Monday, November 27th, 2017

‘বিদ্যুতের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে আহুত ৩০ নভেম্বরের হরতাল সফল করুন, জনস্বার্থ রক্ষার আন্দোলন শক্তিশালী করুন’-দেশবাসীর প্রতি জাতীয় কমিটির আহবান

অযৌক্তিকভাবে অষ্টমবারের মতো বিদ্যুতের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে ৩০ নভেম্বর আহুত হরতালের সমর্থনে তেল-গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ নিম্নোক্ত বিবৃতি দিয়েছেন:

“গত ২৩ নভেম্বর সরকারের নির্দেশে বিইআরসি অষ্টমবারের মতো গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দামবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। এটি গণশুনানীতে প্রদত্ত তথ্য, যুক্তি এবং প্রাপ্ত ফলাফলের পরিপন্থী। এরপর প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা বলেছেন, দেশে গ্যাস সংকটের কারণে তেলনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। এই বক্তব্য পুরোপুরি মিথ্যাচার। কারণ প্রথমত, গ্যাস সংকটের জন্য নয় রাষ্ট্রীয় কমদামে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ না করে বেশি ব্যয়বহুল বিভিন্ন বেসরকারি বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের গ্যাস সরবরাহের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। তাছাড়া কয়েকবছর ধরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমছে, কমে আছে, কিন্তু বাংলাদেশে তা কমানো হয়নি। তেলের দামের ক্ষেত্রে সরকারের ‘সমন্বয়’ আর ‘যৌক্তিকীকরণের’ কথা শোনা যায় না। অথচ তেলের দাম যৌক্তিকভাবে সমন্বয় করলে অন্য অনেক কিছুর সাথে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়ও অনেক কমতো।

“অন্যদিকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, ভবিষ্যতে বেশি ব্যয়বহুল পথে তারা যাবেন বলেই আগে থেকেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। সরকার তার মহাপরিকল্পনা (পিএসএমপি ২০১৬) অনুযায়ী দেশের গ্যাস অনুসন্ধান স্থগিত করে এলএনজি-কয়লা আমদানির পথ ধরেছে, দেশ বিনাশী ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে যাচ্ছে, ব্যয়বহুল কুইকরেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। জাতীয় সক্ষমতা বিপর্যস্ত করে সরকার একদিকে সাগরের গ্যাস রপ্তানির বিধান রেখে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করছে, অন্যদিকে গ্যাস সঙ্কটের অজুহাতে সুন্দরবন বিনাশী প্রকল্প, ভয়ংকর ঝুঁকি ও বিপুল ঋণের রূপপুর প্রকল্পের উদ্যোগ নিচ্ছে। জাতীয় কমিটি কমদামে পরিবেশসম্মতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প মহাপরিকল্পনা উপস্থিত করা সত্ত্বেও তাতে কান না দিয়ে সরকার তার মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ খাতকে ক্রমাগত কিছু দেশি বিদেশি গোষ্ঠীর ডাকাতি ব্যবসার খাতে পরিণত করছে। তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়েই বারবার বাড়ানো হচ্ছে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম।

“বারবার গ্যাস-বিদ্যুতের দামবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য বোঝা হচ্ছে, সকল পর্যায়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াচ্ছে। সর্বশেষ এই দামবৃদ্ধিতে সকল পর্যায়ে আরেকদফা উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, বাড়বে বাসাভাড়াসহ অন্য সব দ্রব্যসামগ্রীর দাম, বাড়বে শিল্পকৃষি পণ্যের দাম, কমবে দেশের অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতা ক্ষমতা।

“আমরা তাই বিদ্যুতের দামবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার হরতাল সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানাই। জনস্বার্থ রক্ষার আন্দোলন শক্তিশালী না হলে সরকারের জনস্বার্থবিরোধী তৎপরতা আরও বাড়বে। বিদ্যুতের দামবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের সাথে সাথে সুন্দরবনবিনাশী রামপাল ও মহাঝুঁকির ব্যয়বহুল রূপপুর প্রকল্পসহ দেশবিধ্বংসী সব তৎপরতা বন্ধ করে সুলভে পরিবেশসম্মতভাবে গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে জাতীয় কমিটি প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনার খসড়া নিয়ে আলোচনা শুরুর জন্য সরকারের কাছে আমরা দাবি জানাচ্ছি।”