছড়ার উদাহরণ টেনে বলেন, ঐ জায়গায় শেভরণের কর্মকান্ড ছিল বন ও পরিবেশ আইন লংঘন করে। এখন ঐ সব অঞ্চল ইউএসএইড কে তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

মোশাহিদা সুলতানা শেভরণ ও নাইকোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা সচল ও জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশি-বিদেশি লুটেরাদের অগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক সকলকে সোচ্চার হতে হবে।

সভার শুরুতে ফুলবাড়ী আন্দোলনের আহত প্রদীপ কুমার ঘোষ এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর স্মরণে দাড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।