Thursday, June 6th, 2013

সুন্দরবন বেচে থাকুক

সুন্দরবন সৃষ্টির কোন দিন ক্ষণ নেই। হাজার বছরের সাক্ষী বিস্ময়কর এ বনের বর্ণনা আমরা পাই চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং’র দিনলিপিতে। এ বনের কথা উঠে এসেছে রামায়ন, মহাভারত আর পুরাণাতে। বাংলার বারো ভূইয়ার সাথে আকবরের দ্বন্দ্বের কারণ হিসেবেও এ বন রয়েছে বলে জানা যায়। পৃথিবীখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, নোনা জলভূমির সুন্দরী আর জোয়ার-ভাটা বিধৌত রহস্যময় এই বন চিরকালই থেকেছে অজেয়। সুন্দরবন আমাদের সকল দুর্যোগ দুর্বিপাক থেকে রক্ষা পাবার একমাত্র রক্ষাকবচ। সুন্দরনের কারণেই আমরা রক্ষা পেয়েছি আইলা-সিডরের উন্মত্ততা থেকে। এ বন নিজের বুক চিতিয়ে রক্ষা করেছে লক্ষ লক্ষ প্রাণ। অথচ সুন্দরবনের সকল উপযোগীতা ভুলে গিয়ে উন্নয়নের নেশায় বুদ হয়ে সুন্দরবনের অস্তিত্বকে সংকটে ফেলে আমরা করতে যাচ্ছি কয়লাভিত্তিক রামপাল প্রকল্প। এতে সুন্দরবনের মৃত্যু হয়তো হবে ধীরে ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবে।

১৮৮৩ সালের ১৬ই নভেম্বর একটি সরকারী প্রজ্ঞাপণ জারি করা হয়। এতে সুন্দরবনের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে পরিচিত বাঘ হত্যার অনুমোদন দেয়া হয়। আর সেই সাথে প্রতিটি বাঘ হত্যার পুরষ্কার হিসেবে ৫০ রুপী করে পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়। ধীরে ধীরে এই পুরষ্কারের অংক বাড়তে থেকে। এতে করে ১৯১২ সালের মধ্যেই সরকারীভাবে লিপিবদ্ধ করা হয় ২৪০০ পূর্ণবয়স্ক বাঘের নিশ্চিত মৃত্যু। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় বাঘ নিধন চলতে থাকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত। ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসে সুন্দরবন। পরিবেশ দূষণের প্রভাব পড়ে এর বাস্তুসংস্থানে। আর সেই সাথে তৎকালীন শাসক গোষ্ঠীর নির্বুদ্ধিতায় নিষ্ঠুর মৃত্যু হয় হাজার হাজার বাঘের। আমাদের নীতিনির্ধারকগণ আপাত দৃষ্টিতে সে ধরণের কোন হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিলেও আমাদের চোখে উন্নয়নের ঠুলি পড়িয়ে হীন চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে এবার পুরো বনটাকেই সাবাড় করার পায়তারা করছেন।

রামপালে হতে যাচ্ছে ১৩২০ মেগাওয়াটের একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। আসলে এটি একটি যমজ প্রকল্পের একাংশ যার প্রথম পর্যায়ে উৎপাদিত হবে ১৩২০ মেগাওয়াট আর পরবর্তী পর্যায়ে তা বেড়ে হবে ২৬৪০ মেগাওয়াট। বলা হচ্ছে প্রকল্পটি হবে সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু আমরা জানি যে সুন্দরবন কোন পার্ক বা চিড়িয়াখানা নয় যে এর আয়তন গজফিতায় মাপা যাবে। নিয়মিত আগ্রাসনে সুন্দরবন ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে। তাই যতই বলা হোক না কেন যে সুন্দরবন থেকে রামপাল প্রকল্প নিরাপদ দূরত্বে হচ্ছে, কিন্তু এ জায়গাটিও যে একসময় সুন্দরবনেরই অংশ ছিল তা সদ্য প্রকাশিত পরিবেশগত সমীক্ষা রিপোর্টেও (ইআইএ) স্বীকার করে নেয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার সাবাহ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইআইএ রিপোর্টে ২০ কিলোমিটার দূরবর্তী জীববৈচিত্র্য সম্পন্ন তাবিন অঞ্চল, ৭০ কিলোমিটার দূরবর্তী তান সাংকারান মেরীণ পার্ক, এমনকি ১০০ কিলোমিটার দূরবর্তী উপকূলীয় অঞ্চল বিবেচনায় এনে কোন প্রভাব পড়বে কিনা তা সুস্পষ্টভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছিল। অথচ রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্বার্থে এত কাছে থাকা বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনের সাম্ভাব্য ক্ষতি নীতি নির্ধারনী মহল হিসেবেই আনছে না।

