Wednesday, November 28th, 2012

২৩-২৫ গণপ্রতিরোধ: ফুলবাড়ীর সাহস ও নিশানা

২৩ নভেম্বর সকালেই আমরা ফুলবাড়ী রওনা হয়েছিলাম। বিকেল ৩টায় সেখানে তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির প্রতিবাদ সমাবেশ। এই প্রতিবাদ সমাবেশের কারণ এর আগের কয়েক সপ্তাহের কিছু ঘটনা ও তৎপরতা। এর মধ্যে আছে প্রথমত, বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রচার। দ্বিতীয়ত, ফুলবাড়ীসহ ৬ থানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেরিত সার্কুলার। এবং তৃতীয়ত, দিনাজপুর এলাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদুতের সফর।

সরকার গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের বক্তব্য নিয়ে সকল জাতীয় পত্রিকায় প্রায় অভিন্ন শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয় ২২ অক্টোবর। শিরোনামে বলা হয়, বিশেষজ্ঞ কমিটি উন্মুক্ত খননের পক্ষে সুপারিশ করেছে। সেই বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট তখনও এবং এখনও সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়নি, প্রকাশিতও হয়নি। প্রকৃতপক্ষে রিপোর্টের বক্তব্য এতো সরল নয়।

নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহেই আমরা জানতে পারি যে, দিনাজপুর জেলা ও ফুলবাড়ীসহ ৬ থানায় এশিয়া এনার্জি যাতে নির্বিঘেœ ‘জরীপ কাজ’ চালাতে পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রশাসন ও পুলিশ কেন্দ্রগুলোতে নির্দেশ পাঠিয়েছে। তাদের প্রেরিত এই সার্কুলারে তারিখ দুটো, একটি ১৪ অক্টোবর, অন্যটি ৩১ অক্টোবর। সবাই বিস্মিত, হঠাৎ করে এই সার্কুলার কীভাবে আসে? তাহলে বিশেষজ্ঞ কমিটি কেন? এশিয়া এনার্জি নামে কয়লা খনি বিষয়ে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ, আর সেই সাথে জালিয়াতি ও মানুষ হত্যার দায়ে অভিযুক্ত এই কোম্পানি বহিষ্কার এবং উন্মুক্ত খনি নিষিদ্ধসহ ৬ দফা ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন ছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার। তার তবে কী হল? খুনী, দুর্বত্ত ধরতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অচল হয়ে আছে, আর বিতাড়িত কোম্পানিকে নিয়ে জনগণের মুখোমুখি সংঘাতে যেতে তার এতো সক্রিয়তা কোথা থেকে আসে? ফোনে সার্কুলারের খবর জানাতে গিয়ে ফুলবাড়ীর মানুষই আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি এশিয়া এনার্জির লাঠিয়াল বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্র্ণ হতে চায়? তারা কি এখানকার পরিস্থিতি জানে না? এশিয়া এনার্জির কাজ করতে এখানে কারও ঢোকার ক্ষমতা নাই। মাঝখানে শুধু অশান্তি হবে।’

ফুলবাড়ীতে এশিয়া এনার্জির উন্মুক্ত খনি প্রকল্প নিয়ে গত কয়েকটি সরকারের তৎপরতাই বরাবর অস্বচ্ছ, নানারকম বৈপরীত্যে ভরা। বর্তমান সরকার একদিকে বলে যাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের মতামত ও জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করেই কয়লা উত্তোলন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে; অথচ সেসব না করেই চলে যাচ্ছে সার্কুলার! প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার তো আছেই, কিছুদিন আগেই তিনি বললেন, মানুষ পানি মাটি ধ্বংস করে উন্মুক্ত খনি করা যাবেনা। কয়লা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মজুত থাকুক, প্রযুক্তির বিকাশ হলে করা যাবে। কিন্তু জ্বালানী বিষয়ক সংসদীয় কমিটি জার্মানী ঘুরে এসে উন্মুক্ত খনির পক্ষে প্রচারণা চালিয়েই যাচ্ছে। নানাসময়ে উন্মুক্ত খনির পক্ষে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছেন অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের নানা সদস্য। এসব গোপন প্রকাশ্য, হ্যাঁ না তৎপরতাই মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস, সন্দেহ এবং সতর্কতার প্রধান কারণ।

