Tuesday, March 15th, 2016

‘কয়লা বিদ্যুতে জীবিকা হারায়, নষ্ট হয় পরিবেশ’

‘কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ। এর ফলে সুন্দরবনের সংকটাপন্ন প্রতিবেশ আরো হুমকির মুখে পড়বে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে ভারতের কিছু এলাকার জনসাধারণ এরইমধ্যে জীবিকা হারিয়েছে, পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এ কারণে আদালত অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।’

আজ মঙ্গলবার খুলনা প্রেসক্লাবের শহীদ হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে আয়োজিত ‘কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও উপকূলীয় প্রতিবেশ’ শীর্ষক আলোচনাসভায় ভারত থেকে আসা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এ কথা বলেন।

সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দল, উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), সর্বভারতীয় বনকর্মী ইউনিয়ন, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চ (সিইপিআর), ভারত বিজ্ঞান যাত্রা, দিল্লি সলিডারিটি গ্রুপ, মাচ্ছিমার অধিকার সংঘর্ষ সংগঠন (ম্যাস) ও জাতীয় মৎস্যজীবী ফোরাম সম্মিলিতভাবে এ আলোচনাসভার আয়োজন করে।

সভায় ভারতীয় প্রতিনিধিরা দাবি করেন, জনগণের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা এবং যৌথ আন্দোলন গড়ে তোলা উচিত।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দলের আহ্বায়ক গৌরাঙ্গ নন্দীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন প্রতিনিধিদলের সদস্য ও সর্বভারতীয় বনকর্মী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অশোক চৌধুরী, উপসম্পাদক রোমা মালিক, ভারত জন-বিজ্ঞান যাত্রার আহ্বায়ক সৌম্য দত্ত, কেরালার জাতীয় মৎস্যজীবী ফোরামের ম্যাগলিন পিটার, গুজরাটের মাচ্ছিমার অধিকার সংঘর্ষ সংগঠনের (ম্যাস) ভারত প্যাটেল, উত্তর প্রদেশের উমেশ বাবু, উড়িষ্যার শীলা মহাপাত্র, কেরালার মাজু ভারগেসে, মধ্য প্রদেশের রাজেশ কুমার ও মহারাষ্ট্রের আয়েশা ডি সুজা। আলোচনা সভার সঞ্চালক ছিলেন উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোটের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ম্যাসের ভারত প্যাটেল বলেন, ‘গুজরাটের কচ্ছ উপসাগরের তীরে প্রথমে মাত্র ৩০০ মেগাওয়াটের একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উত্তপ্ত পানির কারণে উপকূল মাছ শূন্য হয়ে যায়। এর ফলে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ তাদের জীবিকা হারিয়েছে। অপরদিকে কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ২০০ মানুষের। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা সরবরাহের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ বন্দর। বন্দরের জাহাজের শব্দ ও দুষণে নষ্ট হয়ে গেছে এলাকার পরিবেশ।’

ভারত প্যাটেল আরো বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা শিল্প-কারখানার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আরো বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ৩০০ একর জায়গা নিয়ে শুরু করলেও এখন ১২০ কিলোমিটারব্যাপী দুষণকারী কারখানা আর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা।’

কেরালার মৎস্যজীবী ফোরামের ম্যাগলিন পিটার বলেন, ‘আদানী ও আম্বানি গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে হাজার হাজার জেলে তাদের জীবিকা হারিয়েছে। অথচ তাদের কয়েক লাখ কর্মদিনের চাকরির লোভ দেখানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দেখা গেল, ১০ হাজার মানুষের দুই মাসের কর্মসংস্থান হয়েছে।

সর্বভারতীয় বনকর্মী ইউনিয়নের অশোক চৌধুরী বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় সংস্থা হিসেবে ভারতের জাতীয় তাপবিদ্যুৎ কোম্পানির (এনটিপিসি) দায়িত্ব হলো নিজ দেশের জনসাধারণকে বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদান করা। অন্য দেশে মুনাফার জন্য কোম্পানি তৈরি করার কোনো অধিকার এ সংস্থার নেই।’

ভারত জন-বিজ্ঞান যাত্রার সৌম্য দত্ত বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের একটাই সুন্দরবন। এর কোনো একটি অংশে নেতিবাচক প্রভাব পড়লে অপর অংশও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ভারতীয় কোম্পানি যদি সেই ক্ষতির জন্য দায়ী হয় তাহলে উদ্যোগ নিতে হবে যৌথভাবে। সেখানে ভারতীয় জনগণ নিজ কোম্পানিকে প্রতিরোধ করার জন্য কাজ করবে, বাংলাদেশ কাজ করবে নিজ প্রতিবেশ রক্ষার জন্য।’

বনকর্মী ইউনিয়নের রোমা মালিক বলেন, ‘সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট করে মুষ্টিমেয় ধনী কোম্পানি মুনাফার পাহাড় গড়ছে। এর বিরুদ্ধে দক্ষিণ এশীয় জনসাধারণের সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে। তাই জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।’

আলোচনা সভায় আরো আলোচনা করেন, এনটিভির মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, বেলার মাহফুজুর রহমান মুকুল, মাছরাঙা টেলিভিশনের মোস্তফা জামাল পপলু, ওয়াটারকিপার্সের মানবেন্দ্র দেব, ছাত্র প্রতিনিধি কানাই মণ্ডল, দীপ্ত টেলিভিশনের ফারজানা ববি, দৈনিক পূর্বাঞ্চলের এইচএম আলাউদ্দীন, সাংবাদিক মাকসুদুর রহমান, এসএ টেলিভিশনের সুনীল দাস, গাজী শান্তনু কায়সার, একুশে টেলিভিশনের মহেন্দ্র নাথ সেন, হিউম্যানিটিওয়াচের শরিফুল ইসলাম সেলিম, শিশুস্বর্গ খেলাঘর আসরের মাইনুল ইসলাম সাকিব, দৈনিক যুগান্তরের হেদায়েৎ হোসেন, বাংলানিউজের মাহবুবুর রহমান মুন্না, দৈনিক তথ্যের নূর হাসান জনি, ক্লিনের রেজাউল করিম জিতু, সুবর্ণা ইসলাম দিশা প্রমুখ।

খবর সূত্র: http://www.ntvbd.com/bangladesh/42593/