থাইল্যান্ডের মাই মোহ’তে ২৬২৫ মেগাওয়াটের অনুরূপ একটি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে বৃষ্টির পানিতে সালফেটের পরিমাণ আন্তর্জাতিক মানের চেয়ে ৫০% বেড়ে গেছে। সালফার দূষণে জমির ফলন কমে গেছে। এসিড বৃষ্টির ফলে ওই অঞ্চলের গাছপালা মরে যাচ্ছে। চীনের সানঝি নগরী এক সময় পরিচিত ছিল ফুল ও ফলের নগরী হিসেবে। অথচ মাত্র ৩০ বছরের ব্যবধানে কয়লা দূষণে এখন তা ধূসর পাহাড় আর কালো পানির শহরে পরিণত হয়েছে। ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইট ইয়ুগ্যাং গ্রোট্টি’র হাজার বছরের ঐতিহ্য হালের কয়লা দূষণে এতটাই ভঙ্গুর হয়ে গেছে যে সামান্য স্পর্শেই পাথর খসে পড়ে। তাই যতই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হোক না কেন অনূরূপ ঘটনা সুন্দরবনের ক্ষেত্রেও ঘটবে।

সুন্দরবন শুধুমাত্র ৬০০০ বর্গ কিলোমিটারের একটি বনাঞ্চল নয়, সুন্দরবনের অভয়ারণ্য শুধু ইউনেস্কো ঘোষিত একটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটই নয়, এটি বৈশ্বিক গুরুত্ব সম্পন্ন রামসার এলাকা হিসেবে চিহ্নিত নানা প্রাজাতির জীবজন্তুর প্রাকৃতিক আশ্রয়ক্ষেত্রই নয়। এই বন বিভিন্ন ঝড়-ঝঞ্ঝা থেকে উপকূলীয় মানুষকে বাচানোর একমাত্র রক্ষাকবচ। এটি পাঁচ লক্ষ মানুষের জীবন ও জীবিকার একমাত্র আশ্রয়। এই সুন্দরবন পৃথিবীতে একটিই। এটি আমাদের অহংকার। অথচ এই অনন্য সুন্দরবনের অস্তিত্ব বিপন্নকারী একটি মেগাপ্রজেক্ট হতে যাচ্ছে দায়সারা সব যুক্তি আর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলে। এই প্রেক্ষিতে কিছু বিষয় তুলে ধরা হলঃ

– পৃথিবীতে কয়লাভিত্তিক প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় দূষণমুক্ত প্রযুক্তি (clean coal technology) বলতে কিছু নেই। ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বছরে ১ লক্ষ ৯৩ হাজার টন বর্জ্য তৈরী করে। ইআইএ’তে বলা হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার কাজে পশুর নদী থেকে ঘন্টায় ৯১৫০ ঘনমিটার পানি সংগ্রহ করে পরিশোধন করার পর ওই নদীতেই ৫১৫০ ঘনমিটার হারে নির্গমন করা হবে। অথচ পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শুন্য নির্গমন (zero discharge) নীতি অনুসরণ করা হয়। এই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে যে, গ্রীষ্মে নির্গত পানির তাপমাত্রা হবে ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং শীতকালে হবে ৪৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। অথচ এক গবেষণায় দেখা গেছে ৩৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর অধিক তাপমাত্রায় মাছের বৈচিত্র্যতা আশংকাজনকভাবে কমে যায়।

