Monday, October 31st, 2011

২৮-৩১ অক্টোবর ২০১১ ’ঢাকা-সুনেত্র লংমার্চ’ উপলক্ষে সুনেত্র ঘোষণা

’সুনেত্র’ গ্যাস ক্ষেত্র অঞ্চল, সুনামগঞ্জ-নেত্রকোণা
৩১ অক্টোবর,২০১১

অবিলম্বে জাতীয় সংস্থার মাধ্যমে সুনেত্র ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন, কনোকো ফিলিপসের সাথে চুক্তি বাতিল, পিএসসি ২০১১ প্রক্রিয়া বন্ধ, খনিজ সম্পদ রফতানি নিষিদ্ধকরণ আইন পাশ এবং ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়নসহ  ৭ দফা দাবিতে আমরা গত ২৮ অক্টোবর, ২০১১ ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে ’ঢাকা-সুনেত্র লংমার্চ’ শুরু করেছি। ইতিমধ্যে টঙ্গী, গাজীপুর শহর, গাজীপুর চৌরাস্তা, মাওনা, ভালুকা, মাস্টারবাড়ি, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ, শম্ভুগঞ্জ, শ্যামগঞ্জ, নেত্রকোণা, মোহনগঞ্জে পথসভা, জনসভা, প্রচারপত্র বিতরণ, গান, পথনাটক সহ দেড় লক্ষাধিক মানুষের সাথে জনসংযোগ শেষে আজ ৩১ অক্টোবর সুনেত্র গ্যাস ক্ষেত্র প্রান্তে এসে উপস্থিত হয়েছি। এই যাত্রায় আমাদের সাথে সামিল হয়েছেন দেড় লক্ষাধিক নারী-পুরুষ-তরুণ প্রবীণ। এই দীর্ঘযাত্রায় চারদিনব্যাপি যাত্রায় অসংখ্য মানুষ আমাদের দাবীনামা’র সাথে সংহতি প্রকাশ করেছেন। এই সময় সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে সংহতি সমাবেশসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দাবীনামা’র প্রতি আবারো অঙ্গীকার ঘোষিত হয়েছে।

গত বছর সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলা দুটির সীমানা ধরে বিরাট গ্যাস মজুদ ধারণক্ষম একটি ভূতাত্ত্বিক কাঠামো চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশের জাতীয় সংস্থা বাপেক্স। দুই জেলার নামের অংশ নিয়ে এই গ্যাসক্ষেত্রের নাম দেয়া হয়েছে ’সুনেত্র’। ধারণা করা হচ্ছে যে, এখানে প্রায় ৪-৫ টিসিএফ বা সারাদেশের বর্তমান প্রমাণিত মজুদের অতিরিক্ত প্রায় ৪০ ভাগ মজুত আছে। সুনেত্র গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কার করার পর পরই গ্যাস ক্ষেত্র উন্নয়ন করবার জন্য বাপেক্স ’Sunamgonj-Netrokona(senetra) Oil/Gas Exploratory Well Drilling’ নামে চার বছরের একটি পরিকল্পনা জমা দেয়। এই প্রস্তাবনা অনুযায়ী জুন ২০১০ থেকে জুন ২০১৪ পর্যন্ত এই কাজ শেষ করতে ব্যয় হবে মাত্র ২৭৯  কোটি টাকা। এই একই কাজ সিলেটের বিবিয়ানায় করতে গিয়ে শেভরণ ব্যয় দেখিয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা, আর তা তুলে নিয়েছে বাংলাদেশের কাছ থেকে। অথচ বাপেক্সের প্রকল্প এখনও পুঁজির অভাব দেখিয়ে পুরোপুরি অনুমোদন দেয়া হয় নি। অন্যদিকে পেট্রোবাংলার কাছে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে গঠিত গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের বারশ’ কোটি টাকা অলস পড়ে আছে। আমরা উদ্বিগ্ন এই কারণে যে, এই বিশাল গ্যাস ক্ষেত্র পিএসসি বা জয়েন্ট ভেঞ্চার বা পিপিপি’র মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেয়ার চক্রান্ত চলছে, একই সঙ্গে আরেকটি সর্বনাশা পিএসসি ২০১১ করবারও প্রক্রিয়া চলছে।

