Tuesday, November 13th, 2012

প্রধানমন্ত্রী বরাবর জাতীয় কমিটি,ফুলবাড়ি শাখা’র স্মারকলিপি পেশ

গত ১৩ নভেম্বর ২০১২ তারিখ তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি’র ফুলবাড়ি শাখা’র পক্ষ থেকে – এশিয়া এনার্জিকে সহযোগীতা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশ বাতিল এবং ফুলবাড়ি চুক্তির ৬ দফা বাস্তবায়নের দাবীতে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারক লিপি পেশ করা হয়। স্মারক লিপির বক্তব্যটি এখানে তুলে ধরে হলো:

জনাব,

আপনি অবগত আছেন যে, দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ীসহ চার থানা খনিজ সমৃদ্ধ এলাকা। এশিয়া এনার্জি কর্তৃক উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন, জাতীয় সম্পদ কয়লা লুণ্ঠনসহ চার থানা ধ্বংসের প্রতিবাদে ২০০৬ সালে গণআন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল। উক্ত আন্দোলনে তৎকালীন সরকারের পেটোয়া বাহিনী শান্তিপূর্ণ লক্ষাধিক জনতার ওপর ২৬ আগস্টে গুলি চালিয়ে ৩ জনের প্রাণ কেড়ে নেয়। আহত করে দুই শতাধিক সাধারণ মানুষকে। এদের মধ্যে এক জন এখনও পঙ্গুত্বের জীবন বয়ে চলেছেন। গণআন্দোলনের এক পর্যায়ে তৎকালীন সরকার বাধ্য হয়ে আন্দোলনকারী জনতার সাথে ‘ফুলবাড়ী ৬ দফা চুক্তি’ করে। বাংলাদেশের কোথাও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি না করা; এশিয়া এনার্জিকে ফুলবাড়ীসহ বাংলাদেশ থেকে বিতাড়ন করা চুক্তির প্রধান অংশ ছিল। আপনি তখন বিরোধী দলের নেত্রী ছিলেন। আপনি সেই পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী হরতালের মতো কর্মসূচীসহ ৪ সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সালে ফুলবাড়ীতে এসে স্থানীয় সরকারি কলেজ মাঠে ১৪ দলের জনসভা করেন। জনসভায় বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের জন্য ফুলবাড়ীসহ সংশ্লিষ্ট চার উপজেলার নারী পুরুষদের ধন্যবাদসহ স্যালুট জানিয়ে বলেন, “জোট সরকার ফুলবাড়ী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফুলবাড়ীবাসীর সঙ্গে করা চুক্তি বাস্তবায়ন না করলে এর পরিণাম ভয়াবহ হবে।” যা ৫ সেপ্টেম্বর দৈনিক প্রথম আলোসহ সকল জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে। অর্থাৎ তৎকালীন জোট সরকারের চুক্তি, আপনার জনসভাসহ দেশের সকল রাজনৈতিক সংগঠন ও গণমানুষের সমর্থনে ফুলবাড়ী চুক্তি ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’ হিসাবে দলিল হয়ে আছে। এর পরেই আপনি নির্বাচিত হন এবং সরকার গঠন করেন। এ অঞ্চলের বীর জনতা অধীর আগ্রহে আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। আপনার অঙ্গিকার আপনি দ্রুত বাস্তবায়ন করবেন বলে জনগণ বিশ্বাস নিয়ে বুক বেধে আছে।

কিন্তু দীর্ঘ সময় পার করা সত্বেও বীর জনতার সাথে করা অপনার অঙ্গিকার অপূর্ণ থেকে যায়। উপরন্ত ফুলবাড়ী থেকে এশিয়া এনার্জির অফিস না সরিয়ে তা প্রশাসনের সহযোগিতায় থাকা, বাংলাদেশ থেকে এশিয়া এনার্জি কোম্পানীকে বের না করে দেওয়াসহ ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প নিয়ে আপনার সরকারের দায়িত্বপূর্ণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের দায়িত্বহীন বক্তব্যে জনগণকে হতাশ করে। তবে কিছুদিন আগে আপনার বক্তব্য তথা “নতুন করে কয়লা তোলার আর কোন উদ্যোগ নেওয়া হবে না, কয়লা নতুন প্রজন্মের জন্য রাখা হবে” শুনে জনগণের মনে আশার সঞ্চার হয়েছিল। এ সত্বেও ১৪ অক্টোবর ২০১২ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২ এর সিনিয়র সহকারি সচিব মো: ফারুক-উজ-জামান স্বাক্ষরিত দুটি চিঠি দিনাজপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, চার থানার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এসে পৌছায়। এতে এশিয়া এনার্জিকে নতুন করে জরিপসহ সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০০৬ সালে করা আপনার অঙ্গিকার এবং ২০১২ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণায়লের নির্দেশের সাংঘর্ষিক বাস্তবতায় জনমনে নতুন যে প্রশ্নের সূচনা হয়েছে তার দায় আপনি কোনভাবেই এড়াতে পারেন না। কেননা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ ধরণের উসকানিমূলক তৎপরতা এবং ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়ন না হবার কারনে আবারও ২৬ আগস্ট ২০০৬ সালের মত একটি গণআন্দোলনের সূচনা হতে পারে।

অতএব, আপনার কাছে দাবি- অত্র এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেন তার নির্দেশ দ্রুত প্রত্যাহার করে নেয়। সেই সাথে ঐতিহাসিক ফুলবাড়ী ৬ দফা চুক্তির পূর্ণবাস্তবায়ন করে এশিয়া এনার্জির ফুলবাড়ী অফিসসহ দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়।