Sunday, September 8th, 2013

সুন্দরবন রক্ষায় ঢাকা-রামপাল লংমার্চ উপলক্ষে জাতীয় কমিটির লিফলেট

বিদ্যুৎ উৎপাদনের বহু বিকল্প আছে, কিন্তু সুন্দরবনের বিকল্প নাই

সুন্দরবনধ্বংসী রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল কর

বিদ্যুৎ সংকটের সমাধানে জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়ন কর

সুন্দরবন রক্ষাসহ জ্বালানি বিদ্যুৎ উৎপাদনে জাতীয় কমিটির ৭ দফা দাবিতে ঢাকা থেকে সুন্দরবন

লংমার্চ

 ২৪-২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩

রামপাল বিদ্যুৎ প্লান্ট কেনো বাতিল করতেই হবে?

  • ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রকল্পটি অস্বচ্ছ ও অসম। ভারত পক্ষের অত্যুচ্চ মুনাফার সৃষ্টিকারী ও বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও আর্থিক সর্বনাশকারী।
  • প্রাকৃতিক রক্ষাবর্ম হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ ও প্রকৃতিকে যে সুন্দরবন রক্ষা করে, অসাধারণ জীববৈচিত্রের আধার হিসেবে যা প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখে সেই সুন্দরবনকে ধ্বংস করবে এই প্রকল্প। (বিশেষজ্ঞদের বিস্তারিত বিশ্লেষণের জন্য জাতীয় কমিটির সর্বশেষ পুস্তিকা দেখুন)।
  • আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বিধিমালা অনুযায়ী অবশ্য করণীয় পরিবেশগত সমীক্ষা করবার আগেই চুক্তি হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে, এলাকার মানুষকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে। কতিপয় ব্যক্তি দখলে নিচ্ছে ভূমি। ক্ষতিপূরণের নামে চলছে ক্ষমতাবানদের লুটপাট।
  • ভারতীয় কোম্পানি (এনটিপিসি) নিজদেশের আইন ভঙ্গ করে বাংলাদেশের সর্বনাশ করতে এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে। তারা শতকরা ১৫ ভাগ ব্যয় বহন করবে কিন্তু কর্তৃত্ব করবে প্রায় শতভাগ। তাদের মুনাফার যোগান দিতে গিয়ে তিনগুণ বা ততোধিক দামে আমাদের বিদ্যুৎ কিনতে হবে।

 

কার লাভ? কার ক্ষতি?
রামপাল প্রকল্পে লাভ হবে ভারত পক্ষের আর তার সাথে দেশি দখলদার ও কমিশনভোগীদের। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষতি চরম মাত্রায় ও সর্বব্যাপী। সুন্দরবন ধ্বংস হওয়া ছাড়াও প্রত্যক্ষ আর্থিক ক্ষতি হবে বাংলাদেশের। তুলনামূলক ভাবে বিদ্যুতের অতিরিক্ত দামের জন্য আর্থিক ক্ষতি হবে ১ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকা। এরসাথে প্রাকৃতিক দুর্যোগ জনিত সম্ভাব্য ক্ষতি যোগ করলে মোট ক্ষতির পরিমান দাঁড়াবে ৫ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকা। তাছাড়া সুন্দরবন ধ্বংস, ভয়াবহ পরিবেশ দুষণের মাধ্যমে খুলনা শহরসহ এই বিভাগের মনুষ্য ও বন্য প্রাণীর জীবন-জীবিকা-খাদ্য ইত্যাদির ভয়াবহ ক্ষতি টাকার অংকে নিরুপন করা দু:সাধ্য।

অতীতে সম্পাদিত একটি তুলনীয় সর্বনাশা প্রকল্প
বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে জাতীয় স্বার্থ সর্বনাশকারী অতীতের একটি তুলনীয় প্রকল্প হ’ল ১৯৬০ এর কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প। সামান্য পরিমান বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে দেশের একটি অংশে ভয়াবহ জাতিগত নিপীড়ন, বন, পাহাড় ধ্বংস, সরকারি বাহিনীর লুটপাট, আর্থিক লাভের তুলনায় সহস্রগুণ জাতীয় ক্ষতির একটি প্রকৃষ্ট উদাহরন এই চালু প্রকল্প।

