Monday, June 3rd, 2013

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত, বাজেট ২০১৩ ও ‘ঢাকা রামপাল লংমার্চ কর্মসূচি’ প্রসঙ্গে

গত বাজেট ঘোষণার পর থেকে একবছরে সরকার যেসব কর্মসূচি নিয়েছে তারমধ্যে বেশ কয়টি জনস্বার্থবিরোধী ও জ্বালানী নিরাপত্তাসহ অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক। এর মধ্যে আছে: (১) রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধি, বিদ্যুতের দামবৃদ্ধি (২) দায়মুক্তির আইনের মেয়াদের সম্প্রসারণ (৩) ফুলবাড়ী উন্মুক্ত খনি নিয়ে চক্রান্ত অব্যাহত রাখা (৪) বিশেষজ্ঞরা ই্আইএ প্রত্যাখ্যান করা সত্ত্বেও সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপাল বিদ্যুৎ প্লান্ট নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর (৫) পাওনা পরিশোধ না করে গোপনে কুয়েতের একটি কোম্পানির কাছে শেয়ার বিক্রি করে নাইকোর দেশত্যাগের পাঁয়তারা। উল্লেখ্য যে, নাইকোর হাতে আছে খুবই সম্ভাবনাময় ব্লক, এছাড়া পরিত্যক্ত হিসেবে ঘোষিত ফেণী ও ছাতক গ্যাসফিল্ড (৬) গাজপ্রমকে কাজ দিয়ে গ্যাস অনুসন্ধানে ব্যয় বৃদ্ধি এবং অনুসন্ধানে দীর্ঘসূত্রিতা (৭) নৌ স্থল ও সমুদ্র বন্দর নিয়ে নানা অস্বচ্ছ তৎপরতা, সম্প্রতি বাংলাদেশকে না জানিয়ে নারায়ণগঞ্জে ভারতের টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ। এবং (৮) কনোকো ফিলিপসএর সাথে চুক্তির পর সমুদ্রের সম্পদ নিয়ে আরও সর্বনাশা চুক্তির আয়োজন। (৯) নবায়নযোগ্য জ্বালানীর বিশাল সম্ভাবনা ক্ষুদ্র কিছু উদ্যোগের মধ্যে আটকে রেখে, যথাযথ প্রস্তুতি ও সমীক্ষা ছাড়াই, বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল বিপজ্জনকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্লান্ট অনুমোদন করা হয়েছে।

ভ্রান্ত নীতি ও দুর্নীতির জন্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, ক্রমাগত দামবৃদ্ধি
এইসব তৎপরতার পাশাপাশি গত কয়েক বছরের মতো এবারও শোনা যাচ্ছে যে, সামনের বাজেটে জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাত সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার পাবে। এরজন্য বর্ধিত বরাদ্দের কথাও বলা হচ্ছে। বস্তুত ২০০৯-১০ এর পরই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে অর্থবরাদ্দ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। কিন্তু এই বর্ধিত বরাদ্দ বা ভর্তুকির পরিমাণের সঙ্গে যে খাতের উন্নতির সম্পর্ক নাই, তা আমরা বারবারই বলেছি। বরাদ্দ ও ভর্তুকি যদি কতিপয় গোষ্ঠীর স্বার্থে করা হয়, তাহলে তা উল্টো জনগণের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে গত কয়েকবছরে বরাদ্দবৃদ্ধি এই কারণেই ঘটেছে। তারফলে উৎপাদন ব্যয়, পরিবহণ ব্যয়, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু এই খাতের টেকসই উন্নয়ন হয়নি।

