Thursday, March 4th, 2010

ভারত-বাংলাদেশ বিদ্যুৎ চুক্তি

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের বর্তমান কয়লা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সম্পর্কে ছোট একটি বর্ণনা দিলেই ভারতের ২৫০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ, উৎপাদন কেন্দ্র সংরক্ষণ চুক্তির নেপথ্যের ধরনটা সহজেই ধরা পড়বে।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন থেকে এক অনিরাময়যোগ্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেই চলছে। দেশের সামাজিক, আর্থিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দৃঢ়, টেকসই ও নির্ভরশীল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। আর নির্ভরশীল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা বাস্তবায়ন হতে পারে নিষ্ঠাবান, সৎ, স্বচ্ছ ও দেশপ্রেমিক প্রজ্ঞাবান লোকদের পরিশ্রমে ।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা একটি জটিল কারিগরি ব্যবস্থা হলেও তার প্রয়োজনীয় সম্প্রসারণ, স্থায়ীত্ব ও যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিচালন করে এ ব্যবস্থাকে কি পরিমাণ মানসম্পন্ন করে তুলবে তা নির্ভর করে ক্ষমতাসীন সরকারের ওপর। আমাদের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। তথ্য ও যুক্তি দিয়ে এ কথা প্রমাণ করা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা এক গভীর সংকটের মধ্যে নিমজ্জিত বলে কাঙ্ক্ষিত জাতীয় উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে না।
তথ্য ও তত্ত্ব বিশ্লেষণ করে এবং গেল কয়েক যুগের তথ্যসমূহ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্তকরণে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নের হার সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়নের অর্থাৎ মোট জাতীয় উৎপাদনের দ্বিগুণ হারে বাস্তবায়ন করতে হয় এবং এজন্য যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হবে তা হতে হবে,
(ক)নির্ভরশীল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা অর্থাৎ যা হবে নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহযোগ্য।
(খ)মানসম্মত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা।
(গ)সাশ্রয়ী ও যৌক্তিক মূল্যে ট্যারিফ নির্ধারণ অর্থাৎ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদন থেকে শুরু করে গ্রাহক পর্যন্ত সরবরাহ করতে সার্বিক ব্যয় হতে হবে যৌক্তিক পর্যায়ে।

কিন্তু বর্তমানে এর কোনোটাই বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তার কারণসমূহ হলো :
(ক) ঔপনিবেশিক আমলে গড়া অদক্ষ আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা, (খ) এ খাতে স্বচ্ছ, সৎ, নিষ্ঠাবান ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের পদায়ন না করা, (গ) এ খাতের জন্য জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো সম্পূর্ণ জ্বালানি নীতি না থাকা, (ঘ) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সাশ্রয়ী ও সংরক্ষণনীতি না থাকা, (ঙ) ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্নীতির স্বার্থে সঠিক সময়ে সঠিক নীতে মেনে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনীহা, (চ) এখাতে সাশ্রয়ী (দক্ষ) যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও সংরক্ষণ (কনজারভেশন) নীতি বাস্তবায়ন না করা ও (ছ) বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ এ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রাথমিক জ্বালানি যথা গ্যাস, কয়লা, পানি, সূর্যতাপ প্রাপ্য এ সম্পদগুলোর সঠিক ব্যবহার করে সহজ ও সাশ্রয়ী মূল্যে জনগণের কাছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহকে যথাযথ গুরুত্ব না দেয়া।

এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, এ ধরনের ব্যত্যয়গুলো ইচ্ছে করে ঘটানো হচ্ছে। কারণ নীতির বাইরে অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে এ ধরনের জটিল কারিগরি খাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রচুর অর্থ উপার্জনের সুযোগ রয়েছে। এর ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি ইচ্ছাকৃতভাবে এ খাতে সংকট জিইয়ে রেখে দীর্ঘ কয়েক বছরে এখাত থেকে হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। এজন্য আজ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের শুধু দুরবস্থাই নয়, অযাচিতভাবে ভোক্তাজনগণকে অধিক মূল্য দিয়ে নিম্নমাণের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে।
