Saturday, January 14th, 2017

সুন্দরবনের ভিতরে কয়লা, তেল ও ফাইএ্যাশ পরিবহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও রামপাল প্রকল্প বাতিল কর

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আজ এক বিবৃতিতে বলেছেন- “গতকাল ১৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত পশুর নদীতে আবারো একটি কয়লাবাহী জাহাজ ডুবেছে। সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী, এতে কয়লার পরিমাণ ছিলো ১ হাজার টন। এর আগে ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে তেল, কয়লাসহ বিষাক্ত পণ্যবাহী ৩টি জাহাজ পশুর এবং শ্যালা নদীতে ডুবেছিল। এর পরিণতিতে দীর্ঘমেয়াদে সুন্দরবনের বিপর্যয় সম্পর্কে হুশিয়ারি দিয়েছেন দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা। এইসব জাহাজ ডুবির পর, প্রতিটি ক্ষেত্রে, সরকারের ভূমিকা ছিল ন্যাক্কারজনক। বিষাক্ত পণ্যবাহী নৌপরিবহণের ঝুঁকি থেকে সুন্দরবন রক্ষার অঙ্গীকার ও আইন থাকা সত্ত্বেও সরকার এই বিষয়ে কোন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এবারের ডুবে যাওয়া কয়লাবাহী জাহাজে কয়লার পরিমাণ ছিলো আগেরগুলির তুলনায় দ্বিগুণ। গত কয়েকবারে বিষাক্ত পণ্যবাহী জাহাজ ডোবার পরে স্থানীয় জনগণ এবং স্বেচ্ছাসেবীরা প্রাণান্তকর চেষ্টা করে ক্ষয়ক্ষতি সামান্য কিছু সীমিত করতে পারলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর ভূমিকা ছিল খুবই দায়িত্বহীন। আমরা সুন্দরবনের উপর একের পর এক এই ভয়ঙ্কর আঘাতে গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন এবং সরকারের নির্লিপ্ত কিংবা সুন্দরবনবিদ্বেষী ভূমিকায় দেশবাসীর সাথে আমরাও ক্ষুদ্ধ।

সরকার একদিকে এই নৌপথে বিষাক্ত পণ্যবাহী জাহাজ পরিবহণ বন্ধ করছে না, অন্যদিকে দেশ বিদেশের ব্যাপক প্রতিবাদ সত্ত্বেও অচিন্তনীয় ঝুঁকি তৈরী এবং সুন্দরবন বিনাশী রামপাল প্রকল্প নিয়ে এখনো অগ্রসর হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য যে, এই প্রকল্পের জন্য কয়লা বহন করতে হলে ৩০ বছর ধরে প্রতিদিন পোড়ানোর জন্য ১২ থেকে ১৩ হাজার টন কয়লা এই একই নদী দিয়ে পরিবহণ করতে হবে। তাতে কী ভয়াবহ বিপদ হতে পারে তা বুঝতে সাধারণ কান্ডজ্ঞানই যথেষ্ট। অথচ সরকার ভয়ংকর নির্মমতার সাথে, ভারতসহ দেশি-বিদেশি কতিপয় গোষ্ঠীর মুনাফার জন্য, এই সর্বনাশা প্রকল্প কাজ এখনো অব্যাহত রেখেছে।

এই জাহাজডুবিগুলি সরকারকে বার বার বার্তা দিয়েছে সুন্দরবনের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত নদীতে কয়লা, ফাইএ্যাশ বা তেলবাহী জাহাজ একেবারেই নিষিদ্ধ করা উচিৎ। সরকার একগুঁয়েমি করে এই বার্তা গ্রহণ করতে যত দেরি করছে সুন্দরবন তথা বাংলাদেশ ততই বিপন্ন হচ্ছে। আমরা তাই সরকারের কাছে দাবি জানাই (১) অবিলম্বে সুন্দরবনের ভিতরে নৌপথে কয়লা, তেল ও ফাইএ্যাশসহ বিষাক্ত পণ্য পরিবহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। (২) সুন্দরবন বিনাশী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বনগ্রাসী-ভূমিগ্রাসী সকল বাণিজ্যিক তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এবং (৩) সর্বশেষ কয়লাবাহী জাহাজ ডুবির দরুন ক্ষয়ক্ষতি যথাসম্ভব সীমিত করার জন্য সরকারকে সর্বোচ্চ সক্রিয়তা নিয়ে কাজ করতে হবে।

এইসব দাবি পূরণ না হলে আগামি ২৬ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগরীতে অর্ধদিবস হরতাল এবং দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”