কোম্পানিমুখি জাতীয় স্বার্থবিরোধী ভুল নীতি এবং বিরাট আকারের দুর্নীতি কীভাবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে দক্ষতাহানিকর, লোকসানী, ঋণগ্রস্ত এবং বিপর্যস্ত করেছে সে সম্পর্কে আমরা আপনাদের মাধ্যমেই বহুবার বলেছি। দুবছর আগেই আমরা তথ্য যুক্তিসহ দেখিয়েছি  যে, ‘বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ব সব বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু এবং আরো কিছু কেন্দ্র ইগজঊ অর্থাৎ সংস্কার ও সুসজ্জিত করলে সবমিলিয়ে প্রায় ২৪০০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুত বর্তমান অবকাঠামো থেকেই পাওয়া সম্ভব। রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ প্লান্ট ইগজঊ করলে এবং সেইসাথে গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার করলে এককালীন এক হাজার কোটি টাকাও খরচ হতো না কিন্তু আমরা বাড়তি ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেতাম। তাতে ঋণের পাহাড় সৃষ্টি হতো না, বারবার তেল-গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হতো না।’
স্বল্পমেয়াদে বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের জন্য রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ প্লান্ট মেরামত না করে ৮ গুণ বেশি দামে বিদ্যুৎ পাবার জন্য রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের ফাঁদে দেশকে ফেলে ভয়াবহ ঋণের বোঝা তৈরি করেছে সরকার। গ্যাস উন্নয়ন তহবিল, বাজেট বরাদ্দ ইত্যাদিতে অর্থের সংকুলান থাকলেও এই কাজে টাকা খরচ করা হয়নি। না করে একই সময়ে কোন দরপত্র ছাড়াই অনির্ভরযোগ্য রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের চুক্তি করা শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ অস্বচ্ছ রাখা হলেও, এই কারণেই, যে কোনো বছরের তুলনায় এবছর তার পরিমাণ অনেক বেড়েছে। সামনে আরও বাড়বে। আবার এই ভর্তুকি কমানোর যুক্তিতে গত এক বছরে একাধিকবার বিদ্যুৎ তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের দাম আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিলো, জনরোষের ভয়ে শেষবার সরকার পিছিয়ে আসে। বর্তমান সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, তখন বিদ্যুতের পাইকারি দাম ছিল একক প্রতি ২.৩৭  টাকা, গত বাজেট বক্তৃতার সময় তা ছিলো ৪.০২ টাকা, সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ দামবৃদ্ধির পর তা এখন দাঁড়িয়েছে ৪.৭০ টাকা। কিন্তু এই বিদ্যুতে এখন ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৬.৬৮ টাকা।

প্রশ্ন হল, রাষ্ট্রীয় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্টে যেখানে ইউনিট প্রতি বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ২ টাকার কম সেখানে গড় খরচ কেন এবং কীভাবে তার চাইতে তিনগুণের বেশি হল? মূলত: বহুজাতিক কোম্পানি ও দেশীয় লুটেরা শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে এটা হয়েছে। এর কয়েকটি দিক হলো: প্রথমত, বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে বেশিদামে গ্যাস ক্রয়; দ্বিতীয়ত, গ্যাসভিত্তিক রাষ্ট্রীয় বৃহদাকার বিদ্যুৎ প্লান্ট অকেজো অবস্থায় ফেলে রেখে বেশি ব্যয়বহুল দেশি বিদেশি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্লান্টগুলোতে গ্যাস সরবরাহ এবং তৃতীয়ত, তেলভিত্তিক রেন্টাল ও কুইক-রেন্টাল বিদ্যুৎ প্লান্ট চুক্তি করা। এসব কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী উভয় ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয়বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।