যথাযথ মান ও নির্ভরশীল বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সরকারের চরম ব্যর্থতা এবং আজ পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক জ্বালানি তথা কয়লা, গ্যাস, পানি, সোলার ব্যবহারে সঠিক পন্থা নির্ধারণে সিদ্ধান্ত হীনতার কারণে খুব শিগগিরই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা তথা জাতীয় নিরাপত্তা এক হুমকির মুখে পড়বে। অথচ সরকারকে এ বিষয়ে দেশের অভিজ্ঞমহল বারবার যথাযথ হুঁশিয়ারি দিয়ে আসলেও বিশ্বব্যাঙ্ক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অযাচিত পরামর্শসহ চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের প্রভাবের ফলে আজ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সংকটমুক্ত তো হয়ইনি, বরং দিন দিন এ খাতের সংকট আরো বাড়বে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে লাগসই নীতি প্রণয়নসহ তা বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন অভিজ্ঞদের হিসেব ও পরামর্শ সেমিনার কিংবা কর্মশালায় সর্বজনীন মতামতের মাধ্যমে গৃহীত উপায়সমূহ বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় কিংবা গত ১৫/২০ বছর ক্ষমতায় আসীন বিভিন্ন সরকারসমূহের বিশেষ উপদেষ্টা/উপদেষ্টা/প্রতিমন্ত্রী/মন্ত্রীদের কাছে দাখিলও করা হয়।
দেশপ্রমিক ও নিষ্ঠাবান অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের হিসাব ও পরামর্শ অনুযায়ী যেভাবে খুব অল্প সময় ও ব্যয়ে হিসাবকৃত ২৫০০ মেগাওয়াট ঘাটতি পূরণ, দৈনিক ২৩০ কোটি ঘনফুটের চাহিদার অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদন করেও আরো কিছু বাড়তি গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী নিচে দেওয়া হলো :
পুরনো অদক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে নবায়ন করে ৬০০ মেগাওয়াট (যা বর্তমানে ভারতকে বিনা বাধায় দিয়ে দেওয়া হচ্ছে), কো-জেনারেশনের মাধ্যমে ২০০ মেগাওয়াট, নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে ৫০০ মেগাওয়াট অর্থাৎ ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে মোট উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায় ১৫০০ মেগাওয়াট ও লোড ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আরো ৪০০ মেগাওয়াট সাশ্রয় অর্থাৎ প্রায় ৩০০০ মেগাওয়াট হয় সাশ্রয় বা উৎপাদন বৃদ্ধি করে আগামী ১২ মাসের মধ্যে সিস্টেম নির্ভরশীলতা নিশ্চিতভাবে বাড়ানো যায়। নিষ্ঠা, শ্রম ও প্রজ্ঞার সঙ্গে পরিশ্রম করলে ন্যূনতম ২০০০ মেগাওয়াট সাশ্রয় (উৎপাদন বৃদ্ধিসহ) করা তো অবশ্যই সম্ভব।
সম্প্রতি আবার মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা-এর মতো গ্যাসের অপ্রতুলতার কারণে ভয়াবহ সঙ্কটে পড়েছে শিল্প, বাণিজ্য ও আবাসিক গ্রাহকরা। গ্যাসের অভাবে শিল্প উৎপাদনে ধস নেমেছে। বাড়িঘরে চুলা জ্বলছে না অধিকাংশ সময়। জনগণকে বোকা বানানোর জন্য দ্রুত গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্প, মধ্য, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ফাস্ট ট্রাক প্রকল্প গ্রহণের কল্পকাহিনী বলা হয়েছিল। অথচ ইতোমধ্যেই স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার সময়সূচির ৬ মাস পেরিয়ে গেছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৯০ থেকে ১৯৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু চাহিদা আছে প্রায় ২৩০ কোটি ঘনফুটের। ঘাটতি আছে প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুটের। প্রতি বছর প্রায় ৮ শতাংশ হারে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় গেল ২০০৯ সালে ৪টি কূপের ওয়ার্কওভার এবং ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের ২টি উন্নয়ন কূপ খনন করে দৈনিক ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এক্ষেত্রে বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে নতুন দুটি কূপ চালুর মাধ্যমে ২ কোটি, তিতাসের ১৪ নম্বর কূপ থেকে আড়াই কোটি, মেঘনা-১ থেকে দেড় কোটি ও নাইকো পরিচালিত ফেনী ক্ষেত্র থেকে চার কোটি ঘনফুট অর্থাৎ সর্বমোট ২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তিতাস থেকে মাত্র দেড় কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ এক্ষেত্রেও সরকারের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা সিন্ডিকেট সদস্যরা সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দিতে সফল হয়েছে।
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ৫টি উন্নয়ন কূপ, ৪টি ওয়ার্কওভার কূপ এবং ৪টি অনুসন্ধান কূপ খনন করে ২০১১ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে অন্তত ১২টি নতুন কূপ থেকে দৈনিক ২৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে ৪টি কূপ খনন; হরিপুর, কৈলাসটিলা ও রশীদপুর গ্যাসক্ষেত্রের ৫টি কূপ খনন এবং ৭ নম্বর ব্লকের অনুসন্ধান কূপ খনন করে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ৩১৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখনকার চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছিল ২৯৭ কোটি ঘনফুটের মতো। ফলে তখন ১৮-১৯ কোটি ঘনফুট গ্যাস উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছিল। পাশাপাশি বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০০৮-এর আওতায় ২০১৬-এর ডিসেম্বর মাস নাগাদ দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে লিজের প্রক্রিয়াধীন সমুদ্রবক্ষের ক্ষেত্রগুলোসহ অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে ১শ’ কোটি ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়াও দ্রুত গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ফাস্ট ট্রাক নামে একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের কথা বলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে যা এ বছরের জুন থেকে ২০১২ সালের মে মাস পর্যন্ত চলবে বলে বলা হয়েছিল। এ প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন গ্যাস কূপ অনুসন্ধান এবং গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর কাজ একইসঙ্গে চলবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দৈনিক প্রায় ৪৪ কোটি ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদন করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চলমান ঘাটতি পূরণ করে বাড়তি চাহিদাও মেটানো যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন পথ বাতলাচ্ছেন। একদল বলছেন, গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিতে কূপ খননের বিকল্প নেই। এখনই উচিত নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেয়া। আরেকদল বলছেন, নতুনের আগে সরকারের উচিত স্থগিত কূপসমূহ পুনরায় চালুর পদক্ষেপ নেয়া এবং চলমান কূপগুলোতে উৎপাদনের হার বৃদ্ধির চেষ্টা চালানো। উৎপাদন কম হওয়াটা আমাদের কারিগরি নাকি প্রাকৃতিক সমস্যা তা শিগগিরই পরীক্ষা করে দেখা উচিত। যদি প্রাকৃতিক কোনো সমস্যা না হয় তাহলে প্রয়োজনীয় কারিগরি সমস্যা দূর করে চলমান কূপগুলোতেই উৎপাদন বাড়াবার জন্য আমাদের মনোযোগ দিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রচুর গ্যাস আছে। সরকারের মধ্যকার জাতীয় স্বার্থবিরোধী একটা অংশের অপতৎপরতার ফলে বাপেক্সকে শক্তিশালী করা যাচ্ছে না। তাই গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না প্রত্যাশামত। দেশবিরোধী এই চক্রটি এখন গ্যাসের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করছে। যে কোনো মূল্যে তারা গ্যাস বিদেশে পাচার করার জন্য মুখিয়ে আছে। তারা বলছে উৎপাদন বাড়াতে গেলে চাপ কমে গিয়ে গ্যাসক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অথচ শেভরন তো বিবিয়ানায় অধিক হারে উৎপাদন চালাচ্ছে, কই সেখানে তো গ্যাসের চাপ কমছে না।’ তারা আরো বলেন, ‘প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিয়ে বাপেক্সকে শক্তিশালী করা হলে, চলমান কূপগুলো ওয়ার্কওভার এবং উন্নয়নের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বর্তমান সঙ্কট মিটিয়ে গ্যাস উদ্বৃত্ত করা সম্ভব।’
ওয়ার্কওভার এবং নতুন কূপ খননের যেসব প্রকল্প সরকার শুরু করতে যাচ্ছে সেখানে বাপেক্সের কোনো অংশগ্রহণ থাকবে না বলে জানা গেছে। এক্ষেত্রে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে বাপেক্সের হাতে যতো কাজ আছে তাতে করে তার পক্ষে নতুন কোনো কাজের দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কাজগুলো পেতে যাচ্ছে কতগুলো বিদেশী কোম্পানি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারকে এ ধরনের পরিকল্পনা বাতিল করে দ্রুত বাপেক্সকে শক্তিশালীকরণের উদ্যোগ নিতে হবে। এতে গ্যাসের সমস্যাও মিটবে, সরকারও লাভবান হবে।
এখন বলা হচ্ছে আমাদের দেশে গ্যাস নেই। যারা এখন তা বলছেন তারাই একসময় বাংলাদেশ গ্যাসের সাগরে ভাসছে বলে চিৎকার করে গ্যাস রফতানির জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। আজ তারাই আবার বাংলাদেশকে অফুরান পিট কয়লা ও মূল্যবান কয়লার ভান্ডার বলে অভিহিত করে কয়লাকেও বিদেশে রফতানির জন্য অস্থির হয়ে উঠেছেন। তাদের বক্তব্য হলো এর জন্য প্রয়োজন হলে মাটি খুঁড়ে জমি নষ্ট করে হলেও সব কয়লা উত্তোলন করে বেঁচে দাও। এ থেকে প্রাপ্ত অর্থে দেশে অবিলম্বে শিল্পায়ন করার পদক্ষেপ নাও। আমাদের দেশ ধনী হবে পরে বেশি দামে গ্যাস, কয়লা আবার আমদানি করা যাবে। এরা বিদেশের দালাল। তারা এদেশকে অপরের হাতে জিম্মি করতে চায় বলেই গ্যাস ও কয়লা খাতের মতো বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাও সমাধান করে না। একে জিইয়ে রেখে আমাদের বাধ্য করছে যেন আমরা তাদের কথা শুনি। এরা এভাবে সমস্যার সমাধান না করে তথাকথিত ‘জরুরিভিত্তিতে’ কৌশলে অনেক উচ্চদামে নীতির বাইরে ‘রেন্টাল’ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নামক নীতি বিধিবহির্ভূত এক অনৈতিক পন্থায় পাওয়ার স্টেশন বসিয়ে উচ্চদামে বিদ্যুৎ ক্রয়ে আমাদের বাধ্য করছে। এ মাফিয়া চক্রের হাতে জাতি আজ বন্দি বলে জ্বালানি খাতের মতো বিদ্যুৎ খাতের সমস্যারও সমাধান হচ্ছে না।
লেখক : সাবেক মহাপরিচালক, পাওয়ার সেল