Thursday, August 1st, 2013

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পঃ আলোর ফাঁদে বাংলাদেশ

কথায় আছে, চালাকেরা ঠেকে শিখে আর জ্ঞানীরা শিখে দেখে। আমাদের নীতি-নির্ধারণী মহল যে এখনও চালাক থেকে জ্ঞানী হয়ে উঠতে পারেননি তারই আরও একটি প্রমাণ পাওয়া গেল অতি সম্প্রতি রাশিয়ার সাথে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের সই হয়ে যাওয়া চুক্তির মাধ্যমে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একের পর এক থ্রি-মাইল আইল্যান্ড দূর্ঘটনা, চেরনোবিল দূর্ঘটনা, ফুকুশিমা দূর্ঘটনা ঘটেছে আর নানা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা সংযোজনে এ ধরণের বিদ্যুৎ প্রকল্প হয়ে উঠেছে খরচের শ্বেতহস্তী। এর নিয়ত তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি, সন্ত্রাসী হামলার আশংকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ব্যয়, পারমাণবিক বর্জ্য শত শত বছর ধরে সংরক্ষণ ব্যয় আর দূর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র দেখে যখন অতি আধুনিক রাষ্ট্রগুলোও এ বিদ্যুৎ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ঠিক তখনি রাশিয়ার ব্যবসায়িক কূট-কৌশলের জালে বন্দী হয়ে বাংলাদেশ রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়েছে। পৃথিবীতে সবচেয়ে খরুচে বিদ্যুৎ হচ্ছে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ। নানান পর্যায়ে বিশাল ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে এটিকে প্রচলিত জ্বালানীর সাথে প্রতিযোগীতায় টিকিয়ে রাখা হয়, যেই ভর্তুকির পরিমাণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জনসাধারণের দৃষ্টির আড়ালেই রাখা হয়। কম খরচের কথা বলে যেনতেনভাবে প্রকল্প কাজ শুরু করে দিয়ে ধীরে ধীরে অকল্পনীয় ব্যয়বৃদ্ধির দৃষ্টান্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে অসংখ্য। এমনটি ঘটেছে ব্রাজিলের অ্যংরা-২’ ১৩৫০ মেগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে যেটি নির্মাণ করতে লেগে যায় দীর্ঘ ২৫ টি বছর আর ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। ঠিক একই রকম দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় চীন, ভারত, ফ্রান্স সহ নানা দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নির্মাণ প্রকল্পে। তাই অস্বাভাবিক খরচের এই রূপপুর প্রকল্পের নিয়ত ব্যয় বৃদ্ধির বিশাল চাপে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো বাংলাদেশ সরে আসতে বাধ্য হবে কিন্তু ততদিনে অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত দিক বিবেচনায় আমাদের হয়ে যাবে বিরাট ক্ষতি যার মাশুল গুনতে হতে পারে পরবর্তী কয়েক প্রজন্ম ধরে।

টেবিলঃ বিভিন্ন দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সময়কাল (১৯৯২-২০১২)

দেশ

ইউনিট সংখ্যা

গড় সময় (বছর)

চেক প্রজাতন্ত্র

১৪.৫

স্লোভাকিয়া

১৫.৫

ইউক্রেন

১৫.৭

মেক্সিকো

১৭.৪

রোমানিয়া

১৯.০

রাশিয়া

২০.০

যুক্তরাষ্ট্র

২০.৮

ব্রাজিল

২৪.৫

ইরান

৩৬.৩

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

কেউ কেউ পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রিক প্রযুক্তিকে এতটাই অন্ধভাবে পূজা করেন যে, এ ধরণের বিদ্যুৎ প্রকল্পে শ্বেতহস্তীর ন্যায় বিশাল খরচটা বরাবরই তাদের চোখ এড়িয়ে যায়। প্রচলিত জ্বালানী নির্ভর ১ হাজার মেগাওয়াটের একটি আধুনিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে খরচ হয় মোটামুটিভাবে ৭ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে নানা ধরণের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্বলিত একটি আপাত ঝুকিহীন ১ হাজার মেগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলতে খরচ হয় কম করে হলেও ৩৫ হাজার কোটি টাকা। যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প দূ্র্ঘটনার ঝুকি ছাড়াও নিয়ত ছড়ানো তেজস্ক্রিয়তা আর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জটিলতার কারণে আধুনিক বিশ্বে ‘প্রযুক্তি দানব’ হিসেবে পরিচিত পেয়েছে, যে প্রযুক্তি দানব থেকে কাজাকিস্তান, লিথুনিয়া এমনকি ইতালীর মত আধুনিক রাষ্ট্র মুক্ত হয়ে এসেছে, যে দানবের করায়ত্ত্ব থেকে বেলজিয়াম এবং জার্মানী ২০২৫ সালের মধ্যেই মুক্ত হবার ঘোষণা দিয়েছে সেই ‘প্রযুক্তি দানব’কে কেন এত টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশের জন-জীবন এবং কৃষি ব্যবস্থাকে হুমকিতে ফেলে রূপপুরে গড়ে তোলা হচ্ছে? এর সাম্ভাব্য কারণ দুটিঃ