গত কয়েকবছরে গ্যাসবিদ্যুৎ প্রবৃদ্ধির তুলনায় তেলবিদ্যুৎ প্রবৃদ্ধি বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ। শতকরা ৬-৭ ভাগ হারে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি হচ্ছে। অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ০.৪১ ভাগ হারে। গ্যাস সংকট মোকাবেলার জন্য ছাতক (পূর্ব) গ্যাস ক্ষেত্রের মজুদ ১ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন, বন্ধ ক’প চালুসহ আরও নানা উদ্যোগ সম্ভব ছিল এবং এখনও সম্ভব। আন্দোলনের কারণে জনমতের চাপে বাপেক্সকে সুযোগদানসহ কিছু কিছু পদক্ষেপ নেয়া হলেও মূল প্রবণতা, মুনাফাখোর কমিশনভোগীদের স্বার্থে জাতীয় অক্ষমতা টিকিয়ে রাখা, এখনও বহাল আছে। অতিদ্রুত গ্যাস পাবার কথা বলে বাপেক্স এর তুলনায় দ্বিগুণ খরচে গাজপ্রমকে ১০টি ক’প খননের দেয়া হয়েছিলো। তারা সেকাজ নির্ধারিত সময়ে করতে পারেনি। খরচ বাড়লো কিন্তু গ্যাস পাওয়া গেলো না।
একদিকে গ্যাস সংকট চলছে, অন্যদিকে ‘বাপেক্স কে কাজ দেয়া হবে না’ এই শর্ত মেনে এডিবির কাছ থেকে ঋণ নেয়া হচ্ছে, নিজেদের মজুদ টাকাও বাপেক্স সহ জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজে লাগানো হচ্ছে না।

বিদেশি কোম্পানির জন্য ক্রমবর্ধমান সুবিধা ও পিএসসি ২০১২
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সান্টোস ও হেলিবার্টনের কাছ থেকে প্রচলিত হারের চাইতে অনেক বেশি দামে গ্যাস কিনছে। বেশি দামে গ্যাস কেনার এই চাপ সৃষ্টি হযেছে ‘তৃতীয় পক্ষের কাছে গ্যাস বিক্রির’ অধিকার দিয়ে কেয়ার্ণ এনার্জির সাথে সরকারের চুক্তি স্বাক্ষরের কারণে। কেয়ার্ণ এনার্জি যুক্তি দিয়েছিল বেশি দামে তাদের কাছ থেকে গ্যাস না কিনলে তারা অনুসন্ধান কাজ চালাতে পারবে না, তারা চলে যেতে বাধ্য হবে। দাম বাড়ানোর সুযোগ দিয়ে তাদের সাথে চুক্তি করবার পর তারা দেশে থাকেনি। বরং তাদের ব্লক সান্টোস ও হেলিবার্টনের কাছে বিক্রি করে তারা চলে গেছে। সরকারের চুক্তি হাতবদলে তাদের অনেক বাড়তি সুবিধা দিযেছে। আগের চুক্তি অনুযায়ী সরকার বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে গ্যাস কেনে গড়পড়তা ২.৯ ডলারে। পিডিবি গ্যাস পায় ০.৯৮ ডলারে। অথচ পিডিবি’কে সান্টোসের গ্যাস ৪.৫০ ডলারে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। উচ্চ মুনাফার সুযোগ দেখে শেভ্রনসহ অন্যান্য কোম্পানি এই অধিকার লাভের জন্য এখন তদ্বির করছে। সংশোধিত পিএসসি ২০১২ তে সকলের জন্য ‘তৃতীয় পক্ষের কাছে গ্যাস বিক্রির’ অধিকার উন্মুক্ত করা হচ্ছে।

গ্যাস সংকট চলছে, কনোকো ফিলিপস-এর সাথে রফতানিমুখি চুক্তিও বলবৎ আছে। এরমধ্যে পুঁজির অভাবের কথা বলে অগভীর সমুদ্রের তিনটি ব্লক দুটি মার্কিন ও ভারতীয় কোম্পানিকে দেয়া হয়েছে। অথচ তারা পাঁচ বছরে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করবে তা ‘গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে’ অলস পড়ে আছে। মায়ানমারের সাথে নিষ্পত্তি হওয়া বঙ্গোপসাগরের ব্লকগুলো বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেবার জন্য, পিএসসি ২০১২ নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে সরকার। সব ব্লক বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেবার অর্থ হল, এক পর্যায়ে রফতানি অনিবার্য করে বাংলাদেশকে সম্পদশূণ্য করা।

