Thursday, November 12th, 2015

সরকারের বিজ্ঞাপনী প্রচার ও আমাদের জবাব

গত ২ নভেম্বর ২০১৫ ডেইলি স্টারের শেষ পাতায় বাংলাদেশ সরকারের জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ একটি বিজ্ঞাপন দিয়েছে। বিজ্ঞাপনে শিরোনাম দেয়া হয়েছে,“রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র একটি পরিবেশ বান্ধব প্রকল্প”। বিজ্ঞাপনে যারা সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতা করছে তাদেরকে অভিযুক্ত করে বলা হয়েছে- “এ প্রকল্প নিয়ে একটি মহল ও কতিপয় ব্যক্তি বা সংগঠন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার ও কর্মকান্ড পরিচালনা করছে যা অমূলক, ভিত্তিহীন ও দেশের স্বার্থবিরোধী।”

বিজ্ঞাপনের বক্তব্য: “বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে সুন্দরবন নিরাপদ দূরত্বে অবস্থিত। সুন্দরবনের ইউনেস্কো হেরিটেজ থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ৬৯ কিমি দূরে এবং সুন্দরবনের প্রান্তসীমা থেকে ১৪ কিমি দূরে অবস্থিত।”

প্রকৃত তথ্য: কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র মারাত্মক পরিবেশ দূষণকারী বলে সাধারণত কোন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও জনবসতির ১৫-২০ কিমি এর মধ্যে এ ধরণের বড় আকারের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয় না। যে ভারতীয় এনটিপিসি বাংলাদেশে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে চাচ্ছে, সেই ভারতেরই পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ইআইএ গাইড লাইন, ২০১০ এ স্পষ্ট বলা আছে- নগর, জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণি অভয়ারণ্য, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পরিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকা ইত্যাদির ২৫ কিমি সীমার মধ্যে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ এড়িয়ে চলতে হবে। আর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের দূরত্ব ৬৯ কিমি হলেও কয়লা পরিবহনের রুট সুন্দরবনের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের ঠিক পাশ দিয়েই গেছে। তাছাড়া ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট গোটা সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান থেকে পৃথক নয়, সুন্দরবনের এক প্রান্তের মাটি পানি বায়ু দূষিত হলেও তার প্রভাব তার অপর প্রান্তেও পড়বে। আমরা সুন্দরবনের একাংশ নয়, সমগ্র সুন্দরবনকেই রক্ষা করা জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।

বিজ্ঞাপনের বক্তব্য: “রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হলে সুন্দরবনের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বনের উপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং বন কেটে বসতি স্থাপন ও আবাদ, মৎস্য আহরণ এবং প্রাণের ক্ষতিকর নানাবিধ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড হ্রাস পাবে। পক্ষান্তরে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সম্প্রসারণের ফলে সুন্দরবনের উপর স্থানীয় জনসাধারণের নির্ভরশীলতা কমবে ও বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ফলে সুন্দরবন সংরক্ষিত হবে।”

প্রকৃত তথ্য: সুন্দরবনের গাছ কাটা, বনের জমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, বন্যপ্রাণী শিকার কিংবা বিষ দিয়ে মাছ মারার মতো ক্ষতিকর কর্মকান্ড সাধারণ জনগণ করেনা, করে ক্ষমতার সাথে নানান ভাবে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালীরা। তাছাড়া সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে জাহাজ চলাচল কিংবা তেল-সার-সিমেন্ট-ফ্লাইঅ্যাশ-কয়লার জাহাজ ডুবির জন্যও স্থানীয় জনসাধারণ নয়, বরং সরকার ও প্রভাবশালীরা দায়ী। ক্ষমতাসীনদের দায় স্থানীয় জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া ভীষণ অন্যায়। আর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হলে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এরকম দাবিও ভ্রান্ত ও প্রতারণাপূর্ণ। একটি ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ পর্যায়ে ৪ হাজার অস্থায়ী কর্মসংস্থান এবং পরিচালনা পর্যায়ে দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৬০০ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতে পারে। কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনায় মূলত কারিগরী জ্ঞান সম্পন্ন লোকের কর্মসংস্থান হয় বলে এসব কর্মসংস্থানের খুব সামান্যই স্থানীয় জনগণের ভাগ্যে জুটবে। চার থেকে সাড়ে চার বছরের নির্মাণ পর্যায়ে বড় জোর মাটি কাটা, মালামাল পরিবহণ, নির্মাণ কাজের শ্রমিক ইত্যাদি কিছু অস্থায়ী মজুরি ভিত্তিক কর্মসংস্থান জুটতে পারে স্থানীয় কিছু মানুষের। কিন্তু পরিচালনা পর্যায়ে যে ৬০০ কর্মসংস্থান হবে তার বেশিরভাগই কারিগরী হওয়ার কারণে সেখানে খুব কম সংখ্যক স্থানীয় মানুষেরই কাজ জুটবে। বরং উল্টো বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে মাটি পানি বাতাস দূষিত হয়ে সুন্দরবন ও তার চারপাশের নদী, খাল ও জলাভূমির উপর নির্ভরশীল জেলে, কৃষক, বাওয়ালী, মউয়াল সহ কয়েক লক্ষ মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।