আপনারা নিশ্চয়ই জানেন যে, স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংস্থাসমূহ ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। বাংলাদেশের গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান এবং দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনশক্তি গড়ে উঠেছে। কিছুদিন আগেই বাপেক্স এর একটি তরুণ বিশেষজ্ঞ দল রশিদপুরে আন্তর্জাতিক মানের থ্রিডি সিসমিক সার্ভের কাজ সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেছে, সেখানেও একটি বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছে। প্রমাণিত হয়েছে যে, সুযোগ ও আর্থিক বরাদ্দের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা না হলে জাতীয় সক্ষমতা আরো বিকশিত হতো; এবং বাপেক্স ভারত, মালয়েশিয়া সহ বিভিন্ন দেশের সাথে আন্তর্জাতিক ভাবে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অর্জন করত। বহুদিন থেকেই বাপেক্স বা জাতীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা এবং তাদের পরিশ্রমলব্ধ তথ্যাদি বিদেশি কোম্পানির স্বার্থে করা হচ্ছে। সাবকন্ট্রাক্টর হিসেবে জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে আটকে রেখে, তার কাজের চাপকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে সম্পদ তুলে দেয়ার ইচ্ছা বিদেশি কোম্পানির হাতে। আমরা এই সমাবেশ থেকে পরিস্কার করে বলতে চাই,  সাবকন্ট্রাক্টর হিসেবে নয়, স্বাধীন জাতীয় সংস্থা হিসেবেই বাপেক্সকে বিকশিত করতে হবে।

আমাদের লংমার্চের অন্যতম দাবী সুনেত্র রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে জাতীয় সংস্থার মাধ্যমে অবিলম্বে গ্যাস উত্তোলণ। আমাদের দাবী অনুযায়ি কাজ শুরু করলে: (১) দেশে কোন গ্যাস ও সেইহেতু বিদ্যুৎ সংকট থাকবে না। (২) নিজেদের দেশের গ্যাস তুলতে বা কিনতে গিয়ে আর্থিক চাপে পড়তে হবে না। (৩) মাগুড়ছড়া বা টেংরাটিলার মতো ভয়াবহ ধ্বংসজ্ঞের সম্ভাবন সম্ভাবনা থাকবে না। (৪) সুলভে ও নিশ্চিতভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। (৫) এর অব্যাহত দামবৃদ্ধির নতুন চাপ তৈরী হবে না। (৬)  এই অঞ্চলে এই গ্যাস ব্যবহারের মধ্য দিয়ে শিল্প ও কৃষি ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। (৭) বিদ্যুৎ উৎপাদনে এই অঞ্চল অগ্রণী ভূমিকা গ্রহন করতে সক্ষম হবে। (৮) এই অঞ্চলে বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আমরা বারবার বলছি আর কোন পিএসসি চুক্তি স্বাক্ষর চলবে না বরং পুরনো সর্বনাশা পিএসসি চুক্তি বাতিল করতে হবে। কারণ স্থলভাগে ও অগভীর সমুদ্রে বহুজাতিক তেল গ্যাস(পিএসসি) চুক্তির স্বাক্ষরে কারণে ইতিমধ্যে আমরা অপরিমেয় ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছি। ১৯৯৩-৯৪ থেকে শুরু করে এই সম্পাদিত চুক্তিগুলির কারণে গত ৭ বছরে বিদেশী কোম্পানির কাছ থেকে গ্যাস কেনা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকায়। এই একই পরিমাণ গ্যাস বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানকে উত্তোলণের সুযোগ দিলে খরচ পড়ত মাত্র ২ হাজার কোটি টাকা। মাগুড়ছড়া-টেংরাটিলায় আমাদের পাঁচশ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস নষ্ট হয়েছে। এই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে পুরো বাংলাদেশের প্রায় দুই বছরের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব ছিল। এই ক্ষতিপূরণের চল্লিশ হাজার কোটি টাকা এখনও কোন সরকার উদ্ধার করার উদ্যেগ গ্রহণ করেনি।