সম্প্রতি সরকার জনগণকে অবহিত না করে বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানির দাবি অনুযায়ি পিএসসি-২০১২ সংশোধন করে আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এই সংশোধনীতে কোম্পানিগুলোর সুবিধা এত বেশি বাড়ানো হয়েছে যে, এরপর থেকে বাংলাদেশকে নিজের গ্যাস আমদানি করা আন্তর্জাতিক দামে কিনতে হবে। উপরন্তু সম্পূর্ণ জিম্মি থাকতে হবে এইসব কোম্পানির হাতে। তাদের কাছ থেকে গ্যাস কেনার জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে শতকরা প্রায় ৫০ থেকে ৭০ ভাগ। তাছাড়া যে কোন দামে তৃতীয় পক্ষের কাছে গ্যাস বিক্রির সুবিধা দিয়ে পুরো জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অসম্ভব ব্যয়বহুল করে ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এরপরও বিদেশি কোম্পানির কর মওকূফ করা হচ্ছে। গ্যাসের উপর তাদের কর্তৃত্বের অনুপাতও বাড়ানো হচ্ছে। কস্ট রিকভারি হিসেবে তাদের মালিকানা শতকরা ৫৫ ভাগের স্থলে করা হচ্ছে ৭০ ভাগ। জ্বালানী নিরাপত্তা ও জ্বালানী সংকট সমাধানের যে শক্তিশালী সম্ভাবনা বাংলাদেশে আছে, পিএসসি ২০১২ অনুযায়ী চুক্তি স্বাক্ষর হতে থাকলে তা সম্পূর্ণ নি:শেষ হবে। সম্পদ পরিণত হবে অভিশাপে।

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র
গত ৩-৫ মার্চ ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফর করেন। তিনি ঢাকায় প্রদত্ত বক্তব্যে সুন্দরবন রক্ষায় দুইদেশের যৌথ ভ’মিকার আহবান জানিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি, দুইদেশের সরকার যৌথভাবে ভারতীয় একটি কোম্পানির মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা নিশ্চিত করতে ও দেশি কিছু সুবিধাভোগীর স্বার্থে রামপাল বিদ্যুৎ প্লান্টের মাধ্যমে বরং সুন্দরবন ধ্বংসের আয়োজন করছেন।

গত ২০ এপ্রিল রামপাল বিদ্যুৎ প্লান্ট নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে তাতে দুইদেশের সরকার যৌথভাবে আন্তর্জাতিক বিধি লংঘন করে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, প্রাণ-বৈচিত্রের অসাধারন আধার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের সবচাইতে শক্তিশালী প্রাকৃতিক রক্ষা বর্ম সুন্দরবন ধ্বংস করার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করেছে। সুন্দরবনের বৃহৎ এলাকায় পরিকল্পিত এই কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎপ্লান্ট চুক্তিতে ভারতীয় কোম্পানির উচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করার জন্য কর মওকূফ, বিদ্যুতের দাম অনির্ধারিত রাখা এবং বাংলাদেশের উপর সব দায় দায়িত্ব চাপানোসহ  সবধরনের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