বিজ্ঞাপনের বক্তব্য: “বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে অত্যাধুনিক আল্ট্রা সুপার থার্মাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ফলে এখান থেকে পরিবেশ দূষণ কারী কালো ধোয়ার উদগীরণ বা ছাই উড়ে বায়ু দূষণের সম্ভাবনা নেই।”

প্রকৃত তথ্য: সাব ক্রিটিক্যাল টেকনোলজির তুলনায় সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহার করলে দুষণের পরিমাণ সর্বমোট মাত্র ৮ থেকে ১০ শতাংশ হ্রাস পায় যা কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভয়াবহ দূষণ সামান্যই কমাতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, যদি কোন পুরাতন সাব ক্রিটিক্যাল টেকনোলজির কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে দৈনিক ১০০ টন বিষাক্ত সালফার ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়, তাহলে সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহার করলে সালফার ডাই অক্সাইড নির্গমন সর্বোচ্চ ১০ টন কমে ৯০ টন হতে পারে। এখন সুপারক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহারের ফলে এই সামান্য ১০ টন হ্রাস পাওয়ার ঘটনা থেকে যদি প্রচার করা হয় সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহারের ফলে কোন পরিবেশ দূষণ হবে না- তাহলে সেটা প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সুন্দরবনের কাছে প্রস্তাবিত কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পটির এমন কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে যেগুলো সাবক্রিটিক্যাল, সুপার ক্রিটিক্যাল বা আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল- যেই টেকনোলজিই ব্যবহার করা হউক না কেন ঐ ক্ষতিগুলো হবেই। যেই টেকনোলজিই ব্যবহার করা হোক- বিদ্যুৎকেন্দ্র চললে শব্দ দূষণ হবেই, বিদ্যুৎ কেন্দ্র শীতল রাখার জন্য পশুর নদী থেকে পানি গ্রহণ-বর্জন করতে হবে, ফলে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর মতো সুন্দরনের পশুর নদী দূষণের ঝুকি থাকবেই, সুন্দরবনের ভিতর দিয়ে দিনে রাতে কয়লার জাহাজ চলাচলের ফলে শব্দ দূষণ, পানি দূষণ, আলো দূষণ ইত্যাদি ঘটবেই।

বিজ্ঞাপনের বক্তব্য: সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে কয়লা পরিবহণের ব্যাপারে বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “এখানে আবৃত অবস্থায় কয়লা আনা হবে ফলে পানি বা বায়ু দূষিত হবে না।”

প্রকৃত তথ্য: কয়লা যতই ঢেকে পরিবহণ করা হোক তাতে জাহাজের কয়লাস্তুপ থেকে চুইয়ে পড়া কয়লা-ধোয়া বিষাক্ত পানি (বিলজ ওয়াটার), অ্যাংকরেজ পয়েন্টে কয়লা লোড-আনলোড করার সময় সৃষ্ট দূষণ, কয়লার গুড়া, জাহাজ-নিঃসৃত তেলআবর্জনা, জাহাজ চলাচলের শব্দ, ঢেউ, বনের ভেতরে জাহাজের সার্চলাইটের তীব্র আলো, জাহাজের ইঞ্জিন থেকে নির্গত বিষাক্ত সালফার ও নাইট্রোজেন গ্যাস ইত্যাদির ক্ষতিকর প্রভাব দূর হয়ে যায় না। তাছাড়া কয়লার জাহাজ ডুবির ঝুঁকি তো সবসময় থাকবে যা সুন্দরবনের পশুর নদীতে সাম্প্রতিক ৫১০ টন কয়লার কার্গো ডুবির ঘটনা থেকেই স্পষ্ট। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য এত ছোট কার্গো চলাচল করবে না, একেকটি কার্গোতে ৮ থেকে ১০ হাজার টন কয়লা পরিবহণ করা হবে যা ডুবলে দূষণের ঝুঁকি অনেক বেশি।

বিজ্ঞাপনের বক্তব্য: “রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে বছরের কোন ঋতুতেই বায়ু প্রবাহ সুন্দরবনের দিকে ধাবিত হয় না। অতএব, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিমনী থেকে নির্গত বায়ু সুন্দরবনের দিকে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই!”

