Monday, December 26th, 2016

সুন্দরবন রক্ষায় দেশব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশ-বিক্ষোভ

রামপালসহ সুন্দরবন ধ্বংসী প্রকল্পসমূহ বাতিল না হলে ২৬ জানুয়ারি ঢাকায় হরতাল পালনের আহ্বান
৭ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী সুন্দরবন রক্ষায় সমাবেশ

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বানে সুন্দরবন রক্ষায় ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ২৬ ডিসেম্বর প্রতিবাদী সমাবেশ ও মিছিলের মাধ্যমে দেশব্যাপী দাবি দিবস পালিত হয়েছে।

আজ ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬ বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদী সমাবেশে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, দেশবাসীর মতামতকে উপেক্ষা করে সরকার সুন্দরবন ধ্বংসী রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। আর সুন্দরবন এলাকাকে ঘিরে অসংখ্য স্থাপনা গড়ে উঠছে, যা সব মিলিয়ে সুন্দরবনকে গ্রাস করে ফেলবে। এ অবস্থা কোনো সচেতন মানুষ মেনে নিতে পারে না। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সুন্দরবন রক্ষার সংগ্রামে বিজয়ী হতে হবে।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন রুহিন হোসেন প্রিন্স, বজলুর রশিদ ফিরোজ, সাইফুল হক, সুভ্রাংশু চক্রবর্তী, জোনায়েদ সাকী, মোশরেফা মিশু, আব্দুস সাত্তার, মাহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন, রজত হুদা, শামছুল আলম, মীর রেজাউল আলম প্রমুখ।
dabi-dibosh-26dec2016সমাবেশে বক্তারা সুন্দরবন ধ্বংসী রামপাল-ওরিয়ন বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধসহ অন্যান্য প্রকল্প বাতিল না করায় সরকারকে অভিযুক্ত করে বলেন, সরকার দেশ ও বিশ্বের সচেতন মানুষের মতামত উপেক্ষা করে দেশী-বিদেশী লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত।
বক্তারা আরও বলেন, বিদ্যুৎ সংকটকে জিম্মি করে সরকার দেশের প্রাকৃতিক রক্ষা বর্ম সুন্দরবন ধ্বংসে মেতে উঠেছে। অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদনের বহু বিকল্প আছে কিন্তু সুন্দরবনের বিকল্প নেই।

বক্তারা দাবি না মানলে সুন্দরবন রক্ষায় আগামী ২৬ জানুয়ারি ২০১৭ ঢাকায় অর্ধদিবস (৬-২টা) হরতাল পালনের জন্য ঢাকাবাসীর প্রতি এবং ৭ জানুয়ারি ২০১৭ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুন্দরবন প্রেমী সচেতন মানুষের প্রতিবাদ সংগঠিত করার আহ্বান জানান। একই সাথে ঐদিন সারাদেশে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে যার যার অবস্থান থেকে সুন্দরবন রক্ষায় সমাবেশ সংগঠিত করার আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশে জানানো হয় জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে আগামী ১৪ জানুয়ারি বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে বিকল্প পথরেখা দেশবাসীর সামনে উত্থাপন করা হবে।

বক্তারা বিদ্যুৎ-গ্যাস সমস্যা সমাধানে জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল নগরীর প্রেসক্লাব-তোপখানা হয়ে পুরানা পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়।