Wednesday, February 13th, 2013

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইআইএ বিশ্লেষণ: জনগণের চূড়ান্ত মতামতের আগে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ বন্ধের দাবি

সুন্দরবনের কাছে প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব নিরুপন (ইআইএ) নিয়ে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি’র মতবিনিময় সভায় বলা হয়েছে, প্রকল্পের স্থান চূড়ান্ত করণ ও জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরের যাবতীয় কাজ শেষ হওয়ার পর এ ধরনের সমীক্ষা করা ও তার জন্য জনসাধারণের মতামত চাওয়াটাই হাস্যকর। সভায় বলা হয় প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার ইংরেজিতে লেখা ওয়েব সাইটে দেওয়া রির্পোটের উপরে স্বল্প সময়ে মতামত চাওয়া অর্থ অধিকাংশ মানুষকে না জানিয়ে ওই রির্পোটকেই চূড়ান্ত করা। সভায় বক্তারা পুরো রির্পোট বাংলাতে প্রস্তুত, ব্যাপক প্রচার, ব্যাপক আলোচনা ও জনসাধারণের মতামত নিয়ে এ বিষয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জনগণের চূড়ান্ত মতামতের আগে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সবকাজ বন্ধের দাবি জানানো হয়।

১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় পুরানা পল্টনস্থ মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়ে ইআইএ-এর বিশ্লেষণ সম্পর্কিত লিখিত বক্তব্য উত্থাপন করেন প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা। বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মুশাহিত সুলতানা, বেলার তাসলিমা ইসলাম, জাতীয় কমিটির সংগঠক ও সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, গণসংহতি আন্দোলনের অ্যাড. আব্দুস সালাম, শ্রমিক-কৃষক সমাজবাদী দলের সিদ্দিকুর রহমান, ওয়ার্কার্স পার্টির রাগিব আহসান মুন্না, কমিউনিস্ট লীগের নজরুল ইসলাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মীর মোফাজ্জেল হোসেন, বাসদের মহিন উদ্দিন চৌধুরী, মজদুর পার্টির শামসুল আলম প্রমুখ।

ইআইএ রিপোর্টের পর্যালোচনায় বলা হয় ২৭০ মিটার উচ্চতার চিমনী ধোয়ায় কোনো ক্ষতি হবে না হচ্ছে। অথচ সাইক্লোন ও টরনেডো কালে বাতাসের গতি যে কোনো দিকে হতে পারে। সে সময় এবং শীতকালে যখন কেন্দ্র থেকে বনের দিনে অনবরত প্রচুর ধোয়া প্রবাহিত হবে তখন অবশ্যই সুন্দরবনের ক্ষতি হবে।

এছাড়া আকরাম পয়েন্টে যে কয়লা বড় নৌযান থেকে ছোট নৌযানে স্থানান্তরিত করা হবে তাতে সুন্দরবনের বন এবং পশু-প্রাণীর কি ক্ষতি হবে তা বিস্তারিত সমীক্ষা করা হয়নি। ১৩২০ মেগাওয়াটের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৩ হাজার টন কয়লা লাগবে। অর্থাৎ দ্বিতীয় পর্যায়ের শেষে ২৬ হাজার টন কয়লা লাগবে।

Environmentally critically area-এর জন্য ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ সাধারণভাবে প্রযোজ্য হলেও বড় আকারের কয়লা পোড়া ধোঁয়ার দূষণের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে না।

Make up water পশুর নদী থেকে নেওয়ার হবে এবং তা থেকে লবন দুরীকরণ হবে বলা হচ্ছে। অথচ লবন দুর করা ব্যবস্থাদি কীভাবে যথেষ্ট করা হবে তা বলা হয়নি। এছাড়া প্রকল্প প্রস্তাবে যে সব তথ্য দেওয়া হয়েছে তা যথার্থ ও বাস্তবায়ন হবে কী না সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য উপাত্ত নেই।

লিখিত বক্তব্য কল্লোল মোস্তফা ইআইএ-র বিষয়ে আলোচনা করে বলেন, ইআইএ-এর রির্পোটে ভুল মানদ- ব্যবহার, ক্ষতি প্রভাব কমিয়ে দেখানো, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষতির মাত্রার কোনো পর্যালোচনাই না করা, ‘হতে পারে’, ‘না হওয়া সম্ভাবনাই বেশি’, ‘সুযোগ কম’ জাতীয় বিশেষণ ব্যবহার করে ক্ষতির মাত্রাকে হালকা ভাবে উপস্থান ইত্যাদির মাধ্যমে সুন্দরবনের পাশে ১৩২০ মেগাওয়াটের এই কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে জায়েজ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা সত্ত্বেও, এরপরও খোদ রির্পোটে বিদ্যু কেন্দ্র নির্মাণ, পরিচালনা ও কয়লা পরিবহণের ফলে সুন্দরবনের উপর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে এমন সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে যা প্রস্তাবিত কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পকে পরিবেশগত বিবেচনায় অগ্রহণযোগ্য বিবেচনা করার জন্য যথেষ্ট।

এছাড়া এখানে ২৬৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে বলে বলা হচ্ছে। অথচ ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিবেশগত সমীক্ষা করা হয়েছে।

মতবিনিময় দেশের বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবীদদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করে রির্পোট প্রণয়নের দাবি জানিয়ে বলাহয়, এটি না করে বর্তমান রির্পোটকে সামনে রেখে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে এটি অনিবার্য হবে সুন্দরবনকে ধ্বংস ডেকে আনবে।