Monday, December 10th, 2012

পিএসসি ২০১২: সরকার আবারও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তির দিকে যাচ্ছে

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ১০ ডিসেম্বর ২০১২ এক বিবৃতিতে বলেছেন, বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার ‘পুঁজির অভাব’, ‘দক্ষতার অভাব’ বাহানা তুলে ‘পিএসসি ২০১২’ এর মাধ্যমে সমুদ্রবক্ষের আরো ১২টি ব্লক বিদেশি কোম্পানিকে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পেট্রোবাংলা। যেসব কর্তাব্যক্তি বলেন জাতীয় সংস্থার পক্ষে এই দায়িত্ব পালন সম্ভব নয় তারা নিজেরা অযোগ্য কিংবা অসৎ, তাই তাদের অপসারণই সরকারের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিৎ। যেখানে শত হাজার কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে সেখানে ‘পুঁজির অভাব’ এর যুক্তি প্রতারণা ছাড়া আর কিছু না।

এর আগে ২০১১ সালে দুটো ব্লক কনোকো-ফিলিপস এর হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। আমরা  এর আগে থেকেই সমুদ্রের বিরাট সম্পদের উপর জাতীয় কর্তৃত্ব এবং এই সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবার জন্য জাতীয় সংস্থার মালিকানায়, প্রয়োজনে সাব কন্ট্রাক্ট এর মাধ্যমে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের দাবি জানিয়ে আসছি। দক্ষতার কথা বলে কনোকো-ফিলিপস এর হাতে গ্যাসব্লক গুলো তুলে দেয়া হলেও এখন দেখা যাচ্ছে তারা চীনা সাব কন্ট্রাক্টারদের মাধ্যমে কাজ করছে। এই ব্যবস্থাপনার কাজ পেট্রোবাংলার পক্ষেই সম্ভব ছিল। কিন্তু তাতে বর্তমানের মতো সমুদ্রের গ্যাস সম্পদ থেকে বাংলাদেশের বঞ্চিত হবার অবস্থা তৈরি হতো না।

আন্দোলন ও জনমতের চাপে পিএসসি ২০১২-তে রফতানির বিধান রাখা হয়নি। কিন্তু এটা খুব সহজেই বোধ্যগম্য যে, আরও ব্লকে গ্যাস পাওয়া গেলে তখন উদ্বৃত্তের অজুহাতে কনোকো-ফিলিপসকে রফতানির পূর্ণ অধিকার দিতে আর কোন বাধাই থাকবে না। এছাড়া এই দলিলে তৃতীয় পক্ষের কাছে গ্যাস বিক্রির সুযোগ, জয়েন্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটি, গ্যাসের বর্ধিত দাম, ব্যবস্থাপনায় কর্তৃত্ব ইত্যাদির মাধ্যমে সম্পদের উপর বিদেশি কোম্পানির মালিকানা ও কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের গ্যাস ও অন্যান্য সম্পদের ওপর বাংলাদেশের ভবিষ্যতের বিশাল সম্ভাবনা নির্ভর করে। সরকার সেই সম্পদ নানা বাহানা তুলে একের পর এক বহুজাতিক কোম্পানির হাতে তুলে দিচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বিজয়ের মাসে সরকারের এই উদ্যোগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আরেকটি বড় আঘাত বলেই আমরা মনে করি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সপক্ষ সকল শক্তিকে এসব তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হবার আহবান জানাই।

আমরা আমাদের দাবি আবারো পুনর্ব্যক্ত করছি যে, জাতীয় সংস্থার কর্তৃত্বেই তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলন করতে হবে। এটা শুধু সম্পদের উপর কর্তৃত্ব নয় জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্যও অপরিহার্য।