Sunday, May 7th, 2017

বিশ্বঐতিহ্য তালিকা থেকে সুন্দরবন বাদ হবার আগেই রামপাল প্রকল্পসহ সুন্দরবনবিনাশী সব অপতৎপরতা বন্ধের দাবিতে ১৩ মে ২০১৭ দেশব্যাপী প্রতিবাদ দিবস

গতকাল ৬ মে সন্ধ্যায় তোপখানা রোডে নির্মল সেন মিলনায়তনে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের সভাপতিত্বে জাতীয় কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন টিপু বিশ্বাস, রুহিন হোসেন প্রিন্স, শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বজলুর রশিদ ফিরোজ, আজিজুর রহমান, মাসুদ খান, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোস্তাক, খান আসাদুজ্জামান মাসুম, শহীদুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, বিভিন্ন অনুসন্ধান থেকে এটি নিশ্চিত যে, সুন্দরবনবিনাশী রামপাল প্রকল্পের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের ৩৫ থেকে ৪০ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হবে, কয়েক কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদ প্রত্যক্ষ হুমকির মধ্যে পড়বে। আরও গবেষণায় দেখা যায় যে, এই ক্ষতি শুধু উপকূলীয় এলাকায় বা বাংলাদেশে সীমিত থাকবে না, ঢাকা নরসিংদী থেকে কোলকাতা পর্যন্ত ভয়াবহ বায়ুদূষনে অসুস্থতা বাড়বে, শিশুসহ অকালে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাবে। বিশাল এলাকা জুড়ে পারদের দূষণে মৎস ও ফসল উৎপাদনে বিপর্যয় হবে।

সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, আগামী জুলাই মাসে সুন্দরবনবিনাশী প্রকল্প নিয়ে ইউনেস্কোর পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রকল্প নিয়ে সরকারের একগুঁয়ে জনস্বার্থবিরোধী তৎপরতার কারণে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্বঐতিহ্য তালিকা থেকে সুন্দরবনের নাম বাতিলের জোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এটি বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের জন্য চরম অপমানজনক অবস্থা তৈরি করবে, এক কলঙ্কজনক অধ্যায় তৈরি হবে। এই অবস্থা হবার আগেই সভায় রামপাল প্রকল্পসহ সুন্দরবনবিনাশী সব অপতৎপরতা বন্ধের দাবি জানানো হয়।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘যা প্রাণ প্রকৃতি বা মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন নষ্ট করে, দেশকে বিপন্ন করে তা কোনোভাবেই উন্নয়ন নয়। দেশ ও বিদেশের বিশেষজ্ঞরা একের পর এক গবেষণার মাধ্যমে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সরকারকে হুঁশিয়ারি দেয়া সত্ত্বেও সরকারের কোনো হুঁশ হচ্ছে না। জনমত ও বৈজ্ঞানিক তথ্য উপাত্ত অগ্রাহ্য করে সরকারের এই বেহুঁশ যাত্রা দেশকে বিপর্যস্ত করছে, সরকার নিজেকেও কলঙ্কিত করছে।’

সভায় বিশ্বঐতিহ্য তালিকা থেকে সুন্দরবন বাদ হবার আগেই রামপাল প্রকল্পসহ সুন্দরবনবিনাশী সব অপতৎপরতা বন্ধের দাবিতে আগামী ১৩ মে ২০১৭ তারিখে দেশব্যাপী প্রতিবাদ দিবস পালনের কর্মসূচি নেয়া হয়। এছাড়া সভায় বাংলাদেশে বেআইনীভাবে অবস্থানরত এশিয়া এনার্জির (জিসিএম) দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে ফুলবাড়ীতে আগামী ৯ মে রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি সফল করবার আহবান জানানো হয়।