Sunday, August 25th, 2013

ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নসহ ৭ দফা দাবিতে ২৬ আগষ্ট ‘ফুলবাড়ী দিবস’ পালন করুন

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, আগামি ২৬ আগষ্ট ২০১৩ জাতীয় কমিটি দেশব্যাপী ‘ফুলবাড়ী দিবস’ পালন করবে। ২০০৬ সালের এই দিনে ফুলবাড়ীতে এশিয়া এনার্জির আবাদী জমি-পানি সম্পদ-জনবসতি ধ্বংস করে শতকরা মাত্র ৬ ভাগ রয়্যালটির বিনিময়ে শতকরা ৮০ ভাগ কয়লা বিদেশে রফতানির প্রকল্পের বিরুদ্ধে লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শান্তিপুর্ন এই সমাবেশে তৎকালীন বিডিআরের গুলিতে তিনজন (আমিন, তরিকুল ও সালেকিন) শহীদ হন। গুলিবিদ্ধসহ আহত হন আরো ২ শতাধিক।

তারপর ফুলবাড়ী, বিরামপুর, পার্বতীপুরসহ উত্তরবঙ্গজুড়ে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রতিরোধ আরো তীব্র হয়। অবশেষে ৩০ আগষ্ট ২০০৬ তারিখে চারদলীয় জোট সরকার ‘ফুলবাড়ী চুক্তি’ স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়। ২০০৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুলবাড়ীতে এক জনসভায় ফুলবাড়ী চুক্তির প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে ক্ষমতায় গেলে তার পূর্ণ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান সরকারের সাড়ে চার বছর পার হলেও এশিয়া এনার্জি বহিষ্কার, উন্মুক্ত খনি নিষিদ্ধসহ চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। বরং বাংলাদেশের কয়লা দেখিয়ে কোম্পানি লন্ডনে শেয়ার ব্যবসা করছে এবং মুনাফার কিছু অংশ ছিটিয়ে দেশে দুর্নীতিবাজ সন্ত্রাসীদের জনগণের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেবার চেষ্টা করছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, ২০০৬ সাল থেকে ২০১২ পর্যন্ত বিভিন্ন সরকার তিনটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেন। সবগুলো কমিটিই এশিয়া এনার্জির (জিসিএম) এই ধ্বংসাতœক প্রকল্পের বিরুদ্ধে মত দিয়েছে। তারপরও এই প্রকল্প এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়নি। এই প্রকল্প বাতিল তথা ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের কয়লা সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের পথ পাওয়া সম্ভব।

ফুলবাড়ী জনপ্রতিরোধ যে শুধু একটি ভয়ংকর ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করেছে তাই নয়, দুর্নীতি গোপন চুক্তির মাধ্যমে দেশের সম্পদ লুট ও পাচারের ধারাবাহিকতার বিরুদ্ধে জাতীয় প্রতিরোধও তৈরি করেছে। আমরা অবিলম্বে ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নসহ ৭ দফা দাবিতে দেশব্যাপী ফুলবাড়ী দিবস পালন করতে সবার প্রতি আহবান জানাই।