– এই ইআইএ রিপোর্টে সুন্দরবনের বাঘ এবং হরিণের উপর নিশ্চিত ক্ষতিকর প্রভাব একেবারে অস্বীকার না করে তা ভবিষ্যৎ নিরীক্ষণের জন্য তুলে রাখা হয়েছে (Tiger and dear has been considered as an Important Ecological Component to examine and evaluate the potential impact of power plant).

– এই ইআইএ রিপোর্টে দুর্লভ প্রজাতির স্বাদুপানির ডলফিন আর বিলুপ্তপ্রায় নোনাজলের কুমিরের নাজুক অবস্থার কথা বলে এদের বিচরণ ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে আবার অন্যদিকে সেই বিচরণক্ষেত্রের মধ্য দিয়েই হিরণ পয়েন্ট থেকে আকরাম পয়েন্ট আর আকরাম পয়েন্ট থেকে মংলা বন্দর পর্যন্ত হাজারটনী ছোট-বড় জাহাজ চলাচলের নৌরুট চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেই সাথে কয়লা পরিবহণকারী এসব জাহাজ থেকে কয়লার গুড়া, টুকরা কয়লা, তেল, ময়লা আবর্জনা, জাহাজের দূষিত পানিসহ বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনার কথা স্বীকার করে নেয়া হয়েছে।

– এই পরিবেশগত সমীক্ষা রিপোর্টের এক জায়গায় বলা হয়েছে, রামপাল এমন একটি জায়গায় অবস্থিত যেখান থেকে নির্গত ধোয়া বা ছাই সুন্দরবনে “হয়তোবা পৌছাবে না” । আবার এই রিপোর্টেরই আরেক জায়গায় বলা হয়েছে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী মাসে চুল্লী নির্গত ধোয়া বা ছাই সুন্দরবনে “হয়তোবা পৌছাতে পারে।” এই ‘হয়তোবা’ এর মারপ্যাচে হলে কি হবে সে বিষয়টি চতুরতার সাথে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

-এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণকালে সাড়ে চার বছর ধরে প্রায় ৮ হাজার জন কাজ করবে। এখান হতে প্রতিদিন যে ৮ টন বর্জ্য তৈরী হবে সেটির ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে এখানে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা নেই। এ বিষয়ে রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্জ্য “হয়তোবা তৈরী হতে পারে।” যদি আমরা ধরে নেই যে দৈনিক এই ৮ টন বর্জ্যের শেষ আশ্রয় হবে পাশেই বয়ে চলা পশুর নদী তবে সুন্দরবনে বাস্তু-সংস্থানের কী ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবে তা সহজেই অনুমেয়।

