Saturday, August 26th, 2017

মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ছয় দফা দাবির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে ফুলবাড়ী দিবস পালিত

প্রতি বছরের মত এবারও দেশব্যাপী পালিত হয় ফুলবাড়ী দিবস। ফুলবাড়ীতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালিত হয়, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট এশিয়া এনার্জীর প্রস্তাবিত উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনন প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত জনতার উপর নির্বিচারে গুলি চালায় তৎকালীন সরকারের বাহিনী। ঐ ঘটনায় নিহত হন তরিকুল, আলামীন, সালেকীন। এছাড়াও আহত হন অনেকে। ঐ ঘটনার প্রেক্ষিতে গণঅভ্যুত্থান বিস্তৃত হয় এবং বাংলাদেশের কোথাও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন না করা সহ ৬ দফা চুক্তি স্বাক্ষর করতে তৎকালীন সরকার বাধ্য হয়।

26aug_fullbari_2017-2a

26aug_fullbari_2017-3a

আজ সকাল ১০’টায় র‍্যালী করে শহরের কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ফুলবাড়ী আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জাতীয় কমিটি সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীবৃন্দ। এ সময় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সকাল ১১’টায় ফুলবাড়ীর নিমতলা মোড়ে নেতৃবৃন্দের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ৬ দফা দাবির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে তেল-গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর ও খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির আয়োজনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সমাবেশে বক্তারা ১১ বছরেও প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতি না বাস্তবায়ন করার প্রতিবাদ জানান। স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় যে, ২০০৬ সালে ফুলবাড়ী আন্দোলনে ঘোষিত ছয় দফা দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যাক্ত করেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু তিনি ক্ষমতায় থেকেও তাঁর দেয়া সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি। সমাবেশে হুশিয়ার করে দিয়ে বলা হয়, জনগণ চলমান আন্দোলনের মাধ্যমেই ন্যায্য দাবি আদায় করে নিবেন।

সমাবেশে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের দোহাই দিয়ে ফুলবাড়ী কয়লা খনি প্রকল্প সহ দেশজুড়ে নানা ধবংসাত্নক প্রকল্প গ্রহণ করছে সরকার। এ সময় তিনি বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে জন-জীবন-পরিবেশ ধ্বংসকারী সকল প্রকল্প বাতিল করে দেশীয় গ্যাস সম্পদ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানীর সংমিশ্রণে জাতীয় কমিটি প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তাগিদ দেন।

জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক জনাব হামিদুল হকের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবলু, টিপু বিশ্বাস, মোশাররফ হোসেন নান্নু, শাহীন রহমান, আরিফুল ইসলাম, আদিবাসী নেতা রবীন্দ্রনাথ সরেণ, মোসাদ্দেক হোসেন লাভলু, সাইফুল ইসলাম পলটু প্রমুখ।

আয়োজিত সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে ১১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারক লিপি প্রদান। ১৪ নভেম্বর দিনাজপুর অভিমুখে মিছিল সহকারে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি প্রদান এবং ঐ সময়ের মধ্যে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ছয় দফা দাবির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।