প্রথমত, কোন প্রকল্পকে যতটা জনবিছিন্ন করে ফেলা যায় লাল ফিতার আড়ালে কমিশন বাণিজ্যের সুযোগ তত বাড়ে। এ কারণেই বাংলাদেশে অমিত সম্ভাবনার নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহার সম্প্রসারণে তেমন কোন উদ্যোগ চোখে না পড়লেও বিশাল খরচের রূপপুর প্রকল্প নিয়ে লাফ-ঝাপের কমতি নেই। যদি শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভয়ঙ্কর বাস্তব চিত্র জনসম্মুখে চলে আসে এবং জনদাবীর মুখে নীতি-নির্ধারণী মহল এই প্রকল্প থেকে সরে আসতে বাধ্যও হয় তবুও এ সময়টুকুর মাঝেই লোপাট হয়ে যাবে অন্তত কয়েক হাজার কোটি টাকা।

দ্বিতীয়ত, কূপমন্ডুক মানসিকতার নীতি-নির্ধারণী গোষ্ঠী এবং এর মোসাহেবগণ নিজেদের যতই ‘ডিজিটাল’ বলে প্রচার করুক না কেন আসলে গত শতাব্দীর ধ্যান-ধারণার খোলস থেকে তাদের এখনও মুক্তি ঘটেনি। তারা এখনও মনে করছে পারমাণবিক বিদ্যুৎ বুঝি আধুনিকতার প্রতীক। নিত্য নতুন নানা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা সংযোজনের ফলে পারমাণবিক বিদ্যুতের ক্রমাগত বেড়ে চলা দামের দিকটা মিথ্যার চাদরে লুকিয়ে রেখে তারা একে জ্বালানী স্বংয়-সম্পূর্ণতার মাধ্যম বলে জাহির করছেন। অথচ পরমাণু বিদ্যুৎ থাকার পরও ভারত কিংবা পাকিস্তানের নড়বড়ে জ্বালানী কাঠামোর দিকে উনারা ফিরেও তাকাচ্ছেন না। আর প্রযুক্তির আধুনিকায়নে নিয়ত কমতে থাকা দামের নবায়নযোগ্য জ্বালানী নিয়ে এদের তো কোন রা’শব্দই নেই। পৃথিবীজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানীভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবহার যে ইতোমধ্যেই ১৯% এ গিয়ে পৌছেছে এটা উনারা জানার চেষ্টাও করেন না। অথচ যে বিতর্কিত পারমাণবিক বিদ্যুতের ব্যবহার নানা কারণে কমতে কমতে বর্তমানে ১১% এ এসে পৌছেছে সেই অজনপ্রিয় ধ্বংসাত্মক প্রকল্প রূপপুরে করতে উনাদের ফন্দি ফিকিরের কমতি নেই।

চিত্রঃ নবায়নযোগ্য জ্বালানীতে ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ

অমিত সম্ভাবনার বাংলাদেশ প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ। জ্বালানী ব্যবস্থায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য একটি রাষ্ট্রের যা যা প্রয়োজন বাংলাদেশে তার কোনটারই কমতি নেই। এ কথা প্রচলিত এবং অপ্রচলিত উভয় প্রকার জ্বালানীর ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। আমাদের বিস্তীর্ণ সমুদ্র সীমানায় গ্যাস প্রাপ্তির অমিত সম্ভাবনাকে আমরা কাজে লাগাতে পারছি না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স-পেট্রোবাংলাকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে দেশী-বিদেশী লবিস্টদের চাপে সাগরের গ্যাস ব্লক বিভিন্ন বিদেশী কোম্পানীর হাতে তুলে দেবার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। আমাদের উত্তরাঞ্চলের বিশাল কয়লার মজুদ আধুনিক উপায়ে ‘আন্ডার গ্রাউন্ড গ্যাসিফিকেশন’ এর মাধ্যমে ব্যবহারের দিকে না যেয়ে ভূঁইফোড় অনভিজ্ঞ বিদেশী কোম্পানীর হাতে তুলে দেয়া হয়েছে যাদের প্রধান লক্ষ্য পরিবেশ প্রতিবেশের চিন্তা না করে ২ লক্ষ মানুষকে সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করে উন্মুক্ত কয়লা খনি প্রকল্প চালু করে দ্রুত মুনাফা করা।