যে পরিমাণ পুঁজি হলে জাতীয় সংস্থা অনেক কম দামে গ্যাস সরবারহ করতে পারত, অনেক কম দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারত সেই পুঁজির সংস্থান করা হয়নি কিন্তু তার দশ থেকে ত্রিশগুণ বেশি দামে বিদেশী কোম্পানির কাছ থেকে গ্যাস কেনার চুক্তি করা হয়েছে। তার ফলে এখন প্রতিবছর একদিকে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ লোকসার ও ভর্তুকি দিচ্ছে অন্যদিকে কতিপয় বিদেশী কোম্পানি ও সাম্রাজ্যবাদি রাষ্ট্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। বিদেশী কোম্পানির স্বার্থে ভর্তুকীর টাকার জোগান দিতে গিয়ে সরকার জাতির উপর ঋণের বোঝা বাড়াচ্ছে, বাড়াচ্ছে করের বোঝা। আবার এক পর্যায়ে ভর্তুকীর চাপ কমানোর জন্য উপর্যপুরি গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে। এর ফলে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির  মাধ্যমে সকল দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি তৈরী হয়েছে। মানুষের জীবনা যাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, নতুন দারিদ্র বাড়ছে। শিল্প ও কৃষি উৎপাদন বিপর্যস্ত হচ্ছে। এরকম ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থাকা স্বত্ত্বেও গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রণীত পিএসসি ২০০৮ অনুসরণে সরকার গত ১৬ই জুন মার্কিন কোম্পানি কনোকোফিলিপস এর সাথে শতভাগ গ্যাস রপ্তানির বিধান ও শতকরা ৮০ ভাগ কোম্পানির মালিকানার সুযোগ রেখে চুক্তি করেছে। বাংলাদেশের জনগণকে দারিদ্রের মধ্যে আটকে রেখে শিল্প-কৃষি অচল করে, বিদ্যুৎ সংকট টিকিয়ে রেখে গ্যাস রপ্তানির কোন চুক্তি আমরা মানতে পারিনা। দুর্ঘটনার রাজা হিসেবে কুখ্যাত কনোকোফিলিপস এর সাথে করা এই চুক্তি বাংলাদেশের জ্বালানি যেমন, তেমন জাতীয় নিরাপত্তাকেও হুমকীর মুখে ফেলেছে। আজকের সমাবেশের ঘোষণা- এই চুক্তি অবশ্যই বাতিল করতে হবে।

গত কিছুদিন ধরেই বিদেশী কোম্পানি ও তার দেশীয় সহযোগীদের স্বার্থে , মার্কিন রাষ্ট্রদূতের হুকুমে উন্মুক্ত খনির পক্ষে অপতৎপরতা জোরদার হয়েছে। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া অঞ্চলে পুলিশ নিয়ে জরিপ, মামল-হামলা সহ এলাকায় সংঘাত সৃষ্টি, ফসলের ক্ষতিপূরণ বন্ধ করে বিভিণœ প্রতারণামূলক প্রচারণা, জনগণের করের টাকা লুটপাট ও অপচয় করে ভূমি অধিগ্রহণের তোড়জোড়, কয়লানীতি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই বিদেশী কোম্পানির আপ্যায়নে জার্মানি সফরের পর জ্বালানি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির উন্মুক্ত খনির পক্ষে প্রচারণা ইত্যাদি এসব অপতৎপরতার অংশ। এই সমাবেশ সংসদীয় কমিটি সহ সরকারের এই জাতীয় স্বার্থবিরোধী তৎপরতা বন্ধ করার দাবী জানাচ্ছে।

স্বাধীন বিশেজ্ঞদের বিশ্লেষণ ও রক্তে লেখা গণরায় সিদ্ধান্ত দিচ্ছে যে, দেশের সর্বনাশ করে দেশী বিদেশী লুটেরাদের স্বার্থে কোন ভাবেই উন্মুক্ত কয়লা খনি করা যাবে না, আমাদের কয়লা সম্পদ বিদেশীদের মালিকানায় আমরা দেব না। এক বিন্দু কয়লা বিদেশে রপ্তানি হবে না। এই সমাবেশের ঘোষণা উন্মুক্ত খনন নিষিদ্ধ ও এশিয়া এনার্জির বহিষ্কার সহ ফুলবাড়ির ছয় দফা চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। এর এতটুকু অন্যথা জনগণ মানবেনা। বড়পুকুরিয়ার মানুষ ক্ষতিপূরণ নিবেন কিন্তু কোন ভাবেই জমি ঘর ছেড়ে যাবেন না। দেশের সম্পদ বিদেশী বা দেশের ডাকাত-মুনাফাখোরদের হাতে যেতে দেবেন না।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উপর বিদেশী কোম্পানি ও দেশী কমিশনভোগীদের আধিপত্য বজায় থাকার কারণে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সংকট ক্রমেই গভীরতর হচ্ছে। সরকার পরিবর্তনে এই অবস্থার কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। সরকার যখন জনগণের সম্পদ বিদেশীদের হাতে তুলে দেয় তখন দেশ ও দেশের সম্পদ বাচাতে জনগণকেই পাহারাদারের ভূমিকা নিতে হবে। সেই ডাক দিয়েই আমাদের এই লংমার্চ কর্মসূচী। এই সমাবেশ ঘোষণা দিচ্ছে যে, জনগণকে সাথে নিয়ে এই নেত্রকোণা-সুনামগঞ্জকে দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে গড়ে তোলা হবে যাতে কোন বিদেশী কোম্পানি কিংবা দেশী ভৃত্যেরা এই অঞ্চলে জনগণের সম্পদ লুন্ঠন করতে আসতে না পারে।