প্রকৃত তথ্য: এই মিথ্যাচারটা একেবারেই নতুন। বাতাস প্রবাহ কি সরকার নিয়ন্ত্রণ করবে? এর আগে বলা হয়েছিলো, সারা বছর বাতাস সুন্দরবনের দিকে যাবে না, শুধু চারমাস যাবে। এখন বলা হচ্ছে, বছরের কখনওই বাতাস সুন্দরবনের দিকে প্রবাহিত হবে না। অথচ খোদ সরকারি ইআইএ রিপোর্টেই স্বীকার করা হয়েছিলো, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি-বছরের এই ৪ মাস বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাতাস সুন্দরবনের দিকে প্রবাহিত হবে: “Only during November to February,
prevailing wind flows towards South and rest of the year it flows mostly towards North.In most of the time of a year, emissions from power plant shall not reach the Sundarbans except November to February.”(ইআইএ, পৃষ্ঠা-২৭৫) নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি- এই ৪ মাস ধরে শুষ্ক মৌসুমে সালফার ও নাইট্রোজেনসহ বিষাক্ত গ্যাস একটানা সুন্দরবন অঞ্চলে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি থাকবে বলে সুন্দরবনের পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য এই চার মাসই যথেষ্ট। তাছাড়া ঘূর্ণি বাতাস ঝড় ইত্যাদি নানা কারণেই এই চারমাস ছাড়াও বছরের অন্য সময়েও বাতাস সুন্দরবনের দিকে প্রবাহিত হতে পারে। আরেকটি বিষয় হলো, কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণ শুধু বায়ুবাহিত নয়, যে বাতাস চার মাস ধরে সুন্দরবনের দিকে ্রবাহিত হবে বলে কেবল চার মাসই পরিবেশ দূষণ ঘটবে। কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানিদূষণ, শব্দদূষণ, ছাইয়ের দূষণ, কয়লা পরিবহণের কারণে দূষণ সারা বছর ধরেই ঘটবে যার সঙ্গে বাতাসের দিকের কোনো সম্পর্ক নেই।

বিজ্ঞাপনের বক্তব্য: “বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিমনীর উচ্চতা ৯০২ ফুট হওয়ায় বায়ু দূষণের কোন সম্ভাবনা নেই।”

প্রকৃত তথ্য: চিমনীর উচ্চতা বাড়ালে দূষণকারী উপাদানের পরিমাণ কমে যায় না, নির্গত দূষণকারী উপাদানগুলো কেবল চিমনীর অধিক উচ্চতার কাছাকাছি বায়ুস্তরে নির্গত হয়। এরপর বাতাসের সাথে আশপাশে প্রবাহিত হতে থাকে। বাতাসের প্রবাহ শক্তিশালী থাকলে বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে প্রবাহিত হয় এবং প্রবাহ দুর্বল থাকলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছের বাতাসই দূষিত করতে থাকে। উচু চিমনী থাকা স্বত্ত্বেও বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত বিষাক্ত সালফার ও নাইট্রোজেন গ্যাস সুন্দরবনের বাতাসে যে সালফার ও নাইট্রোজেনের ঘনত্ব বাড়িয়ে দেবে তা খোদ সরকারি ইআইএ রিপোর্টেই স্বীকার করা হয়েছে। ইআইএ রিপোর্টে সালফার ও নাইট্রোজেনের ঘনত্ব সুন্দরবনের জন্য নিরাপদ সীমার মধ্যে থাকার দাবী করলেও অন্তত এটা স্বীকার করা হয়েছে যে, দূষণকারী বায়ু সুন্দরবনে পৌছাবে, কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগের বিজ্ঞাপন তার চেয়েও এক ধাপ আগ বাড়িয়ে সুন্দরবনে দূষিত বাতাস পৌছানোর ব্যাপারটিই অস্বীকার করে বসে আছে!

বিজ্ঞাপনের বক্তব্য: বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রয়োজনে অতি অল্প পরিমাণে পানি ব্যবহার করা হবে বিধায় এটি পশুর নদীর জন্য হুমকি হবে না।

প্রকৃত তথ্য: বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যাবহারের জন্য পশুর নদী থেকে প্রতি ঘন্টায় ৯১৫০ ঘনমিটার করে পানি প্রত্যাহার করা হবে। কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শীতলিকরণ সহ বিভিন্ন কাজে ব্যাবহারের পর অবশিষ্ট পানি পরিশোধন করে ঘন্টায় ৫১৫০ ঘনমিটার হারে আবার নদীতে ফেরত দেয়া হবে। বিভিন্ন শিল্প কারখানা থেকে দূষিত পানি নির্গত হয়ে খোদ রাজধানীর বুকে সরকারের নাকের ডগায় যেভাবে বুড়িগঙ্গা সহ বিভিন্ন নদী ও জলাশয় দূষিত হচ্ছে, সুন্দরবনের ওপর তেল ও কয়লাভরা জাহাজডুবির পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যে ভ’মিকা তাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দূ ষিত পানি নির্গত হয়ে পশুর নদী সহ সুন্দরবনের খাল ও নালা দূষিত করবে না- এরকম আশ্বাসের উপর আস্থা রাখা সুন্দরবনকে মহাবিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়ার শামিল।