আমাদের বিশাল পশু সম্পদ আর পোল্ট্রি শিল্প কাজে লাগিয়ে সামান্য অবকাঠামো উন্নয়নে বর্তমান অবস্থাতেই পাওয়া সম্ভব কমপক্ষে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এছাড়া প্রতিদিন তৈরী হওয়া বর্জ্যের মাধ্যমে বিদ্যুৎ তৈরীর সম্ভাবনা তো রয়েছেই। বাংলাদেশে বছরের প্রায় ৩০০ দিন প্রখর সূর্যালোক থাকে যা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বিরল। ব্যাটারী বিহীন গ্রীড কানেক্টেড সিস্টেমে মিনিগ্রীড ব্যবস্থার মাধ্যমে অঞ্চলভিত্তিক উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন খুবই সম্ভব। অথচ তা না করে এই সোলার সিস্টেমের ব্যবসা ছেড়ে দেয়া হয়েছে অনভিজ্ঞ-ব্যবসায়িক নীতি বিবর্জিত বিভিন্ন কোম্পানীর হাতে যারা উচ্চমূল্যের ব্যাটারী কেন্দ্রিক ব্যবসায় কোটি কোটি টাকা অযৌক্তিক মুনাফা করছে। আর অন্যদিকে চাপিয়ে দেয়া দাম বৃদ্ধির ফলে সোলার সিস্টেম আশানূরুপ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না।

বাংলাদেশে সুবিস্তৃত উপকূলীয় অঞ্চলে বাতাসের বেগ সারা বছর জুড়ে গড়ে ৫ মি./সে. যা কিনা বায়ুবিদ্যুত প্রসারে খুবই উপযোগী। অথচ এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কোন উদ্যোগ নেই। আমাদের দেশে নদীগুলোর বর্তমান প্রবাহতেই শুধুমাত্র কিছু টাকা ব্যয়ে ড্রেজিং করে এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে কোনরূপ বাধ নির্মাণ না করে ‘রান অফ দ্য রিভার’এর মাধ্যমে কম করে হলেও ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সারা বছর ধরে পাওয়া সম্ভব। এতে করে যেমন নদীর নাব্যতা বাড়বে তেমনি নদীগুলো আবার মৎস্য সম্পদে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে। কিন্তু এ ব্যপারে কোন উদ্যোগ নেই, ঠিক যেমনটি উদ্যোগ নেই মাটির নীচের তাপ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও।

চিত্রঃ বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ক্রমবর্ধমান আধিক্য

নীতি-নির্ধারণী মহলের সকল মনোযোগ এখন বিপদজনক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রিক, অথচ আধুনিক ঝুকিহীন পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকেন্দ্রিক নানা উপায়ের সুলভ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জনে তাদের কোন আগ্রহ নেই। শাসক গোষ্ঠী শুধু ঘোষণা দিয়ে বসে আছে যে, ২০১৫ সালের মধ্যে ৫% এবং ২০২০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১০% আসবে নবায়নযোগ্য জ্বালানী হতে। কিন্তু এ নিয়ে না হচ্ছে কোন যুগপযোগী গবেষণা, না আছে কোন সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা।

টেবিলঃ অমিত সম্ভাবনার নবায়নযোগ্য জ্বালানী খাতে বিভিন্ন দেশের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ (বিলিয়ন মার্কিন ডলার)

দেশ

২০১১

২০১০

২০০৯

যুক্তরাষ্ট্র

৪৮.১

৩৪.০

২২.৫

চীন

৪৫.৫

৫৪.৪

৩৯.১

জার্মানী

৩০.৬

৪১.২

২০.৬

ইতালী

২৮.০

১৩.৯

৬.২

ভারত

১০.২

৪.০

৩.২

 

তাই নীতি-নির্ধারণী মহলের উচিত হবে জনস্বার্থে পারমাণবিক বিদ্যুতের চিন্তা পরিত্যাগ করে বিকল্প সম্ভাবনার সুলভ বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে দৃষ্টি দেয়া। তাছাড়া মাত্র ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গ্যাস অপচয় রোধ করে আর সামান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে বর্তমান ব্যবস্থা থেকেই বাড়তি ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব এটা নানা বিশ্লেষণে ইতোমধ্যেই প্রমাণিত।

