Saturday, November 14th, 2015

সুন্দরবন রক্ষায় জাতীয় কনভেনশন: `মহাপ্রাণ সুন্দরবন’ বাঁচাতে জাতীয় জাগরণ-এর আহ্বান

সুন্দরবন রক্ষায় জাতীয় কনভেনশন থেকে সুন্দরবনকে ‘মহাপ্রাণ’ আখ্যায়িত করে একে বাঁচাতে জাতীয় জাগরণ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদ, রাজনীতিক সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিরা।

কনভেনশন থেকে ‘রামপাল ও ওরিয়ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল এবং বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়নে ৪ মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ১৫ নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সারাদেশে সফর, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে সমাবেশ, ফেব্রুয়ারি ‘১৬ তে ঢাকা মহানগর সহ বিভাগীয় শহরে পদযাত্রা, সংহতি সমাবেশ এবং দাবি না মানলে ১০ থেকে ১৫ মার্চ ’১৬ সুন্দরবন অভিমূখে সারাদেশে লংমার্চ।

convention-14-nov-2015

আজ ১৪ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে ৩.৩০মিনিট পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত এই কনভেনশনে সভাপতিত্ব করে কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ, অধ্যাপক এম এম আকাশ, অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান, নূর মোহাম্মদ, সুজিত চৌধুরী, রাজনীতিক বিমল বিশ্বাস, টিপু বিশ্বাস, রুহিন হোসেন প্রিন্স, বজলুর রশীদ ফিরোজ, সাইফুল হক, শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, জোনায়েদ সাকী, মোশরেফা মিশু, মোশারেফ হোসেন নান্নু, অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা, মাহা মির্জা, খায়রুল ইসলাম চৌধুরী রুপম, প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা, মংলার নূর আলম, বাগেরহাটের রণজিৎ চ্যাটার্জী, খুলনার এস. এ রশিদ, নারায়ণগঞ্জের রফিউর রাব্বী, কক্সবাজারের মো. কলিমউল্লাহ, যশোরের ইকবাল কবির জাহিদ, ফরিদপুরের রফিকুজ্জামান লায়েক, কুষ্টিয়ার এ্যাড. জহুরুল ইসলাম, পাবনার হাসিবুর রহমান হাসু, সিরাজগঞ্জের নবকুমার কর্মকার, বরিশালের নৃপেন্দ্রনাথ বাড়ৈসহ ২৮ জেলার প্রতিনিধি, বিভিন্ন শেণি পেশার প্রতিনিধি, পরিবেশবিদ, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিকরা বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, সুন্দরবন অসংখ্য প্রাণের সমাহার। নানা স্থাপনা তৈরী করে এই ম্যানগ্রোভকে নষ্ট করা হচ্ছে। সুন্দরবনের ভেতরে বারবার তেল, কয়লা, সিমেন্ট বোঝাই জাহাজ বারবার ডুবি সত্ত্বেও এর প্রতিরোধ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এলাকায় ভূমি ও বনগ্রাসী বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পর ওরিয়নকে এবং আরও ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কথা বলা হচ্ছে।

এসব দেখে আশঙ্কা হচ্ছে, যে সুন্দরবন বিশ্বের সম্পদ, যা দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষের প্রকৃতিক রক্ষা প্রাচীর, লক্ষ লক্ষ জীবিকার অবলম্বন, জীববৈচিত্রে অন্যন্য, সেই সুন্দরবনের বিপর্যয় ও বিনাশ নিয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যাথা নেই।

কনভেনশনে বক্তারা সুন্দরবন রক্ষায় জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে সুন্দরবন বিনাশী সব ধরনের তৎপরতা বন্ধের দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, দেশি-বিদেশি লুটেরাদের চক্রান্তে আজ সুন্দরবন ধ্বংসের প্রচেষ্টা চলছে। তাই সুন্দরবন রক্ষায় আন্দোলনকারী দল, সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষা করতে হবে।