Sunday, March 13th, 2016

জাতীয় কমিটির ‘সুন্দরবন ঘোষণা’

রামপাল ও ওরিয়ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সুন্দরবনবিনাশী সকল অপতৎপরতা বন্ধ এবং বিদ্যুৎ সংকটের সমাধানে ৭ দফা বাস্তবায়নে ১০-১৩ মার্চ সুন্দরবন অভিমুখে জনযাত্রা শেষে

জাতীয় কমিটির ‘সুন্দরবন ঘোষণা’

গত ১০ মার্চ সকালে ঢাকা প্রেসক্লাব থেকে রওনা হয়ে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কালিগঞ্জ, যশোর, নওয়াপাড়া, ফুলতলা, দৌলতপুর, খুলনা, বাগেরহাট হয়ে চার দিনে চার শত কিলোমিটার অতিক্রম করে আমরা আজ ১৩ মার্চ দুপুরে সুন্দরবন সংলগ্ন কাটাখালীতে উপস্থিত হয়েছি। সুন্দরবন রক্ষাসহ সাত দফা আদায়ের এই জনযাত্রার প্রস্তুতিকালে এবং জনযাত্রা সময় কালে লক্ষ মানুষ আমাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। জনযাত্রায় অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের সকল শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিত্বকারী মানুষ। বহুসংখ্যক সংগঠনের মধ্যে জনযাত্রায় অংশ নিয়েছে বামপন্থী প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, কৃষক-শ্রমিক-নারী-ছাত্র-যুব-শিশু-কিশোর-বিজ্ঞান সংগঠন, গানের দল, নাটকের গ্রুপ, চলচ্চিত্র সংগঠন, পাঠচক্র, লিটল ম্যাগাজিন; রাজনৈতিক নেতা কর্মী ছাড়াও এতে অংশ নিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী-বিজ্ঞানী-প্রকৌশলী-পেশাজীবী-শিল্পী-লেখক-সাংবাদিক চলচ্চিত্র নির্মাতা-কৃষক-শ্রমিক-নারী-পুরুষ। এই জনযাত্রা সময়কালে এর সাথে সংহতি জানিয়ে লন্ডন, আমস্টারডামে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, আর কয়ঘন্টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে প্যারিসে, আটলান্টায়।

সুন্দরবন ধ্বংসকারী রামপাল-ওরিয়ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিলসহ বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে জাতীয় কমিটির সাত দফা বাস্তবায়নের দাবী নিয়ে এই জনযাত্রা সংগঠিত হয়েছে। সরকার যখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও উন্নয়ণের নামে ধ্বংস ও দখলের মাধ্যমে সুন্দরবনের উপর মুনাফাখোরদের এক হিংস্র আগ্রাসনের আয়োজনে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তখন জনগণ তার সার্বভৌম অধিকার বলে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বলয় তৈরি করছেন। এই জনযাত্রা সেই প্রতিরোধের অংশ।

আমাদের এই জনযাত্রা চলাকালে যশোরে প্রবেশের আগে সরকারি প্রশাসনের হুমকী এবং হয়রানি মোকাবিল করতে হয়েছে। শেষ মুহুর্তে পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশের অনুমতি বাতিল করে তারা জনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত করতে চেষ্টা করেছে। শুধু সমাবেশের অনুমতি বাতিল নয়, যশোরে প্রবেশ ও অবস্থানে হুমকি দিয়ে জনযাত্রা পন্ড করতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু সুন্দরবন জনযাত্রা সকল বাধা-বিপত্তি-হুমকি অতিক্রম করে যশোরে প্রবেশ করেছে এবং প্রতিবাদ সভা ও মিছিল করে জনযাত্রা অব্যহত রেখেছে। এই সমাবেশ থেকে আমরা আবারও সরকারি প্রশাসনের এই হীন চক্রান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

সুন্দরবন শুধু কিছু গাছ আর কিছু পশু-পাখি নয়। সুন্দরবন অসংখ্য প্রাণের সমষ্টি এক মহাপ্রাণ, অসাধারণ জীববৈচিত্রের আধার হিসেবে অতুলনীয় ইকোসিস্টেম ও প্রাকৃতিক রক্ষাবর্ম, বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত। এই সুন্দরবন শুধু লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন জীবিকার সংস্থান করেনা, সিডর-আইলার মতো প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় চারকোটি মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করে। দেশের সীমানায় এবং সীমানার বাইরে বিস্তীর্ণ উপক’লীয় অঞ্চল কার্যত সুন্দরবনের অস্তিত্বের সাথে সম্পর্কিত।