মার্কিন দূতাবাসের ভ’মিকা নিয়েও কথা ওঠেছে নানাভাবে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টি প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী উপদেষ্টাকে এশিয়া এনার্জির উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ফুলবাড়ীর কয়লা উত্তোলনের জন্য যে চাপ দিয়েছেন, এবং জ্বালানী উপদেষ্টা যে সে অনুযায়ী কাজ করবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা উইকিলিকসেই প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বিভিন্ন সভা সমাবেশে প্রাসঙ্গিক অপ্রাসঙ্গিকভাবে যেভাবে এই প্রকল্পের পক্ষে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন তাতে এটা বোঝা যায় যে, তিনিও একই পথে অগ্রসর হচ্ছেন। গত ১০ নভেম্বর থেকে ৪দিন ধরে তাঁর দিনাজপুরের বিভিন্ন অঞ্চল সফর ও কথাবার্তা নিয়েও তাই অনেক প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

২.
অনেকরকম ধরাধরি, চাপ, লবিং, মিডিয়াসহ নানাক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার সহ বহুবিধ গোপন প্রকাশ্য তৎপরতা সত্ত্বেও এশিয়া এনার্জি বা জিসিএম এর ফুলবাড়ী উন্মুক্ত খনি কয়লা প্রকল্পের বিরুদ্ধে তথ্যযুক্তি ক্রমে বাড়ছেই। সরকার বহুরকম কমিটি গঠন করেছে: ২০০৬ সালে নূরুল ইসলাম কমিটি, ২০০৭ সালে পাটোয়ারী কমিটি, আবার ২০০৮ সালে তার পর্যালোচনা কমিটি, সর্বশেষ ২০১১ সালে মোশাররফ কমিটি। অনেকরকম অসঙ্গতি ও স্ববিরোধিতা থাকলেও, নানা চাপ সত্ত্বেও, কোনটিই এই কোম্পানির দেয়া প্রকল্পের পক্ষে রায় দিতে সক্ষম  হয়নি। বরং দেশে বিদেশে তাদের প্রকল্প নিয়ে অনেক ভয়াবহ দিক উন্মোচিত হবার পর ২০০৮ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এই প্রকল্প থেকে সরে গেছে। কয়েকমাস আগে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল এই প্রকল্প নিয়ে অগ্রসর না হতে সরকারকে বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছে।

সর্বশেষ রিপোর্টে (জানুয়ারী, ২০১২) বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণে বাংলাদেশে উন্মুক্ত খনির ভয়াবহ ঝুঁকিই বরং বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। বলা হয়েছে, “উন্মুক্ত খনি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে, কিন্তু পরিবেশের বিপর্যয়ের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক ও প্রতিবেশগত ক্ষতি বর্ধিত কয়লা উত্তোলনের থেকে প্রাপ্ত সুবিধার তুলনায় অনেক বেশি।” (পৃ. ১৫)

ফুলবাড়ীর কয়লা প্রকল্পের  মারাতœক ঝুঁকি নিয়ে রিপোর্টে বিস্তৃত বলা হয়েছে। এর মধ্যে পানিশুণ্য করতে গিয়ে মরুকরণ, সমগ্র অববাহিকা জুড়ে ভ’গর্ভস্থ ও ভ’পরিস্থ পানির দীর্ঘ মেয়াদের দূষণ, বিশাল আকারের  বর্জ্যরে মজুদের টাইম বোমার মত অবস্থা তৈরী, প্রায় দশ লক্ষ মানুষের পূনর্বাসন জটিলতা সামাজিক অস্থিরতা ও সংঘর্ষের উচ্চ মাত্রার ঝুঁকি তৈরী, ৩৮ বছর ধরে প্রতিদিন ৮০ কোটি লিটার ভূগর্ভস্থ পানি প্রত্যাহার করায় দেশে মহাবিপর্যয় এগুলোর মধ্যে অন্যতম। (পৃ:৩০- ৫২)

