Wednesday, December 14th, 2016

বিজয় দিবসের ডাক : রামপাল চুক্তি ছুঁড়ে ফেল, সুন্দরবন রক্ষা কর

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবস উপলক্ষে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, আবারও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে পরিচালিত করবার তাগিদ নিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবস উপস্থিত হয়েছে। বর্তমান সময়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে বৈষম্য- নিপীড়ন- ও আধিপত্য মুক্ত একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার চেতনা, ধর্মীয়-জাতিগত-ভাষিক-লিঙ্গীয় বিদ্বেষ বিভাজনের চিন্তা ও অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই, বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা, সকল নাগরিকের নিরাপদ সম্মানজনক জীবনের অধিকার, দেশের সর্বজনের সম্পদের ওপর সর্বজনের মালিকানা এবং জনস্বার্থে প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ অনুকূল উন্নয়ন ধারা প্রতিষ্ঠা।

কিন্তু এর বদলে দেশে লুটেরা, সাম্প্রদায়িক, জাতিবিদ্বেষী, দখলদার, খুনী, নির্যাতকদের আধিপত্য তৈরি হয়েছে। উন্নয়নের কথা বলে কতিপয় গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ ধ্বংস ও জনস্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়া হচ্ছে, দেশকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে মহা সংকটের দিকে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক রক্ষা-বর্ম সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপাল প্রকল্প নেয়া হয়েছে। দেশের কতিপয় অবৈধ সম্পদের মালিক গোষ্ঠী সুন্দরবনকে ঘিরে বাণিজ্যিক ধ্বংসাতœক প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

উপকূল জুড়ে চীন ও ভারতের বিভিন্ন পরিত্যক্ত কয়লা প্রকল্প বসিয়ে বাংলাদেশকে এসব দেশের ডাস্টবিন বানানোর আয়োজন চলছে, রূপপুরে নেয়া হয়েছে রাশিয়ার বিশাল ঋণ ও ভয়াবহ ঝুঁকির প্রকল্প। তেলের দাম না কমিয়ে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কেটে লুটেরাদের পকেট ভারী করবার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই বিজয় দিবসে মুক্তিযেুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী সরকারের এসব তৎপরতার প্রতিবাদ করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

দেশি-বিদেশি লুটেরাদের স্বার্থে দেশের অস্তিত্বের ও মর্যাদার স্মারক সুন্দরবনকে খুন করতে যাচ্ছে সরকার। জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে আমরা দেশবাসীর প্রতি আহবান জানাই- বিজয় দিবসের সকল অনুষ্ঠানে সুন্দরবনবিনাশী রামপালসহ সকল লোভী ও বন তথা প্রাকৃতিক সম্পদগ্রাসী প্রকল্প বন্ধের দাবি তুলুন। আমাদের পরিষ্কার করে বলতে হবে- ভারত, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র আর দেশি বৃহৎ লুটেরাদের মধ্যে দেশকে ভাগবাটোয়ারা করে দেবার জন্য বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করে নাই।