Friday, May 20th, 2016

শ্রীলংকায় ভারতীয় কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল; এলএনজি ভিত্তিক বিকল্প প্রস্তাব

পূর্বাঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ন বন্দর নগর ত্রিঙ্কোমালিতে ৫০০ মেগাওয়াটের একটি ভারতীয় কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনা থেকে সরে আসা এবং বিকল্প হিসেবে এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেয়ার কথা জানিয়েছেন গত মঙ্গলবার শ্রীলংকার একজন কেবিনেট মন্ত্রী।

শ্রীলংকার জ্বালানি মন্ত্রী চান্দিমা ভীরাক্কোরি বলেছেন, শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মৈথ্রিপালা সিরিসেনা তার সাম্প্রতিক ভারত সফরের সময়ে গত শনিবার(১৪ মে), ভারতের প্রধাণমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে এক স্বাক্ষাতে এক কথা জানিয়ে দিয়েছেন।

”আমরা ভারতকে আহত করতে চাই না। তাই প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা তার সফরের সময় কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিকল্প হিসেবে এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের প্রস্তাব দিয়েছেন,” বলে ভিরাক্কোলি রয়েটার্সকে জানান।“সর্বোচ্চ পযায়েই এই আলোচনা হয়েছে, এবং এতে উভয় পক্ষের সম্মতি রয়েছে।”

সম্প্রতি গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক বিদ্যুৎ বিপযয়ের মুখোমুখি হওয়ার পর থেকে শ্রীলংকা বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করে আসছে, জানিয়েছেন শ্রীলংকার সরকারি কর্মকর্তারা।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব বিএমএস বাটাগোড়া বলেন, ত্রিঙ্কোমালির নিকটস্থ সামপুর গ্রামবাসীর প্রস্তাবিত ভারতীয় কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ১০ বছরেরও দীর্ঘ প্রতিবাদের পরে এই এলএনজি’র বিকল্প প্রস্তাবটি দেয়া হলো। ত্রি্ঙ্কোমালিতে ভারত ইতোমধ্যেই দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম পেট্রোলিয়াম হাব গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো ২০০৬ সালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি হওয়ার পর থেকেই ভূমি থেকে উচ্ছেদ ও সম্ভাব্য দূষণের আশংকার কারণে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরোধীতা করে আসছিলেন।

৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি ২০১১ সালে চূড়ান্ত করা হয়। তখন শ্রীলংকার রাষ্ট্রীয় সিলন ইলেক্ট্রিসিটি বোর্ড(সিইবি) এবং ভারতের রাষ্ট্রীয় ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশান (এনটিপিসি)লিমিটেড এর মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জয়েন্ট ভেঞ্চার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য কোন ভারতীয় কোম্পানিকে অংশীদার করা হবে এ বিষয়টি এখনও জানা যায়নি। প্রাকৃতিক গ্যাস কয়লার চেয়ে কম দূষণকারি জ্বালানি কিন্তু শ্রীলংকার জন্য বাড়তি মুশকিল হবে এর কোন এলএনজি আমদানী অবকাঠামো না থাকা।

শ্রীংকার একমাত্র কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি(সক্ষমতা ৯০০ মেগাওয়াট) চীনের অর্থায়নে ১৪০ কোটি ডলার ব্যায়ে দুই ধাপে নির্মিত হয়েছিল।অবশ্য এই চাইনিজ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বারবার কারিগরি সমস্যায় পড়ে।

ভারত এবং চায়না গত কয়েকবছর ধরে মূলত অবকাঠামোখাতে শ্রীলংকাকে একের পর এক ঋণ দিয়ে যাচ্ছে। ২০০৯ সালে শ্রীলংকার গৃহযুদ্ধের অবসানের পর থেকে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ দুনিয়ার অন্যতম ব্যাস্ত নৌপথের সন্নিকটের দেশ শ্রীলংকায় প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগীতায় লিপ্ত।

রয়টার্স, ১৮ মে, ২০১৬

http://in.reuters.com/article/sri-lanka-india-coal-idINKCN0Y90R8