Saturday, March 18th, 2017

‘রফতানিমুখি চুক্তি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করবে; বিনা টেন্ডারে, দায় মুক্তির আওতায় করা সমুদ্রের গ্যাসব্লক চুক্তি বাতিল কর’

তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন সরকার বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রের ১২ নং ব্লক বিনা টেন্ডারে এবং রফতানির সুযোগ রেখে দক্ষিণ কোরীয় দাইয়ু’র সাথে চুক্তি করেছে। শুধু রফতানি নয়, বিদেশি কোম্পানির অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি, শুল্ক মওকুফ ও গ্যাসের কেনা দামবৃদ্ধিসহ নানাবিধ সুবিধা দিয়ে যে চুক্তি করা হয়েছে তা দেশের জন্য আত্মঘাতী ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি। রফতানিমুখি এই চুক্তি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করবে। নেতৃবৃন্দ রফতানিমুখি, বিনা টেন্ডারে দায় মুক্তির আওতায় করা সমুদ্রের গ্যাসব্লক চুক্তির বাতিলের দাবি জানান।

আজ ১৮ মার্চ বিকেলে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল পূর্বে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, সংগঠক রুহিন হোসেন প্রিন্স। রাজেকুজ্জামান রতন, জোনায়েদ সাকী, মোশরেফা মিশু, আজিজুর রহমান, মানস নন্দী, মাহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন, শামসুল আলম, মীর মোফাজ্জেল মোস্তাক, জুলফিকার আলী, খান আসাদুজ্জামান মাসুম, মনিরউদ্দিন পাপ্পু প্রমুখ নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

protest-gas-18march2017
সমাবেশে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সমুদ্রের ব্লক ইজারা দেওয়ার পুরো চুক্তি প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছ। বিনা দরপত্রে গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে করা এই চুক্তি ভুল নীতি ও দুর্নীতির ফল। দায়মুক্তি আইন দিয়ে সকল অস্বচ্ছতা দুর্নীতি অনিয়ম জবাবদিহিতার উর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার কারণে অন্যান্য ব্লকগুলোতেও একই সুবিধা পাবার জন্য ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এধরনের চুক্তি করবার চেষ্টা করবে। ফলে পুরো বঙ্গোপসাগরের সম্পদই দেশের মানুষের হাতছাড়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বঙ্গোপসাগরের গ্যাস সম্পদ আগামি কয়েক দশকে প্রধান অবলম্বন হতে পারে। এই সম্পদ অনুসন্ধান, উত্তোলন ও ব্যবহারের যথাযথ নীতি গ্রহণ করলে দেশের গ্যাস সম্পদ দেশের স্বার্থে ব্যবহার নিশ্চিত করা যেত এবং গ্যাস সম্পদ ব্যবহার করে সুলভে, পরিবেশবান্ধব উপায়ে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোও, উৎপাদনশীল খাতে ব্যাপক গতি আনা যেত। অথচ সরকার উল্টোযাত্রা করছে, বিদেশি কোম্পানির অংশীদারিত্ব বাড়িয়ে, রফতানিমুখি ধারা রেখে যে চুক্তি করা হচ্ছে তাতে এই গ্যাস সম্পদ দেশের কাজে লাগানো অনিশ্চিত হলো এই চুক্তির কারণে দেশের ওপর আরো আর্থিক বোঝা বাড়বে। তিনি গ্যাস সম্পদের উপর শতভাগ মালিকানা নিশ্চিত ও জাতীয় সক্ষমতা বাড়িয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমুদ্রের গ্যাস ব্লক অনুসন্ধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, রফতানিমুখী তথাকথিত মডেল পিএসসির বিরুদ্ধে দেশবাসী হরতাল করে প্রত্যাখ্যান করেছিল। অথচ নতুন করে এই পিএসসির আওতায় এই চুক্তি করা হল। তিনি সরকারকে প্রশ্ন করে বলেন, সরকার প্রধান বিভিন্ন সময় বলেছেন একসময় গ্যাস রফতানির চুক্তি সই করে এক দল ক্ষমতায় এসেছে। তাহলে এখন কোন সুদূঢ় প্রসারী চুক্তির বদৌলতে সরকার এ ধরনের গণবিরোধী চুক্তি করছে। একথা দেশবাসী জানতে চায়।

তিনি বলেন, বিএনপি জামায়ত সরকারের আমলে ‘গ্যাসের উপর ভাসছে দেশ’ বলে বিবিয়ানা থেকে গ্যাস রফতানির নামে পাচারের চেষ্টা করা হয়েছিল। জনগণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ওই অপচেষ্টার রুখে দাড়িয়েছিল। আজও ‘গ্যাস সংকট’ এর কথা ব্যাপকভাবে প্রচার করে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে অসম চুক্তি করে দেশের গ্যাস সম্পদ উত্তোলনের নামে বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া ও গ্যাস ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানির চেষ্টা হচ্ছে। যা দেশের অর্থনীতিতে বড় বোঝা হয়ে দাড়াবে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারের এই অপচেষ্টাও প্রতিরোধ করা হবে।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের ভুলনীতি ও দুর্নীতির কারণেই অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম। পাশাপাশি গ্যাস সংকটের কথা বলে কয়লা আমদানি-নির্ভর সুন্দরবিনাশী রামপাল প্রকল্প করছে। কিছু দেশি ও বিদেশি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করতেই এ কাজ করা হচ্ছে।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।