ভারতের এনটিপিসি’র সাথে বাংলাদেশের পিডিবি যৌথভাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে তা অসম, অস্বচ্ছ এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ বিরোধী। বাংলাদেশের ওরিয়ন কোম্পানিকেও সব নিয়মনীতি উপেক্ষা করে একই ধরনের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে মানুষ ও প্রকৃতির অপূরণীয় ক্ষতি ছাড়াও বাংলাদেশের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হবে। এছাড়া পরিবেশ সমীক্ষার নিয়মাবলী অস্বীকার করে আগে ভূমি অধিগ্রহণ, নির্যাতনমূলকভাবে মানুষ উচ্ছেদ, হাইকোটের রুল অগ্রাহ্য করা এবং পরবর্তীতে স্ববিরোধী, ত্রুটিপূর্ণ, অসম্পূর্ণ, অসংগতিপূর্ণ এক পরিবেশ সমীক্ষা প্রণয়ণ ইত্যাদি সবকিছুই প্রমাণ করে যে, কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এসব কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় দেশি বিদেশি গোষ্ঠী মরিয়া। কিন্তু সুন্দরবন নিয়ে স্বাধীন গবেষণা ও অনুসন্ধান থেকে এটা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় যে, এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হলে সুন্দরবন মহাবিপর্যয়ের শিকার হবে, এবং পুরো বাংলাদেশকেই অরক্ষিত করে ফেলবে।

বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের গবেষণা থেকে জানা যায় যে, রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বছরে ৪৭ লক্ষ টন কয়লা পোড়াবে, এর থেকে বছরে ৫২ হাজার টন বিষাক্ত সালফার ডাইঅক্সাইড, ৩০ হাজার টন নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টন ফ্লাই অ্যাশ ও ২ লক্ষ টন বটম অ্যাশ উৎপাদিত হবে। এছাড়া পশুর নদী থেকে ঘন্টায় ৯১৫০ ঘনমিটার হারে পানি প্রত্যাহার, তারপর বিপুল বেগে পানি আবার নদীতে নির্গমন, নির্গমনকৃত পানির তাপমাত্রা ও পানিতে দ্রবীভূত নানান বিষাক্ত উপাদান নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ, পানির প্লবতা, পলি বহন ক্ষমতা, মৎস্য ও অন্যান্য প্রানী ও উদ্ভিদের জীবনচক্র ইত্যাদিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, গোটা সুন্দরবনের জলজ বাস্তুসংস্থান ধ্বংস করবে। সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে কয়লা পরিবহন, জাহাজ থেকে নির্গত তরল কঠিন বিষাক্ত বর্জ্য, জাহাজ নিঃসৃত তেল, শব্দ, তীব্র আলো ইত্যাদি সুন্দরবনের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ও জীব-বৈচিত্র বিনষ্ট করবে। এর সাথে ওরিয়নের ৫৬৫ মেগাওয়াট এবং রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াটের আরো একটি ইউনিট স্থাপিত হলে দূষণ আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

দেশবাসীর প্রতিবাদ, ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা উপেক্ষা করে যখন একদিকে এসব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করে অনবায়নযোগ্য বিশাল আশ্রয় সুন্দরবনহত্যার আয়োজন চলছে, তখন তার সুুযোগে এলাকায় ভূমিদস্যুদের নানা রকম প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে, মুনাফালোভী আগ্রাসনে এখন প্রতিদিনই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সুন্দরবন। শীপইয়ার্ড, সাইলো, সিমেন্টকারখানা সহ নানা বাণিজ্যিক ও দখলদারী অপতৎপরতা বাড়ছে। দেশ বিশেষত উপক’লীয় অঞ্চল যখন জলবায় ু পরিবর্তনের হুমকির মুখে তখন রামপাল মাতারবাড়ীসহ উপকূলীয় অঞ্চল জুড়ে নেয়া বিভিন্ন অবিবেচক প্রকল্প এই ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে। রূপপুরেও ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হচ্ছে। আমরা দৃঢ়কন্ঠে বলতে চাই, রামপাল, রূপপুর ও মহেশখালী প্রকল্প নয়, জাতীয় কমিটির ৭ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নেই দেশের বিদ্যুৎ সংকটের টেকসই সমাধান আছে।

