Monday, January 23rd, 2017

‘এই হরতাল ধ্বংসের নয় সৃষ্টির’

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন রক্ষায় আগামী ২৬শে জানুয়ারী বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগরীতে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল ও সারা দেশে বিক্ষোভ-সংহতি সমাবেশের কর্মসূচী পালন করতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানানা হয়েছে।

আজ ২৩ জানুয়ারী সকাল ১১টায় পুরানা পল্টনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে লিখিতি বক্তব্য পাঠ করেন, জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। জাতীয় কমিটির সংগঠক রুহিন হোসেন প্রিন্স, টিপু বিশ্বাস, বজলুর রশিদ ফিরোজ, সাইফুল হক, জোনায়েদ সাকী, মোশরেফা মিশু, মোশাররফ হোসেন নান্নু, মানস নন্দী, নাসির উদ্দিন নশু, মাহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন, অর্থনীতিবিদ সুজিত চৌধুরী, প্রকৌশলী মাহবুব সুমন, মিজানুর রহমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় গত ৭ বছর ধরে সুন্দরবন বিনাশী রামপাল কয়লা প্রকল্প বাতিলসহ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যা সমাধানের জন্য সাত দফা বাস্তবায়নে আমরা লংমার্চ, প্রতিবাদ-বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচী পালন করলেও সরকার এই প্রকল্প বাতিল না করে উল্টো সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। তাই আমরা বাধ্য হয়ে হরতাল পালনের কর্মসূচি নিয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, “এযাবতকালে বাংলাদেশের মানুষ জনবিচ্ছিন্ন সহিংস, জ্বালাও পোড়াও, সম্পদ ধ্বংসের আর ক্ষমতার সংকীর্ণ সংঘাতের অনেক হরতাল দেখেছেন। ২৬ জানুয়ারির হরতাল এর সম্পূর্ণ বিপরীত, এটি ক্ষমতার সংকীর্ণ সংঘাতে সম্পদ ধ্বংসের নয়, বরং সম্পদ রক্ষা-সম্পদ সৃষ্টি এবং বাংলাদেশ রক্ষার। এই হরতাল জ্বালাও পোড়াও-এর নয়, মানুষের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণের। এই হরতালে আমাদের কোনো সহিংসতা জ্বালাও পোড়াও-এর প্রয়োজন নাই, কারণ আমরা নিশ্চিত কতিপয় স্বার্থগোষ্ঠী ছাড়া দেশের সকল মানুষের সমর্থন সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনে আছে। যে আন্দোলনে জনভিত্তি শক্তিশালী, তার ভয়ভীতি দেখানোর দরকার হয় না, সেই আন্দোলন ভয়ভীতিতে কাবুও হয় না। আমাদের বিরোধিতা সত্ত্বেও কেউ যদি জ্বালাও পোড়াও করে অন্তর্ঘাত করতে চায় তার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। আমরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলবো আপনার ও আপনার সন্তানদের জন্যও এই হরতাল। শান্তিপূর্ণ এই হরতালে সহযোগিতা করুন।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় “এই হরতালের আওতামুক্ত থাকবে: পথচারী, সাইকেল, রিকশা, ভ্যান, এ্যাম্বুলেন্স, গণমাধ্যম গাড়ি। আপনারা রাস্তায় চলুন, তবে হাতে বা শরীরে বা কন্ঠে সুন্দরবন রক্ষার দাবি রাখুন। আমরা সবাইকে অনুরোধ করবো ভয়ভীতি, দ্বিধা সংকোচ দূরে রেখে এই আন্দোলনে ভূমিকা রাখার সুযোগ নিন। আপনার অবস্থান থেকে সংহতি জানান, আন্দোলনকে শক্তিশালী করুন। ২৬ জানুয়ারি বেলা ২টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর সকল প্রতিষ্ঠান, যান্ত্রিক পরিবহণ ও ব্যক্তিগত কাজ বন্ধ রাখুন, ২টার পর আপনার পেশাগত, ব্যক্তিগত কাজ শুরু করুন। ”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, “হরতালের দিন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য সুন্দরবন নিয়ে ক্লাশরুম হোক রাস্তায়, লেখক শিল্পী বুদ্ধিজীবীদের নতুন সৃষ্টির স্থান হোক সুন্দরবন রক্ষার মিছিলে, মা-বাবার জন্য সন্তানকে প্রাণ প্রকৃতি শিক্ষাদানের সুযোগ করে দিক সুন্দরবন নিয়ে হরতাল। এই হরতাল শ্রমজীবী পেশাজীবী শিক্ষার্থী সহ সকল মানুষের, আরও লক্ষ কোটি মানুষকে উদ্বাস্তু বানাবার বিরুদ্ধে এই হরতাল। দেশকে অরক্ষিত করবারবিরুদ্ধে এই হরতাল। দেশের ও বিশ্বের এমন এক সম্পদ ধ্বংসের বিরুদ্ধে এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ যা নষ্ট হলে আর বানানো যাবে না। সুঁই থেকে রকেট সবই আমরা বানাতে পারবো, কিন্তু সুন্দরবন আর বানাতে পারবো না।”