যে ভারতীয় এনটিপিসি বাংলাদেশের সুন্দরবন ধবংস করে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে চাইছে, সেই ‘ভারতেরই ওয়াইল্ড লাইফ প্রটেকশান এ্যাক্ট ১৯৭২ অনুযায়ী, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৫ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে কোন বাঘ/হাতি সংরক্ষণ অঞ্চল, জৈব বৈচিত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল, জাতীয় উদ্যান, বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য কিংবা অন্য কোন ধরণের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থাকা চলবে না’। আবাদি জমি নষ্ট ও নদীর পানি ব্যাবহারে সংকট হওয়ার আশংকায় ভারতে তাদের একটি প্রকল্প সরকার বাতিল করেছে। রামপালে, সুন্দরবনের ওপর, সেই ভারতীয় কোম্পানির কর্তৃত্বেই বিদ্যুৎ প্লান্ট হচ্ছে যার ফলে শুধু আবাদি জমি বা নদীর পানিই না, একটা গোটা সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংস হবে। ইআইএ বা পরিবেশ সমীক্ষা না করে এরকম কোনো প্রকল্প ভারতেও গ্রহণ করা হয় না। আর বাংলাদেশে ইআইএ না করেই প্রকল্প কাজ অগ্রসর করা হয়েছে, চুক্তি হয়েছে। পরে ইআইএ নিয়ে লোকদেখানো বিশেষজ্ঞ সংলাপ করা হয়েছে।

এর আগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা সমীক্ষা করে এই প্রকল্পের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। কিন্তু সরকার বিশেষজ্ঞমত ও জনগণের বিরোধিতা উপেক্ষা করে পরিবেশ অভিমত সমীক্ষা (ইআইএ) না করে এলাকার মানুষের জমি দখল করেছে এবং মানুষ উচ্ছেদ করেছে। প্রতিবাদকারীদের উপর পুলিশ ও সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এর পরে প্রতারণামূলকভাবে ইআইএ রিপোর্ট সম্পন্ন করা হয়। গত ১২ এপ্রিল ইআইএ রিপোর্ট পর্যালোচনার জন্য বিদ্যুৎ মন্ত্রনালয় একটি পর্যালোচনা সভার আয়োজন করে। উক্ত সভায় বিশেষজ্ঞরা ইআইএ রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে নতুন ইআইএ রিপোর্ট প্রণয়ন করার জন্য দাবী জানান। নতুন রিপোর্ট না হওয়া পর্যন্ত এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখারও দাবী জানানো হয়। ইআইএ রিপোর্ট এভাবে প্রত্যাখ্যাত হবার পরেও সরকার সকল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিধি লংঘন করে বিশ্বের অন্যতম সম্পদ সুন্দরবন ধ্বংস করার এই প্রকল্প চুড়ান্ত করেছে।

আমরা বারবার বলেছি, বিদ্যুৎ সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশের স্বার্থ নিশ্চিত করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্টের সমস্যা কমিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অন্যকোনো উপযুক্ত স্থানে তা স্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু সুন্দরবনকে ধ্বংস করে, সম্পূর্ণ বেআইনী অস্বচ্ছ ও জবরদস্তিমূলক প্রক্রিয়ায় দেশের স্বার্থবিরোধী এই প্রকল্প আমরা কোনোভাবেই মানতে পারি না।  সকল যুক্তি তথ্য অগ্রাহ্য করে সরকার যেভাবে এই জাতীয় স্বার্থবিরোধী প্রকল্প নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে তা প্রতিরোধ না করলে বাংলাদেশ এক ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হবে।

৪৫ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে
১৯৯৭ সালের ১৪ জুন রাতে সিলেটের ১৪ নম্বর ব্লকের সুরমা বেসিনে মাগুড়ছড়ায় ভয়ংকর বিস্ফোরণ হয়। মাগুড়ছড়া বিস্ফোরণে তদন্ত কমিটির রক্ষণশীল হিসাবেও গ্যাসসম্পদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৪৫ বিলিয়ন ঘনফুট। এছাড়া পরিবেশ এর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা দীর্ঘমেয়াদের এবং পুরোটা পরিমাপযোগ্য নয়। ১৯৯৯ সালে ইউনোক্যাল নামে আরেকটি মার্কিন কোম্পানির সাথে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ব্যবসা কার্যক্রম বিনিময় করে অক্সিডেন্টাল চলে যায়। মাগুড়ছড়ার ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোন ফয়সালা না করেই সরকার তাদের এই বিনিময় সম্পাদন করতে দেয়। পরবর্তীকালে ইউনোক্যাল-এর ব্যবসা গ্রহণ করেছে আরেকটি মার্কিন কোম্পানি শেভরন। এখন এই কোম্পানির কাছ থেকেই আমাদের পাওনা আদায় করতে হবে।

