Friday, April 6th, 2018

‘সুন্দরবনবিনাশী সব প্রকল্প এবং দায়মুক্তি আইন বাতিল করে উন্নয়নের কথা বলুন’

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আজ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এ এক নির্মম পরিহাসের বিষয় যে, বাংলাদেশের সরকার এক দিকে বাংলাদেশের সর্বশেষ প্রাকৃতিক বন, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের ধ্বংস নিশ্চিত করার মত দূরত্বে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ একাধিক প্রকল্প অনুমোদন করছে; অন্যদিকে দেশবিদেশে টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার করছে, বন-পরিবেশ রক্ষায নানা আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করছে।’

তাঁরা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশকে বাঁচায় যে সুন্দরবন তাকেই এই সরকার দেশি-বিদেশি লুন্ঠনকারী মুনাফাখোর ও দখলদারদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। ভারত সরকার সেদেশের বিধি ভঙ্গ করে (বনভ’মির ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা যায় না) এখানে নির্মাণ করছে বিরাট ধ্বংসযজ্ঞের রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র। আর বাংলাদেশের সরকার দেশের পরিবেশ আইন ভঙ্গ করে সুন্দরবনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বলে চিহ্নিত ১০ কিলোমিটার সীমানার মধ্যে শতশত ভয়াবহ দূষণকারী প্রকল্প অনুমোদন করে বনগ্রাসী ভ’মিগ্রাসী দস্যুদের হাতে তুলে দিচ্ছে বাংলাদেশের রক্ষাকবজ সুন্দরবন।’

নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘সুন্দরবন রক্ষার নামে ব্যয়বহুল নানা প্রকল্পও তৈরী হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে সুন্দরবন রক্ষায় কোন কনসালটেন্ট, অর্থ ও প্রকল্প দরকার নাই। ক্ষমতাবান গোষ্ঠী যদি সীমাহীন লোভ পূরণে দানবের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয় তাহলে সুন্দরবন নিজেই নিজেকে রক্ষা ও পুনরুৎপাদন করতে সক্ষম। সরকার এই দানবদের প্রতিহত না করে বরং তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। অথচ সুন্দরবন ধ্বংস মানে শুধু দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় নয়, প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে লক্ষ লক্ষ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া।’

তাঁরা আরও বলেন, ‘সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে ব্যয়বহুল প্রাণবিনাশী ঋণনির্ভর দুর্নীতিমুখি বিভিন্ন চুক্তি করছে। যেসব প্রকল্প দেশকে বিপর্যস্ত করে তাকে উন্নয়ন বলা যায় না। কোনোরকম জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা এড়াতে ২০১০ সালে প্রণীত দায়মুক্তি আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি করছে বারবার। দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে রূপপুরেও। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, উন্নয়নের নামে সুন্দরবনধ্বংসী তৎপরতা এবং দায়মুক্তি আইনের অধীনে নানা প্রকল্প নিয়ে দেশকে অচিন্তনীয় বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবেন না। ২৪ ঘন্টা শিল্প কৃষিসহ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সুলভ, পরিবেশবান্ধব, ঋণমুক্ত পথ নিন; জাতীয় কমিটির বিকল্প প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করুন।’