Monday, March 13th, 2017

সরকারের প্রতি জাতীয় কমিটির আহ্বান: ‘গ্যাস রফতানিমুখি চুক্তি থেকে বিরত থাকুন’

তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আজ এক বিবৃতিতে বলেছেন-

‘আমরা জানতে পেরেছি যে আগামিকাল ১৪ মার্চ সরকার বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রের ১২ নং ব্লক বিনা টেন্ডারে রফতানির সুযোগ রেখে একটি বিদেশী কোম্পানি, দক্ষিণ কোরীয় দাইওর সাথে চুক্তি করতে যাচ্ছে। স্বাক্ষরিত হলে এটি হবে দেশের জন্য আরেকটি সর্বনাশা জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি। এর কারণ প্রথমত: দেশের গ্যাস সংকটের কথা বললেও তার সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে রফতানির সুযোগ রেখে বিদেশি কোম্পানির সাথে চুক্তি করে স্থায়ীভাবে যথাযথ সমাধানের পথ বন্ধ করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত: পুরো চুক্তি প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছ। বিনা দরপত্রে গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে এটি করা হচ্ছে যা ভুল নীতি ও দুর্নীতির জায়গা তৈরি করবে। তৃতীয়ত: আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে বেশী দামে এবং আরও অনেক বাড়তি সুবিধা দিয়ে তাদের কাছ থেকে নিজেদের গ্যাসই কেনার চুক্তি হচ্ছে। চতুর্থত: দায়মুক্তি আইন দিয়ে সকল অস্বচ্ছতা দুর্নীতি অনিয়ম জবাবদিহিতার উর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবং পঞ্চমত, এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে অন্যান্য ব্লকগুলোতেও একই সুবিধা পাবার জন্য ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এধরনের চুক্তি করবার সুবিধা পাবে। আমরা জানি তারাও এর পেছনে আছে। ফলে পুরো বঙ্গোপসাগরের সম্পদই দেশের মানুষের হাতছাড়া হবে।

বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বঙ্গোপসাগরের গ্যাসসম্পদ আগামি কয়েক দশকে প্রধান অবলম্বন হতে পারে। এই সম্পদ অনুসন্ধান, উত্তোলন ও ব্যবহারের যথাযথ নীতি গ্রহণ করলে সুন্দরবিনাশী রামপাল কিংবা দেশধ্বংসী রূপপুর প্রকল্পের কোনো যৌক্তিকতা থাকে না। বরং গ্যাসসম্পদের ব্যবহার করে সুলভে, পরিবেশবান্ধব উপায়ে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোও সম্ভব হয়, উৎপাদনশীল খাতও ব্যাপক গতি পেতে পারে। অথচ সরকার উল্টোযাত্রা করছে, এই সম্পদ দেশের কাজে শতভাগ ব্যবহারের নীতিমালা গ্রহণ না করে যে দামে এবং রফতানি মুখি ধারা রেখে এই চুক্তি করা হচ্ছে তাতে এই সম্পদ দেশের কাজে লাগানো সম্ভব হবে না বরং এই চুক্তির কারণে দেশের ওপর আরো আর্থিক বোঝা বাড়বে।

সরকার একদিকে এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে নিজেদের সম্পদ দেশের কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী বাধা সৃষ্টি করছে অন্যদিকে অনেক বেশি দামে এলএনজি আমদানি করে আগামি কয়েক দশকে দেশের অর্থনীতিকে বিপদগ্রস্ত করার পথ গ্রহণ করেছে। এসব নীতির কারণেই অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম। কিছু দেশি ও বিদেশি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতকে যেভাবে সরকার নিরাপত্তাহীন করে তুলছে আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
আমরা তাই সরকারের কাছে গ্যাস রফতানিমুখি চুক্তির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বাতিল করে জাতীয় সক্ষমতা বিকাশের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের সম্পদ শতভাগ দেশের কাজে ব্যবহারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।’