টেংরাটিলা নামে পরিচিত ছাতক গ্যাসফিল্ডে ২০০৫ সালে ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন পরপর দুটো বিস্ফোরণ ঘটে। কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতার জন্যই এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটে। কিন্তু সরকারি দিক থেকে নানাভাবে এই ক্ষতি কম করে দেখানোর প্রবণতার কারণে দেশের বিশিষ্ট ভূবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, অর্থনীতিবিদরা নিজেদের উদ্যোগে ঐ অঞ্চল সফর করেন এবং ক্ষয়ক্ষতির কারণ ও পরিমাণ নির্ণয় করেন। পুরো গ্যাসক্ষেত্র নষ্ট হলে পেট্রোবাংলার প্রতিবেদন মতে তার পরিমাণ ৩০৫.৫ বিসিএফ আর বাপেক্স-নাইকো’র রিপোর্ট মতে ২৬৮ বিসিএফ।

গড় হিসাব বিবেচনা করলে মাগুড়ছড়া ও ছাতক টেংরাটিলার বিস্ফোরণগুলোতে বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত প্রমাণিত সর্বমোট গ্যাস মজুতের মধ্যে কমপক্ষে প্রায় ৫৫০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ধ্বংস হয়েছে। অন্যান্য ক্ষতি তো আছেই। পরিবেশ অধিদপ্তর, স্বাধীন বিশেষজ্ঞ দল, পেট্রোবাংলা এবং অর্থনীতি সমিতির হিসাব ও সমীক্ষা পর্যালোচনা করে আমরা দেখেছি, মাগুড়ছড়া ও টেংরাটিলায় গ্যাস সম্পদের ক্ষতির হিসাবে মার্কিন ও কানাডার কোম্পানির কাছে আমাদের পাওনা দাঁড়ায় কমপক্ষে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। আমরা যদি দীর্ঘমেয়াদে জীববৈচিত্র বিপর্যয়সহ পরিবেশ ক্ষতি বিবেচনা করি, যদি মানবিক ক্ষতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিবেচনা করি, যদি এই গ্যাস সম্পদের অভাবে বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের হিসাব যোগ করি তাহলে ক্ষতির পরিমাণ আরও  অনেক বাড়বে। উল্লেখ্য যে, যে পরিমাণ গ্যাস এই দুটো ক্ষেত্রে নষ্ট হয়েছে তা দিয়ে বর্তমান হিসাবে প্রায় দুই বছরে সারাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব ছিল।

এই অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা নিলে পাঁচ বছর কোনো ‘বিদেশি সাহায্যের’ যুক্তি থাকবে না। দুটো পদ্মা সেতু করেও হাতে টাকা থাকবে। অর্থাৎ জ্বালানী খাত শুধু নয়, অন্যান্য খাতেও কার্যকর অনেক পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব এই অর্থ দিয়ে। কিন্তু আগের সরকারগুলোর মতো এই সরকারও এই অর্থ আদায় করে তা বাজেট প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাচ্ছেন না। আমরা এই ক্ষতিপূরণের অর্থ বাজেটে আয় হিসেবে যাতে কয়েক বছর ব্যবহার করা যায় তার জন্য জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবে সক্রিয় হবার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। বিভিন্ন সরকার যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার কাছে সবসময় দয়াদাক্ষিণ্য অনুগ্রহ প্রার্থণা করেন। কিন্তু তাদের অপরাধে তাদের কাছে আমাদের পাওনা দাবি করবার কন্ঠ সরকারের মধ্য থেকে কখনো সরব হয় না।

