Monday, August 26th, 2013

৭তম বার্ষিকীতে ঢাকায় ও ফুলবাড়িতে সমাবেশ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

‘বর্তমান সরকার ফুলবাড়ি চুক্তির বাস্তবায়ন না করে উন্মুক্ত খনির পাঁয়তারা করছে’
আজ ২৬ আগষ্ট ২০১৩ ‘ফুলবাড়ী দিবস’ এর ৭ তম বার্ষিকী। ২০০৬ সালের এই দিনে ফুলবাড়ীতে এশিয়া এনার্জির আবাদী জমি-পানি সম্পদ-জনবসতি ধ্বংস করে শতকরা মাত্র ৬ ভাগ রয়্যালটির বিনিময়ে শতকরা ৮০ ভাগ কয়লা বিদেশে রফতানির প্রকল্পের বিরুদ্ধে লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শান্তিপুর্ন এই সমাবেশে তৎকালীন বিডিআরের গুলিতে তিনজন (আমিন, তরিকুল ও সালেকিন) শহীদ হন। গুলিবিদ্ধসহ আহত হন আরো ২ শতাধিক।
আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় কমিটি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এরপর শহীদ মিনারের পাদদেশে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক এম এম আকাশ, বিশিষ্ট কলামিস্ট, গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, নুর মোহাম্মদ, প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, বিমল বিশ্বাস, হায়দার আকবর খান রনো, সাইফুল হক, শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, রাজেকুজ্জামান রতন, এড. আবদুস সালাম, প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা, অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, নজরুল ইসলাম, খান আসাদুজ্জামান মাসুম, জুলফিকার আলী, মহিন উদ্দীন চৌধুরী লিটন, মোশাহিদ আহমেদ প্রমুখ।
সমাবেশে বলা হয়, বর্তমান সরকার ফুলবাড়ি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন না করে বিএনপি সরকারের পথেই হাটছেন। অথচ ফুলবাড়িতে হত্যাকান্ডের পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ‘ফুলবাড়ি চুক্তি বাস্তবায়ন না করার পরিণাম হবে ভয়াবহ’।
সমাবেশে আরো বলা হয়, ২০০৬ সাল থেকে ২০১২ পর্যন্ত বিভিন্ন সরকার তিনটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেন। সবগুলো কমিটিই এশিয়া এনার্জির (জিসিএম) এই ধ্বংসাতœক প্রকল্পের বিরুদ্ধে মত দিয়েছে। তারপরও এই প্রকল্প এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়নি। এই প্রকল্প বাতিল তথা ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের কয়লা সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের পথ পাওয়া সম্ভব।

ফুলবাড়িতে সমাবেশ
….জাতীয় কমিটির উদ্যোগে ফুলবাড়িতে অনুষ্ঠিত প্রধান কর্মসূচিতে সকালে ফুলবাড়ী শহীদ মিনারে জাতীয় কমিটি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনসমূহ পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এরপর সকাল ১১টায়  নিমতলী মোড়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ফুলবাড়ী উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম জুয়েল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেসে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, রুহিন হোসেন প্রিন্স, বজলুর রশিদ ফিরোজ, রাগিব আহসান মুন্না, জোনায়েদ সাকী, টিপু বিশ্বাস, মোশারফ হোসেন নান্নু, আমিনুল ইসলাম বাবলু, এস এম নুরুজ্জামান, জয়প্রকাশ গুপ্ত, রবীন্দ্র সরেন, রবিউল আলম খোকন, সামছুল আলম, বাবুল বিশ্বাস প্রমুখ।

 

ফুলবাড়ি দিবসে ভোর থেকে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে কালো ব্যাজ বুকে লাগিয়ে শোকর‌্যালি করে ফুলবাড়ি শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনও কর্মসূচি পালন করে। এছাড়া দেশের সকল জেলায় ফুলবাড়ি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে ফুলবাড়ি দিবস পালন করা হয়।