বলা হয়েছে, “প্রতি ১ মে. টন কয়লা উত্তোলনের জন্য ২৫ মে. টন ওভারবার্ডেন সরাতে হবে। এই ভূগর্ভস্থ দ্রব্য যেগুলো প্রধানত দূষিত, তা রাখতে হবে পাশ্ববর্তী কৃষি জমি জলাশয় ও নদীতীরে। এগুলো যে শুধুমাত্র আশেপাশের জলাশয়কে দূষিত করবে তাই নয়, তার নীচের দিকের সকল নদী, খাল ও জলাভ’মিকে ভয়াবহ মাত্রায় দূষিত করবে। …বৃষ্টির কারণে অনেক বর্জ্য পানিতে ধুয়ে যাবে এবং তা জমি, নদী, জলপ্রবাহ, নদীকে বিষাক্ত করবে।” (পৃ. ৪৯) রিপোর্টে অষ্ট্রেলিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া কিংবা জার্মানির সঙ্গে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি, ভূ-তাত্ত্বিক ও জনসংখ্যাগত দিক ইত্যাদির তুলনা খারিজ করে বলা হয়েছে বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতিতে উন্মুক্ত খনির কোন নজির নেই।

এতোসব ভয়াবহ ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করবার পরও রিপোর্টের শেষে গিয়ে বড়পুকুরিয়ায় বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে উন্মুক্ত খনন করবার প্রস্তাব করা হয়েছে! কীভাবে এটা হতে পারে?

৩.
পথেই আমরা প্রথমে শুনলাম প্রশাসন থেকে সভার কাজ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। এর কয়েক মিনিটের মাথায় শুনলাম ১৪৪ ধারা জারী করা হয়েছে। একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ বন্ধ করতে, ১৮৮৯ সালের এই ধারা কার্যকর করবার জন্য দিনাজপুর জেলার এসপির নেতৃত্বে ১০টি থানার ওসি ও প্রায় ৪শ’ পুলিশ ও এর বাইরে র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা নির্ধারিত সভাসময়ের দশ মিনিট আগেই গিয়ে পৌঁছলাম। ততক্ষণে পুরো এলাকা পুলিশে ভরা। পরিস্থিতির অন্যদিকটিও ক্রমেই নজরে এলো। পুরো শহরের অলিগলিতে মানুষ। মেয়েরাও ছোট ছোট জটলায়। সবার চেহারা ভারী। পুলিশ অফিসার ও সরকারী কর্মকর্তারা আমাদের সরে যেতে বললেন। আমরা লিখিত চিঠি চাইলাম, কোন এলাকায় ১৪৪ জারী করা হয়েছে তার বিবরণ ও কেনো এটা করা হলো তার ব্যাখ্যা চাইলাম। তাঁরা কোন সদুত্তর দিতে পারলেন না। জানি পারবেন না। কারণ এটা ‘উপরের নির্দেশ’, তাঁদের কিছু করার নেই। ততক্ষণে প্রশাসনের মাইকে বলা হচ্ছে ‘উচছৃঙ্খল জনতার..’ আমরা এই উস্কানিমূলক মিথ্যাচার বন্ধ করতে বললাম।

পরিস্থিতি যা তাতে হরতাল ঘোষণা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না। বস্তুত, এই সিদ্ধান্ত এলাকার মানুষ আগেই নিয়ে রেখেছিলেন। এই ঘোষণার আগেই ছোট ছোট মিছিল শুরু হয়েছে। গলিতে সভা সমাবেশ চলছে। ক্রমে এগুলোর সংখ্যা বাড়ছে। কর্মসূচী ঘোষণা দিয়ে শহীদুল্লাহ ভাইসহ আমরা রাস্তায় হাঁটতে থাকলাম। আমাদের সামনে ততক্ষণে চলতে শুরু করেছেন এইকালের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বাবলু রায়। ২০০৬ সালের ২৬ আগষ্ট গুলিবিদ্ধ হবার পর যাঁর দুটো পা চিরতরে অচল হয়েছে। আগে তিনি ভ্যান চালাতেন। এখন হুইল চেয়ারে। মনোবল এখন আরও শক্ত। হাঁটতে হাঁটতে দেখলাম, সরকার ১টি সমাবেশ বন্ধ করেছে, কিন্তু কার্যত ৮/১০টি সমাবেশ হচ্ছে। মিছিলের সংখ্যা আরও বেশি। ফুলবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবলু ও পৌর মেয়র মানিক সরকার রাস্তায়। মিছিলে। সাইফুল জুয়েল, জয়প্রকাশ, মজিদ চৌধুরী, নূরুজ্জামান, জিতুপ্রসাদ, সানিসহ জাতীয় কমিটির অন্য নেতৃবৃন্দও বিভিন্ন মিছিলে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র এলাকায় বিপুল ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। নির্বাচনে তাঁদের এজেন্ডাই ছিল ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়ন। সুতরাং সরকার যখন জনগণের বিপক্ষে পুলিশ দিয়ে নেমেছে তখন জনগণের কাছে দায় থেকেই তাঁরা এর প্রতিবাদে নেমেছেন। এই ভ’মিকার প্রতিশ্রুতি দিয়েই তাঁরা নির্বাচিত হয়েছিলেন, এই ভ’মিকায় তাঁদের থাকতেই হবে। আমাদের সবারই শহীদের রক্তের দায়।