জাতীয় সম্পদ তথা দেশের উপর জনগণের মালিকানা ও কর্তৃত্ব নিশ্চিত করবার জন্য ঢাকা-সুনেত্র লংমার্চ শেষে এই সমাবেশ থেকে আমাদের দাবী:
১) সরকার থেকে এই মর্মে স্পষ্ট ঘোষণা আসতে হবে যে,  কেবল মাত্র জাতীয় সংস্থার মাধ্যমে সুনেত্র ও রশীদপুর গ্যাস ক্ষেত্র থেকে অবিলম্বে গ্যাস উত্তোলণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে, কোন বিদেশী কোম্পানিকে এর সাথে যুক্ত করা হবে না।
২) এর জন্য বাপেক্স প্রস্তাবিত ২৭৯ কোটি টাকার প্রকল্পের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের বারশ’ কোটি টাকা থেকে এই বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
৩) গ্যাস ক্ষেত্র’র নিকটবর্তী স্থানে রাষ্ট্রীয় বৃহৎ বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট বসানো শুরু করতে হবে। এভাবে অগ্রসর হলে অনেক সুলভে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, কোন ভর্তুকী লাগবে না।
৪) সরকারকে ঘোষণা দিতে হবে যে, স্থলভাগের অবশিষ্ট গ্যাসক্ষেত্রগুলো বিদেশী কোম্পানির হাতে তুলে দেয়ার অপচেষ্টায় চলমান পিএসসি ২০১১’র প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশ আর কোন সর্বনাশা পিএসসি গ্রহণ করবে না। কন্ট্রাক্টের মাধ্যমেও বাংলাদেশের কোন গ্যাসক্ষেত্রে কোন বিদেশী কোম্পানিকে যুক্ত করা যাবে না।
৫) রপ্তানিমুখী পিএসসি ২০০৮ ও কনোকোফিলিপস এর সাথে চুক্তি বাতিল করতে হবে।
৬) অবিলম্বে ফুলবাড়ি চুক্তির পূর্ণবাস্তবায়ন করতে হবে। ’উন্মুক্ত না বিদেশী না রপ্তানি না’ এই শর্তের ভিত্তিতে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবার জন্য জাতীয় সংস্থা গঠন করতে হবে।
৭) বড়পুকুরিয়ায় উন্মুক্ত খনির চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে। কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে, চীনা কোম্পানির সাথে চুক্তি বাতিল করে জাতীয় সংস্থার মাধ্যমে সব ধরণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কয়লা উত্তোলণ করতে হবে।
৮) গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে খনিজসম্পদ রপ্তানি নিষিদ্ধ আইন পাশ সহ জাতীয় কমিটির ৭ দফা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।
৯) জ্বালানি উপদেষ্টা ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি সহ জাতীয় স্বার্থবিরোধী তৎপরতায় নিয়োজিত ব্যাক্তিদের অপকর্ম নিয়ে উন্মুক্ত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় কমিটির আন্দোলন বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে তেল-গ্যাস কয়লাসহ সকল জাতীয় সম্পদ তথা দেশের উপর জনগণের মালিকানা ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জাতীয় আন্দোলন। এ যাবৎ দ্বিজোটীয় পালাবদলে কমিশনভোগী দুর্বৃত্ত দখলদারদের মুখই কেবল বদল হয়েছে, জাতীয় স্বার্থবিরোধী তৎপরতার কোন ছেদ ঘটেনি। এসব শাসকগোষ্ঠী জনগণের জীবন ও সম্পদ বিপন্ন করেই ক্ষান্ত হয় নি, বাংলাদেশে সাম্রাজ্যবাদের স্থায়ী দখলিস্বত্ত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগীতায় অবতীর্ন হয়েছে। এসব দল দেশী বিদেশী লুটেরা ও সাম্রাজ্যবাদের কাছে মুচলেকা দিয়েছে, জনগণ মুচলেকা দেয় নি। এই সংগ্রাম তাই হীনমন্যতা ও দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে মানুষের আত্মমর্যাদা ও নতুন জীবন প্রতিষ্ঠারও সংগ্রাম। জাতীয় অস্তিত্বের এই আন্দোলনে সকল কর্মসূচীতে শরীক হয়ে সকল নারী-পুরুষের অপ্রতিরোধ্য জাতীয় জাগরণ গড়ে তোলার জন্য আমরা দেশবাসির প্রতি আহবান জানাই।