Saturday, November 26th, 2016

সুন্দরবন রক্ষায় ঢাকায় মহাসমাবেশে বক্তারা- ‘সুন্দরবনের যেমন বিকল্প নেই, তাই এই আন্দোলনে বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই’

সুন্দরবন রক্ষায় ঢাকায় মহাসমাবেশে বক্তারা- ‘সুন্দরবনের যেমন বিকল্প নেই, তাই এই আন্দোলনে বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই’
২৬ ডিসেম্বর দাবি দিবস, ৭ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ, ২৬ জানুয়ারি ঢাকায় হরতাল

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে ‘রামপাল প্রকল্পসহ সুন্দরবনবিনাশী সকল অপতৎপরতা বন্ধ এবং জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে’ আজ ২৬ জানুয়ারি ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশ থেকে বলা হয়েছে ‘সুন্দরবনের যেমন বিকল্প নেই, তাই এই আন্দোলনে বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই’। সমাবেশ থেকে, সুন্দরবনবিনাশী প্রকল্প বাতিল না হলে আগামী ২৬ জানুয়ারি ঢাকায় হরতাল আহ্বান করা হয়েছে।

ঘোষিত অন্যান্য কর্মসূচি হল- ২৬ ডিসেম্বর দেশব্যাপী দাবি দিবসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, ৭ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ দিবস, ১৪ জানুয়ারি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য সুলভ, টেকসই, পরিবেশ জনস্বার্থ অনুকূল বিকল্প মহাপরিকল্পনা উত্থাপন। এছাড়া সারাদেশে জেলা ও বিভাগীয় শহরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ২৬ জানুয়ারি ২০১৭ ঢাকা মহানগরীতে অর্ধদিবস হরতাল এবং পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা।

26nov-2

আজ ২৬ জানুয়ারি সকাল ১১টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে খান আসাদুজ্জামান মাসুম-এর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা ও নাটক পরিবেশিত হয়। বেলা ২.৩০টায় জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ও রুহিন হোসেন প্রিন্সের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দ আবুল মকসুদ, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, অধ্যাপক এম এম আকাশ, প্রকৌশলী বিডি রহমত উল্লাহ, গণফ্রন্টের টিপু বিশ্বাস, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী)’র শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী, সঙ্গীত শিল্পী কফিল আহমেদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির মোশরেফা মিশু, কমিউনিস্ট লীগের মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণমুক্তি ইউনিয়নের নাসিরউদ্দিন নসু, গণমঞ্চের মাসুদ খান, মজদুর পার্টির শামসুজ্জোহা প্রমুখ। সভা পরিচালনায় সহায়তা করেন ফিরোজ আহমেদ ও নজরুল ইসলাম। সমাবেশে প্রায় তিন শতাধিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংহতি জানান। দেশের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সমাবেশে উপস্থিত থেকে সংহতি জানান।

সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার সুন্দরবন প্রেমীরা মিছিল করে মহাসমাবেশে যোগ দেন।
সমাবেশ শেষে হাজার হাজার মানুষের বর্ণাঢ্য মিছিল শহীদ মিনার-টিএসসি-শাহবাগ-মৎস্য ভবন হয়ে শহীদ মতিউল কাদের চত্ত্বরে (জাতীয় প্রেসকাব মোড়ে) এসে শেষ হয়।