Tuesday, April 25th, 2017

‘ক্ষতিপূরণ আদায় করে শেভরন নিয়ন্ত্রিত ব্লক জাতীয় সংস্থার হাতে দিতে হবে’

চীনা কোম্পানির সাথে বাংলাদেশের গ্যাসব্লক নিয়ে শেভরনের চুক্তি প্রসঙ্গে জাতীয় কমিটির বিবৃতি: ‘ক্ষতিপূরণ আদায় করে শেভরন নিয়ন্ত্রিত ব্লক জাতীয় সংস্থার হাতে দিতে হবে’

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘মার্কিন কোম্পানি শেভরনকে বিভিন্ন সরকার এযাবত অনেক বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। বাংলাদেশের গ্যাসসমৃদ্ধ ব্লকে অতিরিক্ত গ্যাস উত্তোলন করে গত কয়েক বছরে তারা গ্যাসক্ষেত্রের ক্ষতি করেছে, অস্বাভাবিক মুনাফা করেছে, এখন চীনা কোম্পানির কাছে ব্যবসা বিক্রি করে চলে যাচ্ছে শেভরন। অথচ ১৯৯৭ সালে ১৪ জুন মাগুড়ছড়া বিস্ফোরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের কমপক্ষে ২৫০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস নষ্টের দায়দায়িত্ব শেভরনের, সে বিষয়ে ফয়সালা করবার কোনো উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করেনি। বাংলাদেশের এই ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ তাদের তথাকথিত বিনিয়োগের চাইতে বেশি। এছাড়া লাউয়াছড়ায় শেভরণের ক্ষতিকর কর্মকান্ড ছিল বন ও পরিবেশ আইন লংঘন।’

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ‘জাতীয় সংস্থাকে কোণঠাসা করে বাংলাদেশের গ্যাস ক্ষেত্রকে ক্রমাগত বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেবার কারণে দেশের জ্বালানী অর্থনীতি এখন কতিপয় বিদেশি গোষ্ঠী ও তাদের কমিশনভোগীদের হাতে জিম্মি। এই কারণেই গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বারবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনগণের স্বার্থের বিপরীতে কোম্পানীর স্বার্থরক্ষায় গুরুত্ব দেয়ার কারণেই গ্যাস রপ্তানি চুক্তি করা হয়েছে ও হচ্ছে, শেভরন ও নাইকোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের কোনো চেষ্টাই করা হয়নি, উল্টো তাদের নানারকম সুবিধা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া গ্যাজপ্রমকে অনেক বেশি দামে গ্যাসখাতে আনা হয়েছে বাপেক্সকে সুযোগ না দিয়ে। এখন বিশাল গ্যাসক্ষেত্রটি চীনা কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করবার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। নিজেদের সক্ষমতা না বাড়িয়ে বাংলাদেশের জ্বালানী খাতকে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন ও রাশিয়ার মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে দেওয়া জ্বালানী নিরাপত্তার জন্য ভয়ংকর হুমকি ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী।’

তাঁরা বলেন, ‘প্রাকৃতিক সম্পদে জাতীয় মালিকানা ও কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সরকার হাঁটছে উল্টোপথে। আমরা আবারো এর প্রতিবাদ জানাই। মাগুড়ছড়া গ্যাসখাতে যে পরিমাণ গ্যাস নষ্ট হয়েছে তা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সংগ্রহের পুরো মূল্য আদায় করে শেভরনকে দেশ ছাড়বার অনুমতি দিতে হবে। অত:পর এই সমৃদ্ধ গ্যাসক্ষেত্র জাতীয় সংস্থা বাপেক্স-এর মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে। এতে সামগ্রিকভাবে জাতীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে এবং একটি বড় অনিয়মের সুরাহা হবে।’