Friday, July 7th, 2017

১১ জুলাই সুন্দরবনবিনাশী রামপাল প্রকল্প বাতিলের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও সমাবেশ করুন

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুলাহ এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আজ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন:

“এটা খুবই বিস্ময়কর যে, বাংলাদেশ ও ভারত সরকার যৌথভাবে যুক্তিহীন, মানুষ ও প্রকৃতি বিধ্বংসী একগুঁয়েমী দিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনধ্বংসী রামপাল প্রকল্প নিয়ে অগ্রসর হতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দেশের মানুষের টাকা খরচ করে, ইউনেস্কোতে বহু লবিংও হয়েছে। আজ সংবাদপত্রে প্রকাশিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইউনেস্কো রামপাল প্রকল্প সম্পর্কে আপত্তি প্রত্যাহার করেছে। এর আগে ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞদের ব্যাপক অনুসন্ধান এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ থেকেই তাঁদের সিদ্ধান্ত ছিলো এই প্রকল্প অন্যত্র সরিয়ে নেবার কোনো বিকল্প নেই। তাঁদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছিলো কীভাবে এই প্রকল্প সুন্দরবন বিনাশ করবে। একইরকম ব্যাখ্যা, হাতেগোণা কতিপয় ভাড়াখাটা ব্যক্তি ছাড়া, দেশ বিদেশের সকল বিশেষজ্ঞই দিয়েছেন। আজ যদি ইউনেস্কো তার এই অবস্থান থেকে সরে আসে তাহলে তার অর্থ হবে একটাই- ইউনেস্কো কোনো না কোনো প্রভাবে তার নিজেরই বৈজ্ঞানিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে গোষ্ঠী স্বার্থের লবিংএর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এটি বাংলাদেশ ও বিশ্বের একটি বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে ইউনেস্কোর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতাই নির্দেশ করে। সুন্দরবনের যেকোনো ক্ষতির দায়দায়িত্ব তাই ইউনেস্কোকেও বহন করতে হবে। সুন্দরবন বিনাশ হলে এইদেশ ও এইদেশের মানুষেরই সর্বনাশ, ইউনেস্কো কর্মকর্তারা সন্দেহজনক কারণে যুক্তিযুক্ত আপত্তি প্রত্যাহার করলেও তাই বাংলাদেশের মানুষ আপত্তি প্রত্যাহার করতে পারে না।

“এটা অবিশ্বাস্য যে, একটি দেশের সরকার তার দেশের প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ প্রধান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুন্দরবন ধ্বংস করতে এভাবে একগুঁয়েমি করতে পারে, জনগণের অর্থ খরচ করে তার জন্য দেনদরবার লবিং করতে পারে। আমরা এর প্রতিবাদে এবং সুন্দরবনবিনাশী প্রকল্প বাতিল দাবিতে আগামী ১১ জুলাই দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও সমাবেশ করবার জন্য দেশবাসিকে আহবান জানাচ্ছি। ঐদিন ঢাকায় বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসকাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”