Saturday, March 30th, 2019

সুন্দরবনবিনাশী প্রকল্প-দায়মুক্তি আইন বাতিল, গ্যাস অনুসন্ধান ও সাশ্রয়ী বিদ্যুতের জন্য জাতীয় সক্ষমতা বিকাশের দাবি

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে দেশে উন্নয়নের সকল পর্যায়ে বিচার বিবেচনাহীন অদূরদর্শী লোভী দায়-দায়িত্বহীন প্রকল্প অনুমোদন করা হচ্ছে, নির্মাণ ও ক্রয় চলছে। জনগণের ওপর নজরদারি বাড়ানোর জন্য শত হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও কারখানা, ভবন, সড়কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধানের কোনো নজরদারি ব্যবস্থা নেই, তদারকি নেই, জবাবদিহি নেই। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্ষম ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেই। আর বিপদ, অনিয়ম, দুর্নীতিসহ সকল কিছুকে অস্বীকার করা সরকারের একটা রোগে পরিণত হয়েছে। অনিয়ম, দুর্নীতি আর মিথ্যাচারে সবচাইতে এগিয়ে আছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত। এই খাতে ‘ব্যাপক উন্নয়নের’ নামে, জনমত, বিশেষজ্ঞমত ও দেশের স্বার্থ উড়িয়ে দিয়ে সরকার যেসব প্রকল্প গ্রহণ করছে তা দেশকে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তাহীনতা, ঋণগ্রস্ততাসহ মহাবিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে যাতে কথা তুলে প্রতিকার পাওয়া না যায় তার জন্য ২০১০ সালে দায়মুক্তি আইন করা হয়েছিল। ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর এই বিশেষ দায়মুক্তি আইনের মেয়াদ শেষ হবার কথা থাকলেও এর মেয়াদ আবারও বাড়ানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনে যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে সংকট সমাধানের নামে এলএনজি আমদানি শুরু হয়েছে। আর এর সূত্র ধরেই বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প কারখানা, ক্যাপটিভ পাওয়ারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরবরাহকৃত গ্যাসের দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধির আয়োজন করা হয়েছে। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, যাতায়াত, বিদ্যুৎসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ আরেক দফা বাড়বে।

আজ ৩০ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টায় ২ কমরেড মণি সিংহ রোডস্থ মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। রুহিন হোসেন প্রিন্স, সাইফুল হক, অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান, নজরুল ইসলাম, জুলফিকার আলী, ফখরুদ্দিন কবীর আতিক, নাসিরউদ্দিন নসু, মাহিনউদ্দিন চৌধুরী, আমিরুন নুজহাত মনীষা প্রমুখ নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় প্রাণ প্রকৃতি দেশ বিনাশী আরেকটি বড় দৃষ্টান্ত সুন্দরবনবিনাশী রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। এই কেন্দ্রের কারণে প্রলুব্ধ হয়ে দেশের বনগ্রাসী ভূমিগ্রাসী কতিপয় গোষ্ঠী তিন শতাধিক বাণিজ্যিক প্রকল্প দিয়ে সুন্দরবন ঘিরে ফেলেছে। সুন্দরবনের চারপাশে ৩২০টি শিল্পকারখানা অনুমোদন, দেওয়ার পরও সরকার ইউসেকোকে বলেছে, সরকার সেখানে কোনো ভারী শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমতি দেয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয় সৌর বিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির অসীম যোগান থাকলেও এ নিয়ে সরকারের ‘শোকেস’ ভিন্ন উদ্যোগ দেখা যায় না। কারণ তাতে কয়লা ও পারমাণবিক প্রকল্পের বিশাল দুর্নীতির কোনো যৌক্তিকতা থাকে না। ভারতে সৌর বিদ্যুৎ এখন সাড়ে ৩ টাকারও কম খরচে উৎপাদিত হচ্ছে। বাংলাদেশ এই খাত উন্নয়নে মনোযোগী না হয়ে এই বিদ্যুৎ বেশি দামে কেনার চুক্তি করা হচ্ছে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সাথে।

সংবাদ সম্মেলনে দায়মুক্তি আইন বাতিল, জ্বালানি খাতে সকল অনিয়ম এবং লুটপাটের সঠিক তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি, স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় গ্যাস উদ্যোগ, জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানো, সুন্দরবনবিনাশী সকল প্রকল্প বাতিল, উপকূল জুড়ে কয়লা বিদ্যুতের বদলে সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের বৃহৎ প্রকল্প তৈরি করে বাংলাদেশের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ কমানো ও ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। এছাড়া রামপাল-রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ পিএসএমপি-২০১৬’তে বর্ণিত ব্যয়বহুল, আমদানি ও ঋণনির্ভর, প্রাণপ্রকৃতি বিনাশী বিদ্যুৎকেন্দ্রমুখী পরিকল্পনা বাতিল করে সুলভ, টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জাতীয় কমিটির বিকল্প খসড়া জ্বালানি প্রস্তাবনা নিয়ে অগ্রসর হবার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়।

এসব দাবিতে আগামী ৫ এপ্রিল ২০১৯ ফুলবাড়ীতে উত্তরাঞ্চলীয় এবং ২৭ এপ্রিল খুলনায় দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিনিধি সভা এবং মে ও জুন মাসে দেশব্যাপী সভা সমাবেশ এবং ৬ জুলাই জাতীয় কনভেনশনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সন্মেলনের মূল বক্তব্য