Thursday, February 23rd, 2017

২৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার দেশব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করুন।

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, “দেশবাসীর প্রতিবাদ এবং সুন্দরবন বিনাশের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা উপেক্ষা করে সরকার বিপুল ঋণের বোঝা দেশের কাঁধে ফেলে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকাজ নিয়ে এখনও সক্রিয় আছে। এর পাশাপাশি দেশের প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের নানারকম প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হচ্ছে, সুন্দরবনবিনাশী নানা বাণিজ্যিক ও দখলদারী অপতৎপরতা বাড়ছে।

পৃথিবীর বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ বন প্রাণ-বৈচিত্রের এক অসাধারণ সম্পদ, এক অতুলনীয় ইকোসিস্টেম, পরিবেশশোধনের প্রাকৃতিক ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের জন্য সবচাইতে শক্তিশালী প্রাকৃতিক রক্ষা বর্ম। সুন্দরবন আছে বলে প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচে। সুন্দরবন বিনষ্ট হওয়া মানে ৩৫-৪০ লক্ষ মানুষের জীবিকা হারানো, উপক’লীয় অঞ্চলের ৫ কোটি মানুষকে মৃত্যু ও ধ্বংসের হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া। বারবারই আমরা তাই বলছি বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেক বিকল্প আছে কিন্তু সুন্দরবনের কোন বিকল্প নেই।

বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের কথা বলেই এসব সর্বনাশা প্রকল্প বাস্তবায়ন করার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে যথাযথ পথ গ্রহণে সবসময়ই দাবি করে আসছি, জাতীয় কমিটির ৭ দফা দাবিতে তার সমাধানের পথও দেখিয়েছি। কিন্তু সরকার এসব কম ব্যয়বহুল, নিরাপদ, টেকসই এবং জনপরিবেশ-অনুকূল পথে না গিয়ে দেশি-বিদেশি কতিপয় গোষ্ঠীর স্বার্থে তার উল্টোযাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

আমরা তাই রামপাল প্রকল্পসহ সুন্দরবন বিনাশী সকল অপতৎপরতা বন্ধ এবং জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে আগামি ২৫ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টা থেকে ১ টা পর্যন্ত সারাদেশে ‘রাজপথ’/সড়ক/মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হবে শহীদ মতিউল-কাদের চত্বরে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, ক্লাব, পাঠাগার, পাঠচক্রসহ সকলকে সুন্দরবনধ্বংসী তৎপরতার বিরুদ্ধে গান, নাটক, কবিতা, সমাবেশ, মিছিলসহ নানা তৎপরতায় এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহবান জানাই।”