ভারতের আইন ভঙ্গ করছে ভারত সরকার
কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র  মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটায় বলে সাধারণত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংরক্ষিত বনভূমি ও বসতির ১৫ থেকে ২৫ কিমি এর মধ্যে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়না। ভারতীয় কোম্পানী বাংলাদেশে সুন্দরবনের ৯-১৪ কিমির মধ্যে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করতে যাচ্ছে, অথচ ভারতেরই ‘ওয়াইল্ড লাইফ প্রটেকশান অ্যাক্ট ১৯৭২’ অনুযায়ী, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৫ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে এবং ভারতের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় প্রণীত পরিবেশ সমীক্ষা বা ইআইএ গাইড লাইন ম্যানুয়াল ২০১০ অনুযায়ী, কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৫ কিমি এর মধ্যে কোন বাঘ/হাতি সংরক্ষণ অঞ্চল, জৈব বৈচিত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল,  জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য কিংবা অন্যকোন সংরক্ষিত বনাঞ্চল থাকা চলবে না। ভারতীয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ‘তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত গাইডলাইন, ১৯৮৭‘ অনুসারেও কোন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ২৫ কিমি এর মধ্যে কোন কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ স্থাপন করা যায় না। এজন্য গত কয়েকবছরে ভারতের কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ ও তামিলনাড়–তে তিনটি বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল হয়েছে। অর্থাৎ ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসিকে বাংলাদেশে সুন্দরবনের যত কাছে পরিবেশ ধ্বংস কারী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে দেয়া হচ্ছে, তার নিজ দেশ ভারতে হলে সেখানকার আইন অনুযায়ী তা তারা করতে পারতো না!

এগুলো বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের পথ নয়
বিদ্যূৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনের নামে, দেশী বিদেশী লুটেরা গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে, সরকার বারবার দেশের জন্য সর্বনাশা পথ গ্রহণ করছে। সুন্দরবন-কৃষিজমি-শহর ধবংসী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ফুলবাড়ি-বড়পুকুরিয়ার উন্মুক্ত খনির চক্রান্ত অব্যাহত রাখা, বঙ্গোপাসগরের গ্যাস ব্ল¬ক একতরফা সুবিধা দিয়ে বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা, কুইক রেন্টালের নামে ১৪ থেকে ১৭ টাকা কিংবা তারও বেশি দরে বিদ্যুৎ ক্রয়, কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি না করে, প্রয়োজনীয় সমীক্ষা না করে বিদেশি কোম্পানি নির্ভর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্যোগ ইত্যাদি সবকিছুই জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে মুনাফা ও লুটপাটের আয়োজনের অংশ। আমরা বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে যথাযথ পথ গ্রহণে সবসময়ই দাবি করে আসছি, জাতীয় কমিটির ৭ দফা দাবিতে তার সমাধানের পথও দেখিয়েছি।

সুন্দরবন আমাদের বাঁচায়। আসুন এখন সুন্দরবন রক্ষা করে তার ঋণ শোধ করি
সুন্দরবন আছে বলে প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচে। সুন্দরবন মায়ের মতো নিজে সবাইকে আগলে রাখে। সেই সুন্দরবন কতিপয় লুটেরার লোভে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে, এখন রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করে এই মা-কে হত্যা করবার আয়োজন চলছে। মাতৃশবের ওপর শকুনের মতো আরো দখলদার হাজির হচ্ছে, জাহাজভাঙা, শিপইয়ার্ড, ৫ তারা হোটেল…। দখল হচ্ছে জমি। লক্ষ লক্ষ তরুণ ভোট দিয়েছিলেন সুন্দরবনকে, এবারে কোটি মানুষ সুন্দরবন রক্ষায় এগিয়ে আসবেন।

জাতীয় জাগরণে সকলে যুক্ত হই
একমাত্র জাতীয় জাগরণই সুন্দরবনসহ এই দেশ ও দেশের সম্পদকে লুটেরাদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। লংমার্চ এই কাজে মানুষের সাথে যুক্ত করবে মানুষকে। আপনিও এতে নিজেকে যুক্ত করুন, আওয়াজ তুলুন:

সুন্দরবন ধ্বংসকারী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল কর।

জাতীয় সম্পদের উপর শতভাগ মালিকানা নিশ্চিত, উন্মুক্ত খনন ও খনিজসম্পদ রপ্তানী নিষিদ্ধকরণ এবং জাতীয় সক্ষমতার বিকাশসহ জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়ন কর।

লংমার্চ কর্মসূচি:
২৪ সেপ্টেম্বর : যাত্রা শুরু। সকাল ১০টা। প্রেসক্লাব, শাহবাগ, সাভার রানা প্লাজা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ধামরাই। জনসভা: মানিকগঞ্জ শহীদ মিনার।
২৫ সেপ্টেম্বর : গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী সদর। জনসভা: ফরিদপুর।
২৬ সেপ্টেম্বর : মধুখালি, কামারখালি, মাগুড়া, ঝিনাইদহ, কালীগঞ্জ। জনসভা: যশোর।
২৭ সেপ্টেম্বর : ফুলতলা, দৌলতপুর, খালিশপুর। জনসভা: খুলনা।
২৮ সেপ্টেম্বর : বাগেরহাট, রামপাল (গৌরম্ভা বাজার, চুলকাঠি)।
পথে পথে গান, নাটক
সমাপনী জনসভা ও সুন্দরবন ঘোষণা: দীঘরাজ (সুন্দরবন)

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি