Sunday, April 16th, 2017

ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সাথে সম্পাদিত ঋণচুক্তি বাতিলের দাবি

২০ এপ্রিল খুলনায় সুন্দরবন উপকূলীয় মানুষের মহাসমাবেশ সফল করা ও ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সাথে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করার দাবিতে বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। সভাপতিত্ব করেন নগর সমন্বয়ত জুলফিকার আলী। সমাবেশটি পরিচালনা করেন সমন্বয়ক আকবর খান। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রুহিন হোসেন প্রিন্স, শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, সাইফুল হক, জুনায়েদ সাকী, নাসির উদ্দিন নাসু, অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা, নগরনেতা খান আসাদুজ্জামান মাসুম, মনির উদ্দিন পাপ্পু, সহিদুল ইসলাম সবুজ, সাইফুজ্জামান সাকন প্রমুখ।

protest-rampal-16April

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সকল বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ থেকে এটা নিশ্চিত হয়েছে যে, রামপাল প্রকল্পসহ সুন্দরবিনাশী অপতৎপরতায় পুরো বাংলাদেশই অরক্ষিত হবে, ভয়াবহ মাত্রায় বিপদাপন্ন হবে। এই ক্ষতি পানি ও বায়ু দূষণের মাধ্যমে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ তীব্রতর করবার মাধ্যমে দেশের আরও বহু অঞ্চলে আঘাত করবে। তারপরও সরকার ভারতের শাসকগোষ্ঠী এবং দেশের লুটেরাদের স্বার্থে এই প্রকল্প নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের বহু বিকল্প আছে, সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নাই। কিন্তু সেই সুন্দরবন অঞ্চল এখন দেশি-বিদেশি দস্যুদের লোভী আগ্রাসনের শিকার। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক গোষ্ঠী ভূমিদস্যু জমি কিনে, দখল করে জমির দাম বাড়াচ্ছে। এটাকেই বলা হচ্ছে ‘উন্নয়ন’। ৫০ লাখ মানুষের জীবন ধ্বংস করে ৫০ হাজারের কর্মসংস্থানের গল্প শুনিয়ে তাকেই বলা হচ্ছে‘উন্নয়ন’। নদীর পানি, শ্বাস নেবার বায়ু, বেঁচে থাকার প্রাণ প্রকৃতির সর্বনাশ করে তাকেই দেখানো হচ্ছে ‘উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে। রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ এসব অপতৎপরতার আসল চেহারা ঢাকার জন্য চলছে বিজ্ঞাপনী মিথ্যাচার অন্যদিকে ভয়ভীতি ত্রাস।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের কমপক্ষে ৫ কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য হুমকি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সুন্দরবনবিনাশী অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে। পাটশিল্পের বিকাশ, মৎস্যজীবী ও বনজীবীদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ এবং প্রকৃতিবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের ঘরে ঘরে সুলভে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে জনমুখি উন্নয়নধারা সৃষ্টির জন্য জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়ন করতে হবে।