জনস্বার্থে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়ে নীতিগত অবস্থান কী হতে হবে ?
স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের জন্য কয়েকটি নীতিগত দিক নিশ্চিত না করে বরাদ্দ বা ভর্তুকি বৃদ্ধি করলে যে তলাহীন ঝুড়ির পরিণতি হবে তার প্রমাণ আমরা সবসময়ই পাচ্ছি। যা অবশ্য করণীয় তার মধ্যে আছে প্রথমত, গ্যাস ও কয়লা সম্পদে জাতীয় মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে। শতকরা একশ ভাগ গ্যাস ও শতকরা একশ ভাগ কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবহার করতে হবে বলেই এই কয়লা বা গ্যাস বিদেশী মালিকানায় দেওয়া যাবে না, বিদেশে পাচার করার লক্ষ্যে রপ্তানিমুখী কোনো চুক্তিও তাই থাকা চলবে না। দুর্নীতি করবার দায়মুক্তি আইন বাতিল করে রফতানি নিষিদ্ধ করবার আইন করতে হবে। এসব চুক্তি বা গোপন সমঝোতা বাতিল করলেই গ্যাস ও কয়লাসহ খনিজ সম্পদের উপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হবে, আমাদের জাতীয় সক্ষমতা বিকাশের পথও প্রশস্ত হবে। অনেক কম দামে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব হবে। দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎকে গণসেবাভিত্তিক পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে, এবং শুধু সম্পূরক হিসেবে বেসরকারি দেশীয় মালিকানায় বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপনের নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনার ও বিদ্যুৎ খাতকে বহুজাতিক কোম্পানির হাতে জিম্মি করবার বিদ্যমান নীতি, চুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, বিদ্যুৎ খাতে আশু কাজ হচ্ছে, রেন্টাল পাওয়ারের চুক্তি বাতিল করে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ প্লান্ট চালু, মেরামত ও নবায়ন করা। মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বৃহদাকার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানীভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে। চতুর্থত, জাতীয় সম্পদের উপর জাতীয় কর্তৃত্ব নিশ্চিত করবার জন্য জাতীয় সক্ষমতার বিকাশ ঘটাতে হবে। এজন্য বাপেক্স, পেট্রোবাংলা, জিওলজিক্যাল সার্ভে ও ব্যুরো অব মিনারেল ডেভেলপমেন্ট এর যথাযথ উন্নয়ন এবং অবিলম্বে প্রস্তাবিত খনি বাংলা কার্যকর জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসাবে দাঁড় করতে হবে। খনিজ সম্পদ উন্নয়ন  ও তার সর্বোত্তম ব্যবহারে জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য বিশ্ববিদ্যলয় পর্যায়ে আরও বিভাগ এবং জাতীয় ভাবে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে হবে। এ কাজে প্রবাসী বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞ ও প্রয়োজনে বিদেশী বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগাতে হবে। পঞ্চমত, বেআইনীভাবে বাংলাদেশের কয়লা দেখিয়ে বিদেশে শেয়ার ব্যবসার অর্থ জরিমানা হিসেবে আদায করে, এশিয়া এনার্জিকে (জিসিএম) দেশ থেকে বহিষ্কার ও উন্মুক্ত খনন পদ্ধতি নিষিদ্ধ সহ ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। এবং কয়লা সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিতে হবে। ষষ্ঠত, সুন্দরবনের সর্বনাশ করে, দেশের লুটেরা গোষ্ঠী ও ভারতীয় কোম্পানির মুনাফার জন্য গৃহীত দেশের পরিবেশ তথা রামপালে কয়লাভিত্তিক বৃহদাকার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম বাতিল করতে হবে। সপ্তমত, জাতীয় স্বার্থ, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিবেশ ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য ও অনাবায়যোগ্য জ্বালানী সম্পদের সর্বোত্তম মিশ্রণ ঘটিয়ে একটি জ্বালানী নীতি প্রণয়ন করে তার জন্য প্রয়োজনীর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্মাণ শুরু করতে হবে।
বাজেটে যা নিশ্চিত করতে হবে
এই নীতিগত অবস্থান থেকে কাজ করবার জন্য বর্তমান বাজেটে করণীয় সম্পর্কে আমাদের প্রস্তাব: আমাদের প্রস্তাব জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জন্য আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই বছরে প্রয়োজনীয় থোক বরাদ্দ রাখতে হবে। এই অর্থ দিয়ে জ্বালানী সম্পদ উন্নয়নে (ক) পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স-এ শূণ্যপদ পূরণ করে ও প্রয়োজনে জনবল বৃদ্ধি করে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য সবরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। (খ) প্রয়োজনে বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠাতে হবে, বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক আনতে হবে। পেট্রোলিয়াম ইন্সটিটিউটকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে। (গ) প্রবাসী বাংলাদেশি দক্ষ বিশেষজ্ঞদের দেশে জ্বালানী সম্পদ উন্নযনে ভুমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করতে হবে। (ঘ) আধুনিক ও সমৃদ্ধ যন্ত্রপাতির সম্ভার গড়ে তুলতে হবে। (ঙ) ভূতত্ত্ব জরীপ বিভাগকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে। (চ) জাতীয় সংস্থার মাধ্যমে নতুন নতুন অনুসন্ধানের জন্য বরাদ্দ দিতে হবে। (ছ) বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে দক্ষতা অর্জন ও প্রযুক্তি সংগ্রহের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। (জ) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খনি প্রকৌশলী, ভূতত্ত্ববিদ, বিশেষজ্ঞ তৈরির জন্য নতুন বিভাগ খোলা, পুরনো বিভাগগুলো শক্তিশালী করা এবং প্রয়োজনীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথকভাবে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। (ঝ) দেশের একমাত্র রিফাইনারির ধারণক্ষমতা ১৫ লক্ষ টন। গত বছর তেল আমদানি হয় ৬০ লক্ষ টন। রিফাইনারীর  ধারণক্ষমতা বাড়ালে অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যয় কম হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। (ঞ) বিদ্যুতের চাহিদার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একটি ছোটখাট এসি যে পরিমাণ বিদ্যুৎ টানে তাতে ৫০টি ফ্যান চলতে পারে। যদি এসি বড় হয় তা ২০০টি পরিবারকে বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত করে। এরকম অবস্থায় এসির জন্য বাড়তি শুল্ক ও করের আওতায় আনতে হবে।

কর্মসূচি
মুক্তিযদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী  অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য উপরের পদক্ষেপগুলোর কোনো বিকল্প নেই। সেজন্য এসব বিষয়ে জনগণকে নিয়ে আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প বাতিল করে বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে জাতীয় কমিটির উপরোক্ত ৭ দফা দাবি পূরণে আগামী ২৪-২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ঢাকা রামপাল লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এটি একটি জাতীয় হুমকি, সুতরাং এর বিরুদ্ধে জাতীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আরও বিস্তৃত করতে দেশবাসির প্রতি আমরা আহবান জানাই। সুন্দরবনের পক্ষে সম্প্রতি লক্ষ লক্ষ তরুণ ভোট দিয়েছেন। সুন্দরবন রক্ষার জন্য বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও সংগঠন কথা বলছেন। আমরা আশা করি, সুন্দরবন ধ্বংসের বিরুদ্ধে তাঁরাও এই প্রতিরোধে যোগ দেবেন।

এছাড়া আগামী ১৪ জুন মাগুড়ছড়া দিবস পালনসহ ৫ জুন থেকে ২০ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী সভা সমাবেশ, মতবিনিময় ও পদযাত্রা কর্মসূচি নেয়া হবে।
আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

সংবাদ সন্মেলন

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি
৩ জুন ২০১৩, শহীদ তাজুল মিলনায়তন, পুরানা পল্টন, ঢাকা।