বেশি সময় লাগে নি। ঘন্টাখানেকের মধ্যে সবগুলো খন্ড খন্ড মিছিল একসঙ্গে হল। প্রায় ১৫ হাজার মানুষ তখন প্রধান রাস্তায়। হাতে লাঠি ও ঝাঁটা নিয়ে মেয়েদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। পুলিশের দখলমুক্ত হল সভামঞ্চ ও শহর। নির্ধারিত সময়ের দেড়ঘন্টা পর সমাবেশের কাজ শুরু হল। পরেরদিন হরতালও ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির হরতাল দেখে দেখে আমরা অতীষ্ট- এগুলো জনশুণ্য, সন্ত্রাসনির্ভর আর ক্ষমতালোভের মহড়া। কিন্তু ফুলবাড়ীর হরতাল ছিল প্রকৃতই জনগণের হরতাল। জীবন, সম্পদ ও দেশকে দেশি বিদেশি লুটেরা দখলদারদের হাত থেকে রক্ষার জন্য স্বতস্ফুর্ত মানুষের প্রতিরোধের ভাষা এই হরতাল। রাস্তায় সারাক্ষণই হাজার হাজার মানুষ।

২৫ তারিখ দিনাজপুর জেলা প্রশাসকসহ সরকারের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসলেন। তাঁরা সকল দাবীদাওয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল উল্লেখ করে বললেন: ‘১. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় প্রেরিত সার্কুলার আর কার্যকর থাকবে না। ২. এশিয়া এনার্জির তালা মারা অফিস অবিলম্বে সরানো হবে। ৩. ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে হরতাল স্থগিত করে জানানো হয়েছে, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব দাবী পূরণ না হলে আন্দোলনের বৃহত্তর কর্মসূচী দেয়া হবে।

রাষ্ট্র যদি জনগণের জীবন ও সম্পদ কেড়ে নেবার আয়োজন করে তাহলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাংবিধানিক এখতিয়ার জনগণের আছে। পাহারাদারের দায়িত্ব তাদেরই। মুক্তিযুদ্ধের এই বাংলাদেশে এখন দেখি, মানুষের মতো তুচ্ছ আর কিছু নাই! তার জীবনের দাম সবচাইতে কম, তার সম্পদের ওপর শকুনের নজর সর্বক্ষণ। এই ‘তুচ্ছ’ মানুষই ইতিহাসে বারবার নিজের অন্তর্গত শক্তি সামনে এনে দেখিয়েছেন যে, এই দেশ তাদের, এই দেশের সম্পদের প্রতিটি কণা দেশের মানুষের, দেশি বিদেশি লুটেরাদের জন্য দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের সর্বনাশ তারা হতে দেবে না। এটাই মুক্তিযুদ্ধ! লুটেরা দখলদারদের দাপট, নৃশংসতা অমানবিকতার অসহ্য সমাবেশের মধ্যে জনগণের এই উত্থানই আমাদের শ্বাস প্রশ্বাস, আমাদের সামনে আশার বাতি। ২৩ নভেম্বর ফুলবাড়ীর মানুষ সভামঞ্চ শহর দখলমুক্ত করেছেন, দেখিয়েছেন সজাগ মানুষের ঐক্য ও শক্তি দেশকেও দখলমুক্ত করবার ক্ষমতা রাখে।

২৭ নভেম্বর ২০১২