Sunday, June 30th, 2013

রুপ্পুর প্রকল্পের সম্ভাব্যতা পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ

সংবাদে প্রকাশ যে, সরকার রুপ্পুর আণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা (ফিজিবিলিটি) পরীক্ষার উদ্দেশ্যে ৪৫ মিলিয়ন ডলার (অর্থাৎ প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা) বরাদ্দ করেছেন। এই পদক্ষেপের মধ্যেই রুপ্পুর প্রকল্প সম্পর্কে সরকারের সিদ্ধান্তসমূহের মধ্যকার বিভিন্ন অসংগতি প্রকাশ পায়।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রকাশিত হলো যে, রুপ্পুর আণবিক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা এখনও পরীক্ষার অপেক্ষায়। অথচ, রুপ্পুর প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে রাশিয়া সরকারের সাথে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি ইতিমধ্যে সাক্ষর করেছেন। যে প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্ভাব্যতাই এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি, সে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঋণ চুক্তি কী করে হয়? সে ঋণের একটি অংশই উপরোক্ত সম্ভাব্যতা পরীক্ষার জন্য ব্যয়িত হচ্ছে। এভাবে সম্পাদিত সম্ভাব্যতা পরীক্ষা যে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হতে পারে না, তা বলাই বাহুল্য।
বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের প্রাক্তণ প্রধান প্রকৌশলী ডঃ মতিন পত্রিকাতে উপসম্পাদকীয় লিখেছিলেন, এবং “পরিবেশ সংবাদে” তা অন্তর্ভুক্তও হয়েছিল। সেখানে ডঃ মতিন সঠিকভাবেই লক্ষ করেছিলেন যে, সাধারণত কোন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা পরীক্ষার কাজ সরকারের নিজস্ব তহবিল দ্বারাই সম্পাদিত হয়; এবং পরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্যতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরই কেবল তার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য ঋণচুক্তি সাক্ষরিত হয়। এরূপ সম্ভাব্যতা পরীক্ষার বাজেটও কম হয়।
অথচ, সরকার ঋণের টাকা দ্বারা এক বিপুল ব্যয়ের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার আয়োজন করেছেন। ৩৬০ কোটি টাকা দ্বারা একটা মাঝারি আকারের তাপবিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন করা যায়। সমীক্ষার জন্য এত বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন কেন? যদি তর্কের খাতিরে ধরা যায় যে, সমীক্ষায় প্রমাণিত হলো যে, রুপ্পুর প্রকল্প সম্ভব নয়। তখন এই ৩৬০ কোটি টাকার কী হবে? এই টাকা কে ফেরত দিবে? দেড় বিলিয়ন ডলারের ঋণের কী হবে?
সরকারের এরূপ অসংগতিপূর্ণ আচরণ অনেকটা “ঋণ করিয়া ঘি খাওয়ার” কথা মনে করিয়ে দেয়। ঋণ করে সংগৃহীত টাকা লুটপাট করার জন্যই কী রুপ্পুর প্রকল্প নিয়ে অগ্রসর হওয়া?
এমনিতেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, কারিগরী, ও পরিবেশগত পরিস্থিতিতে আণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই। তার উপর যদি এই প্রকল্পের উপর লুটপাটের আছর ভর করে, তাহলে সত্যই প্রমাদ গুণতে হয়। সরকারের উচিত ডঃ মতিন উত্থাপিত প্রশ্ন সমূহের যথাযত ব্যাখ্যা প্রদান করা। এটা কোন ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়। দেশের নামের নেয়া ঋণের টাকা দেশের জনগণকে পরিশোধ করতে হবে। সুতরাং, ঋণ নেয়া ঠিক হচ্ছে কিনা, এবং ঋণের টাকা সঠিকভাবে ব্যবহ্রিত হচ্ছে কিনা, তা জানার অধিকার জনগণের রয়েছে।
পরিবেশের দৃষ্টিকোণ থেকে রুপ্পুর প্রকল্প নিয়ে এমনিতেই বেন উদ্বিগ্ন। তার সাথে অপচয়, লুটপাটের সম্ভাবনা যোগ হওয়ায় এই উদ্বেগ আরও ঘনিভূত হলো।
—————-
পরিবেশ সংবাদ, বর্ষ ৯, সংখ্যা ২৫ (২৩শে জুন, ২০১৩)
[ বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন)]