– ইআইএ রিপোর্ট অনুসারে এই কেন্দ্র হতে বছরে ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টন ফ্লাই অ্যাশ ও ২ লক্ষ টন বটম অ্যাশ উৎপাদিত হবে। ক্রমাগত উৎপাদিত এই বিশাল পরিমাণ ছাই কাজে লাগানোর (!) জন্য প্রথমে বলা হয়েছে প্রকল্প এলাকার ১৪১৪ একর জমি ভরাট করার কথা। এরপর বলা হয়েছে সিমেন্ট কারখানা, ইটভাটায় ব্যবহার করার কথা। এরপর বলা হয়েছে ছাই রপ্তানীর কথা। অথচ বড়পুকুরিয়ায় ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত দৈনিক ৩০০ মেট্রিকটন ছাই মারাত্নকভাবে পরিবেশ দূষণ করছে। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পযন্ত চার বছরে ২ লক্ষ ৬০ হাজার টন ছাই পুকুরে জমা করে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এই প্রকল্পেও ১০০ একরের  একটি ছাইয়ের পুকুর তৈরীর কথা বলা হয়েছে, পশুর নদী থেকে যার দূরত্ব হবে মাত্র ১২০ মিটার। এই বর্জ্য ছাই এর বিষাক্ত ভারী ধাতু বৃষ্টির পানির সাথে মিশে কিংবা চুইয়ে প্রকল্প এলাকার মাটি ও মাটির নীচের পানির স্তর এবং পশুর নদীর সাম্ভাব্য ভয়াবহ দূষণ সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ হারুণ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে সুন্দরবন ও এর আশেপাশের এলাকায় প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাব বিষয়ক একটি গবেষণা করা হয়েছে। এই গবেষণায় পরিবেশগত প্রভাবের দিকগুলো ৩৪ টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে পৃথকভাবে পর্যবেক্ষণ করে এই প্রভাব কতটা ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক হবে সেটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। এই ৩৪ টি ক্যাটাগরির ২৭ টিতেই পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। ৭ টি ইতিবাচক প্রভাবের মধ্যে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নই একমাত্র বাস্তবিক ইতিবাচক পরিবর্তন। বাকি ৬ টিকে ইতিবাচক হিসেবে বলা হলেও সুন্দরবন ধ্বংসে সে প্রভাবগুলো ‘টনিকে’র মত কাজ করবে। ইতিবাচক পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে রামপাল ও তদঃসংশ্লিষ্ট এলাকায় নগরায়ন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসার প্রসার, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও হাট বাজার সৃষ্টি। কিন্তু বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যাংগ্রোভ বনকে ঘিরে যদি শিল্পের প্রসার হয় কিংবা জনবসতি গড়ে ওঠে তবে সে বন আর কতদিন তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবে তা ভেবে দেখবার বিষয়।

প্রকল্প ব্যবস্থাপনার এমনি সব দূর্বল প্রস্তুতি, উন্নয়নের টোপ আর যেনতেনভাবে প্রকল্পটি করে ফেলার তোড়জোড় দেখে বলাই যায় যে রামপাল প্রকল্প সুন্দরবনের জন্য ক্যান্সার বয়ে নিয়ে আসছে। পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট জ্বালানী বাহিত দূষণে মাটি-পানি-বায়ু ব্যধিগ্রস্ত হয়ে অচিরেই মৃত্যু ঘটবে সুন্দরবনের। বাস্তুসংস্থানের সামান্য পরিবর্তন ছড়িয়ে পড়বে বিরাট আকারে। আমরা হারাব জলের কুমির আর ডাঙ্গার বাঘ। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের যে মূলা আমাদের সামনে ঝুলানো হয়েছে তার মাধ্যমে উজার হতে থাকবে সুন্দরবন। রামপাল প্রকল্প সুন্দরবনের দূর্ভেদ্য প্রাচীর ভেঙ্গে দিয়ে এর অনতিক্রম্যতাকে অতিক্রম করবে। ধীরে ধীরে সুন্দরবন আশ্রয় নিবে ছবির ফ্রেম আর বইয়ের পাতায়।

প্রাচীন এক প্রবাদে আছে- যখন পৃথিবীতে আমরা শেষ গাছটি কেটে ফেলব, শেষ মাছটি খেয়ে ফেলব, শেষ ঝর্ণাধারাটিকে দূষিত করে ফেলব কেবল তখনই আমরা বুঝব যে টাকা চিবিয়ে বাচা যায় না। আমরা নিশ্চিতভাবে সে দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি। তা’নাহলে বিকল্প ব্যবস্থা, বিকল্প জায়গা, বিকল্প সমাধান থাকার পরও কেন আমরা সুন্দরবনের অস্তিত‌্ব বিপন্নকারী রামপাল প্রকল্প করতে যাচ্ছি!

সুন্দরবন তো কোন চিড়িয়াখানা নয় যে কোন কারণে এটা খুলনা অঞ্চলে টিকিয়ে রাখা না গেলে অন্যত্র গড়ে তোলা যাবে।