Saturday, September 21st, 2019

‘গভীর সমুদ্রের গ্যাসের জন্য পিএসসি ২০১৯, রপ্তানীমুখী ও গণবিরোধী’

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত সংলাপে বক্তারা ‘পিএসসি ২০১৯’-কে গণবিরোধী ও রপ্তানীমুখী গ্যাস চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে। সংলাপে বক্তারা বলেন, এই মডেলে পিএসসি-তে আগেরগুলোর তুলনায় বিদেশি কোম্পানির জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে, তাদেরকে গ্যাস রপ্তানির সুযোগ দেয়া হয়েছে, বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে বাংলাদেশকে যে গ্যাস কিনতে হবে তার দাম বাড়িয়ে হাজার ঘনফুট প্রতি ৭.২৫ মার্কিন ডলার করা হয়েছে, ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে, যাতে কার্যত এই গ্যাসের দাম পড়বে হাজার ঘনফুট প্রতি ১০ মার্কিন ডলার।

সংলাপে বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বরাবরই দাবি করেন তিনি দেশে ৫০ বছরের গ্যাস মজুত নিশ্চিত না করে গ্যাস রপ্তানির বিরোধী, তাহলে বারবার গ্যাস রপ্তানির এ ধরনের উদ্যোগ কেন? আমরা ‘খনিজসম্পদ রপ্তানি নিষিদ্ধ আইন’ করবার দাবি জানিয়েছিলাম, সরকারের কাজের সুবিধার জন্য এই আইনের খসড়া তৈরি করে সরকারকে জমা দিয়েছিলাম। তাহলে আমাদের প্রস্তাবিত ‘খনিজসম্পদ রপ্তানি নিষিদ্ধ আইন’ সংসদে পাশ করতে অসুবিধা কী? ৫০ বছরের মজুতের বদলে গ্যাস সংকট বহাল থাকা অবস্থায় কীভাবে গ্যাস রপ্তানি চুক্তি হয়? কীভাবে সরকারের রপ্তানি নীতিতে খনিজসম্পদ রপ্তানিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়?

আজ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার, সকাল ১১টায় ২ কমরেড মণি সিংহ সড়কস্থ মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংলাপে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক এম এম আকাশ, প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা, মাহা মির্জা, সাইফুল হক, রুহিন হোসেন প্রিন্স, আরিফুজ্জামান তুহিন, জুলফিকার আলী, খান আসাদুজ্জামান মাসুম প্রমুখ। এসময় মোহাম্মদ শাহ আলম, নজরুল ইসলাম, বাচ্চু ভূঁইয়া, খালেকুজ্জামান লিপন, মঈনউদ্দিন হাসান চৌধুরীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, স্থলভাগ ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমরা অনেকদিন থেকেই দাবি জানিয়ে আসছি। সরকার এই পথে কখনও যায়নি, বরং সক্ষমতা বাড়ানোর বদলে যতটুকু সক্ষমতা আছে তা আরও সংকুচিত করা হয়েছে। জাতীয় সংস্থাকে সুযোগ না দিয়ে কয়েকগুণ বেশি খরচে বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দেয়া হয়েছে। সমুদ্রের সম্পদ অনুসন্ধানে উদ্যোগ না নিয়ে গ্যাস সংকট জিইয়ে রাখা হয়েছে তারপর তার অজুহাতে কয়েকগুণ বেশি দামে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, গ্যাস সংকটের অজুহাতে ব্যাপকভাবে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হচ্ছে, এমনকি দেশের প্রাকৃতিক রক্ষাবাঁধ সুন্দরবন ধ্বংস করতেও সরকারের দ্বিধা নেই, করছে দেশবিনাশী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র; অন্যদিকে এই একই সরকার দেশের নিজস্ব গ্যাস তেল সম্পদ রপ্তানির বিধান রেখে বিদেশি কোম্পানি ডাকছে।

অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো- জাতীয় স্বার্থকে অবহেলা করছে এবং দুর্নীতি করছে। জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করে দেশের গ্যাস সম্পদ জনগণের স্বার্থে কাজে লাগাতে চাইলে সরকারকে অবশ্যই জাতীয় প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা-সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। দুর্নীতি কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। এটি না করে সরকার বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে, গ্যাসের দাম বাড়িয়ে জনগণকে নানা ভোগান্তিতে ফেলছে। এর মধ্য দিয়ে সরকার লুটেরা ও আধিপত্যবাদী শক্তির স্বার্থরক্ষা করছে। এর বিরুদ্ধে জাতীয় স্বার্থরক্ষায় সকলকে সোচ্চার হতে হবে।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, সরকারের গণবিরোধী পদক্ষেপের ফলে বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানি আর তাদের দেশি কমিশনভোগীদের পকেট ভারীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশের জন্য সৃষ্টি করা হচ্ছে মহাবিপর্যয় ও জাতীয় নিরাপত্তাহীনতা। নিজেদের গ্যাস সম্পদ যথাযথভাবে উত্তোলন ও দেশের কাজে শতভাগ ব্যবহারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে দেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সুলভ টেকসই সমাধান সম্ভব। একদিকে গ্যাস সংকটের কথা বলে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি, রামপালসহ দেশবিনাশী কয়লা ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন অন্যদিকে দেশের গ্যাস সম্পদ বিদেশে রপ্তানি করার সিদ্ধান্ত জনগণ কোনোভাবেই মেনে নিবে না।

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ
সংলাপ থেকে সমুদ্রের গ্যাস রপ্তানীমুখী পিএসসি ২০১৯ বাতিল, সুন্দরবন বিনষ্টকারী রামপাল প্রকল্প বাতিল ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকান্ড বাতিলের দাবিতে ২৮ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।