Monday, January 16th, 2017

প্রবাসী ও দেশি বিশেষজ্ঞদের মত : অবিলম্বে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল কর

আজ সকালে মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে “উন্নয়ন ও পরিবেশ: সুন্দরবন, রূপপুর এবং জ্বালানি নিরাপত্তা” বিষয়ে প্রবাসী এবং বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াবাসী পদার্থ বিদ্যার অধ্যাপক এবং নিউক্লিয়ার বিশেষজ্ঞ ড. দ্বিপেন ভট্টাচার্য, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লকহাভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভূতত্ত্ববিদ ড. খালেকুজ্জামান, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট নেটওয়ার্ক সংগঠক কামরুল আহসান খান, অধ্যাপক প্রকৌশলী বিডি রহমতুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ভূতত্ববিদ অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম, অধ্যাপক ড. তানজিম উদ্দিন খান, ড. স্বপন আদনান, অধ্যাপিকা মোশাহিদা সুলতানা, প্রকৌশলী মাহবুব সুমন এবং গবেষক মাহা মির্জা।

পদার্থ বিদ্যার অধ্যাপক এবং নিউক্লিয়ার বিশেষজ্ঞ ড. দ্বিপেন ভট্টাচার্য বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে বলেন, ফুকুশিমার বহুদূরের শহরও এখন পারমাণবিক দুর্ঘটনার কারণে ভুতুড়ে শহরে পরিনত হয়েছে। দুর্ঘটনা ছাড়াও বর্জ্যরে বিষয়টি খুবই বিপজ্জনক। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে এসব অনেক তথ্যই এখনও পরিষ্কার নয়। এসম্পর্কে অনভিজ্ঞ জনবসতিপূর্ণ এই দেশে প্রথমেই ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশে এই প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয়ের জন্য এবং বিজ্ঞান গবেষণার জন্য সমুদ্র উপকূলে ১০০-৩০০ মেগাওয়াট পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে।

IMG_1135

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ভূতত্ত্ববিদ ড. খালেকুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা আলোচনা করেন এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সুন্দরবন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্বে এটি অদ্বিতীয়। প্রকৃতির বিন্যাসে সুন্দরবন একটি বড় সম্পদ। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এর ভয়াবহ ক্ষতি করবে।’ বাংলাদেশের স্বার্থে, প্রাণ প্রকৃতি রক্ষায় এটি দ্রুত বাতিল করতে তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানান। একইসঙ্গে তিনি জনগনকে না জানিয়ে, মতামত না নিয়ে সরকারের ‘বিডিপি ২১০০’ মহাপরিকল্পনা গ্রহণে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ড. বদরুল ইমাম বলেন, ‘সরকার সকল যুক্তিতথ্য অস্বীকার করে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এটি অবিলম্বে বাতিল না করলে এই সরকার ইতিহাসে সুন্দরবন ও পরিবেশ ধ্বংসী হিসেবে পরিচিত হবে। সরকারের কেউ যদি কল্যাণ চায় তাহলে তার অবশ্যই রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিরোধিতা করা উচিৎ। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিল করবার পাশাপাশি সরকারকে গ্যাস অনুসন্ধানে গুরুত্ব এবং অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

প্রকৌশলী বিডি রহমতউল্যাহ বলেন, ‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনা আছে। কিছু গোষ্ঠির স্বার্থে পরিচালিত না হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট সমাধান করা অবশ্যই সম্ভব। তিনি এসংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করে অবিলম্বে এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।’

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ গত ১৩ জানুয়ারি ১ হাজার টন কয়লাভরা জাহাজডুবির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘পরপর সুন্দরবনের মধ্যে কয়লাবাহী জাহাজডুবি এবং উদ্ধারকাজে সরকারের ভয়ংকর গাফিলতি দেখে মনে হচ্ছে সরকার রামপাল প্রকল্পের আগেই সুন্দরবন বিনাশ কামনা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী যে অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছে দেশের ভেতর রামপাল রূপপুরসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সম্পূর্ণ তার উল্টো দিকে যাত্রা করছে। এসডিজির (SDG) দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারী কর্মকর্তা এসডিজি’র (SDG) প্রাণপ্রকৃতি পরিবেশ রক্ষা করে উন্নয়নের প্রস্তাবনা লঙ্ঘন করে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভয়ঙ্কর ঝুঁকি নিয়ে করা হচ্ছে রূপপুর পারমানবিক প্রকল্প। দেশের সর্বনাশের জন্য দেশি-বিদেশি দায়ী ব্যক্তিদের রক্ষা করার চেষ্টা হচ্ছে দায়মুক্তি আইনের মাধ্যমে। সরকার বলে, আর কোনো বিকল্প নেই। আমরা বলি অনেক বিকল্প আছে। সরকার কিছু গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে কোনো বিকল্পের কথা শুনতে চায় না।’

এছাড়া সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জোনায়েদ সাকী, বজলুর রশিদ ফিরোজ, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, নজরুল ইসলাম, শহীদুল ইসলাম সবুজ, মহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন, ফখরুদ্দিন কবির আতিক, মাসুদ খান, সুবল সরকার, নাসিরউদ্দিন নাসু, শামছুল আলম প্রমুখ।

সভায় অবিলম্বে সুন্দরবনের ভিতরে নৌপথে কয়লা, তেল ও ফ্লাইএ্যাশসহ বিষাক্ত পণ্য পরিবহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করা এবং সুন্দরবন বিনাশী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বনগ্রাসী-ভ’মিগ্রাসী সব বাণিজ্যিক তৎপরতা বন্ধ করবার আহবান জানানো হয়।