Wednesday, February 9th, 2011

সংসদীয় কমিটি জাতীয় স্বার্থের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে বিদেশি কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা করছে

এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মত জ্বালানি বিষয়ক সংসদীয় কমিটি বড়পুকুরিয়া ও ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লা খনি করার পক্ষে তাদের সুপারিশ সংবাদপত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। কমিটির সদস্যবৃন্দ ফুলবাড়ী ও বড়পুকুরিয়া অঞ্চল সফর করেননি, উন্মুক্ত খনি বিষয়ে সরকার গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি নীতিবাচক সিদ্ধান্তও তারা আমলে নেননি, দেশের স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সিদ্ধান্তও তারা পর্যালোচনা করেননি, জনগণের রায়ও তাদের ধর্তব্যের মধ্যে নেই, এমনকি উন্মুক্ত খনি নিষিদ্ধ ও এশিয়া এনার্জি বহিষ্কার সহ ৬ দফা চুক্তির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকারকেও তাঁরা অগ্রাহ্য করেছেন। এই কমিটি উন্মুক্ত খনির সিদ্ধান্তে এসেছেন জার্মানী সফর করার পর। যে সফরের আয়োজক ছিল এশিয়া এনার্জি বা জিসিএম এবং জার্মানির আরডব্লিউই কোম্পানি। এই সফর থেকে সিদ্ধান্ত অতএব কোম্পানি স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত। বিদেশি কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত হয়ে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী এই কাজ করে সংসদ সদস্যরা তাঁদের প্রতি জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

কয়লা উত্তোলনে সম্পুর্ন অনভিজ্ঞ এশিয়া এনার্জি বাংলাদেশের কয়লা খনি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে উত্তোলন করে মাত্র ৬ ভাগ রয়ালটির বিনিময়ে শতকরা ৮০ ভাগ কয়লা রফতানির প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিল। বাকী ১৪ ভাগ কয়লা আন্তর্জাতিক মূল্যে ও বিদেশী মূদ্রায় নিজেদের খনির কয়লা বাংলাদেশের কিনে নেবার কথা ছিল। ২০০৬ সালে ফুলবাড়ীর জনগণ জীবন দিয়ে কৃষি জমি, পানি সম্পদ ও জনবসতি ধ্বংস সাধনপূর্বক কয়লা পাচারের এই জাতীয় স্বার্থ বিরোধী প্রকল্প রুখেছেন। সরকারের মধ্যে বহুজাতিক কোম্পানির লবিইষ্টদের পৃষ্ঠপোষকতায় এশিয়া এনার্জি এখন আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেছে। লন্ডনে ফুলবাড়ী প্রকল্পের উৎপাদন ঠিকাদারী চুক্তি পেতে যাচ্ছেন এটা দেখিয়ে তারা বেআইনীভাবে ও জালিয়াতি করে বছর বছর শেয়ার ব্যবসার মাধ্যমে শেয়ার হোল্ডারদের প্রতারণা করছে। বর্তমান সংসদীয় কমিটির ভূমিকা প্রথমত তাদের বেআইনী ও প্রতারণামূলক শেয়ার বাণিজ্যে সহায়তা করবে এবং দ্বিতীয়ত দেশের কৃষি, পানি ও মানুষের সর্বনাশ করে কয়লা পাচারের জঘন্য প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। এসব তৎপরতার মাধ্যমে সংসদীয় কমিটির সদস্যরা প্রমাণ করেছেন তারা জনপ্রতিনিধি নন, তারা বিদেশী কোম্পানির লবিইষ্ট। জনগণের ভোট নিয়ে জনগণের বিরুদ্ধে এই অবস্থান জনগণ ক্ষমা করবে না। আমরা তাদেরকে এ ভূমিকা থেকে সরে আসার জন্য আহবান জানাই।

আমরা সরকারের কাছে দাবী জানাই অবিলম্বে উন্মুক্ত পদ্ধতি নিষিদ্ধসহ রক্তে লেখা ফুলবাড়ী চুক্তির ৬ দফা বাস্তবায়ন করে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে কয়লা উৎপাদন এর জন্য অবিলম্বে জাতীয় সংস্থা গঠন করবেন। এবং জ্বালানি মন্ত্রনালয়কে বিদেশি কোম্পানির রাহু মুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে শতভাগ মালিকানায় শতভাগ গ্যাস ও কয়লা দেশের স্বার্থে ব্যবহারের জন্য জাতীয় কমিটির ৭ দফা দাবী বাস্তবায়ন করবেন।