আমাদেরকে বলা হচ্ছে, যে কোন ধরণের ঝুকি মোকাবেলায় রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। কিন্তু দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি যখন ফুকুশিমা ট্রাজেডি ঠেকাতে পারে না তখনই আরো আধুনিক তৃতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি বাজারে আসে আর ঠিক সে সময়ই ল্যাবরেটরীতে প্রস্তুত হতে থাকে চতুর্থ প্রজন্মের প্রযুক্তি। প্রযুক্তির আধুনিকায়নে এটি খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু আধুনিকায়নের এ সূত্র পারমাণবিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে খাটে না। কারণ পারমাণবিক দূর্ঘটনায় যে বিকিরত কণা ছড়ায় তা ঢুকে পড়ে আমাদের শরীরে, খাবারের মাধ্যমে এসে পড়ে আমাদের খাদ্যশৃংখলে, মাটি-পানি-বাতাসের মাধ্যমে ছড়াতে থাকে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে। জীনগত পরিবর্তন কিংবা ক্রমোজোমাল পরিবর্তনে এটি ধীরে ধীরে ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। এর ক্রমবর্ধমান প্রকটতা সম্পর্কে আধুনিক বিজ্ঞান নিশ্চিত কিন্তু পরিণতি নিয়ে এখনও সন্দিহান। তাই যে পারমাণবিক ব্যবস্থার ত্রুটি পরিণতিই এখনও ধরা পড়েনি সে ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের কথা বলে রূপপুর প্রকল্পের যথার্থতা প্রমাণের চেষ্টা নিতান্তই হীন উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

পোকার আলো আকর্ষণী চরিত্রকে কাজে লাগিয়ে তৈরী হয় আলোর ফাঁদ। আলোর তীব্রতায় আকর্ষিত হয়ে পোকা ঘুরতে থাকে আলোর চারপাশে, একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে যায় নীচে রাখা পানির ফাঁদে। আলো আকৃষ্ট পোকা যেমন করে অন্য কিছু দেখে না ঠিক তেমনি আমাদের নীতি নির্ধারণী মহলও পারমাণবিক বিদ্যুতে মোহাবিষ্ট হয়ে কোন যুক্তি-তর্ক, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ মানছেন না। কিন্তু আমরা এই পোকাবুদ্ধির শাসক গোষ্ঠীর প্রলোভনে পড়ে জাতিগতভাবে পারমাণবিক বিদ্যুতের ভয়ংকর ফাঁদে পরে আত্নাহুতি দিতে চাই না।

 

তথ্যসূত্রঃ

[১] Ansolabehere, Stephen, John M. Deutch, Michael Driscoll, Paul E. Gray, John P. Holdren,

Paul L. Joskow, Richard K. Lester, Ernest J. Moniz, Neil E. Todreas. 2003. “The Future of

Nuclear Power: An Interdisciplinary MIT Study.” MIT Energy Initiative.

[২] BNEF, 2012, “Solar surge drives record clean energy investments in 2011”. 12 January 2012, Bloomberg New Energy Finance, http://www.newenergyfinance.com/free-publications/press-releases/

[৩] Brownstein, Ronald (2011): The Price Is Not Right, National Journal.

[৪] Civil Society Institute (2011): Americans Want to Hit the Brakes on More Nuclear Power.

[৫] Christian Breyer, Alexander Gerlach, “Global overview on grid-parity”, in Progress in Photovoltaics:

Research and Applications, 2012.

[৬] Dr. Shin Wei Ng and Nick Mabey, Chinese Challenge or Low Carbon Opportunities: The Implications of China’s 12th Five-Year-Plan for Europe, E3G, February 2011.

[৭] Du, Yangbo and John E. Parsons. 2009. “Update on the Cost of Nuclear Power.” MIT Center for Energy and Environmental Policy Research Working Paper 09-004.

[৮] Davis, Lucas W. and Catherine Wolfram. 2011. “Competition, Consolidation, and Efficiency: Evidence from U.S. Nuclear Power,” UC Berkeley Working Paper.

[৯] European Wind Energy Association (EWEA), “Wind Energy, The Facts: Volume 1, Technology”, Brussels, 2003

[১০] EWEA 2012, “Wind in Power, 2011European Statistics”, European Wind Energy Association,

February 2012.

[১১] For an independent historical account of the PBMR, see David Fig, Nuclear Energy Rethink? The Rise and Demise of South-Africas Pebble Bed Modular Reactor, ISS Paper 210 (Pretoria: Institute for Security Studies, April 2010).

[১২] John O. Blackburn and Sam Cunningham, “Solar and Nuclear Costs – The Historic Crossover,” prepared for NC WARN Waste Awareness & Reduction Network (Durham, NC: 2010).

[১৩] Masahiro Aoki, “IAEA Milestone Approach and Recent Developments”, INIG, 27 July 2011.

[১৪] Nuclear Power Newsletter, “IAEA Annual Workshop on Nuclear Power Infrastructure”, IAEA, May 2012.

[১৫] Schneider M., Froggatt A., Hazemann J., (2012), World Nuclear Energy Industry Report 2012.

[১৬] UBS Investment Research, “Q-Series: Global Nuclear Power, Can nuclear power survive Fukushima ?”, 2012

[১৭] Zimmerman, Martin B. 1982. “Learning Effects and the Commercialization of New Energy

Technologies: The Case of Nuclear Power.” Bell Journal of Economics 13(2), 297-310.