গত দেড় দশকে জাতীয় কমিটির আন্দোলনের একটি কেন্দ্রীয় বিষয় হচ্ছে স্বল্প মূল্যে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের এক টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক জ্বালানি যদি জাতীয় মালিকানায় থাকে, যদি খনিজ সম্পদ রপ্তানি নিষিদ্ধ করা যায়, যদি নবায়ণযোগ্য-অনবায়ণযোগ্য জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রসমূহ সম্প্রসারিত করা যায়, যদি এসব কাজ করায় জাতীয় সক্ষমতার বিকাশকে অগ্রাধিকার দেয়া হয় তাহলে অতিদ্রুতই বাংলাদেশের পক্ষে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব, ঘরে ঘরে সুলভে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়া সম্ভব এবং কৃষি-শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব। আগের সরকারগুলোর ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও এ পথে না গিয়ে দেশী বিদেশী লুটেরা গোষ্ঠীকে ব্যবসা দেয়া এবং কমিশনভোগী নীতি গ্রহণ করায় জ¦ালানী ও বিদ্যুৎ খাত ক্রমান্বয়ে ব্যক্তি মালিকানায় মুনাফামুখি, ব্যয়বহুল এবং ঋণনির্ভর হয়ে পড়ছে। এতে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, দেশী বিদেশী বিদ্যুৎ ব্যবসায়ী ও লুটেরা গোষ্ঠী লাভবান হলেও দেশের জনগণের উপর আরো বোঝা চাপানো হচ্ছে এবং নতুন নতুন বিপদের ঝুঁকি তৈরী করা হচ্ছে। এই জনযাত্রা বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের জন্য তাই অবিলম্বে পিএসসি ও বিনা টেন্ডারে বঙ্গোপসাগরের তেলগ্যাস সম্পদ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেবার প্রক্রিয়া বন্ধ, ফুলবাড়ি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, খনিজ সম্পদ রফতানি নিষিদ্ধকরণসহ জাতীয় কমিটির সাত দফা বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছে।

আমরা বারবার বলি বিদ্যুৎ উৎপাদনের বহু বিকল্প আছে, সুন্দরবনের কোন বিকল্প নেই। সরকারি ভুল নীতি, দুর্নীতি ও মুনাফামুখী আগ্রাসনে সুন্দরবনসহ দেশ নানাভাবে ক্ষত বিক্ষত হচ্ছে। এর ওপর রামপাল ও ওরিয়ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র দিতে যাচ্ছে মরণ আঘাত। ভারতীয় কোম্পানির সীমাহীন মুনাফার জন্য, দেশী ভূমি দস্যুদের বনভূমি দখল অবাধ করবার জন্য আমাদের অস্তিত্বের অংশ সুন্দরবন ধ্বংস হতে দিতে পারি না। শুধু ভারত নয়, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া অন্য যে কোন দেশের নামেই আসুক না কেনো, কোন দখলদার লুটেরাদের হাতেই বাংলাদেশকে আমরা ছেড়ে দিতে পারিনা। কোন সাম্রাজ্যিক পরিকল্পনার ফাঁদে আমরা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে টেনে নিয়ে যেতে দিতে পারি না।

বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশ জুড়ে থাকা এই সুন্দরবন ধ্বংসের প্রকল্পের বিরুদ্ধে শুধু বাংলাদেশের জনগণ নয়, ভারতীয় এমনকি সারা দুনিয়ার সংগ্রামী জনগণের পারস্পরিক সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ গড়ে তোলা দরকার। তার বিপুল সম্ভাবনাও আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমরা ভারতের সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি এই প্রকল্প বাতিল করতে, আর ভারতের জনগণের প্রতি আহবান জানাচ্ছি এই লড়াইয়ে শামিল হতে। ইতিমধ্যে অনেকেই এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন, তাঁদের আমরা অভিনন্দন জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমাদের দাবি, অবিলম্বে সুন্দরবন ধ্বংস করার সকল অপতৎপরতা বন্ধ করে সুন্দরবনকে সুস্থ ও পুনরুৎপাদনক্ষম অবস্থায় বিকশিত করার জন্য ‘সুন্দরবন নীতিমালা’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। জনযাত্রা থেকে আমরা দাবি জানাচ্ছি, আগামী ১৫ই মে’র মধ্যে রামপাল-ওরিয়ন সহ সুন্দরবন বিধ্বংসী প্রকল্প বাতিল করতে হবে। প্রয়োজনে এই সময়ের মধ্যে প্রকাশ্য আলোচনা বা বিতর্কে আসার জন্য আমরা আহবান জানাচ্ছি। সরকার যদি এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য মহাবিপর্যয়ের প্রকল্প বাতিল করতে ব্যর্থ হয় তাহলে আমরা দেশের সকল পর্যায়ের মানুষকে সাথে নিয়ে ঢাকামুখি লংমার্চ করবো। প্রয়োজনে অবস্থান কর্মসূচী, ঘেরাও, হরতাল, অবরোধসহ আন্দোলনের বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবো।

আমরা বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, লেখক, শিল্পী, শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, শিক্ষকসহ সমাজের সকল স্তরের নারী-পুরুষের কাছে সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে জাতীয় প্রতিরোধ জোরদার করবার আহবান জানাই। সুন্দরবন বহুভাবে বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রাখে, সুন্দরবন রক্ষা তাই আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। এই দায়িত্বে শামিল হতে হবে আমাদের সবাইকে। এই মহাপ্রাণ, মাতৃমূর্তি সুন্দরবনকে কোনোভাবেই আমরা দেশি বিদেশি লুটেরা গোষ্ঠীর মুনাফার বলি হতে দেবো না।

কাটাখালী। ১৩ মার্চ, ২০১৬
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি