Saturday, October 29th, 2016

মিথ্যাচার বন্ধ করে সুন্দরবন ধ্বংসী প্র্রকল্পসমূহ বাতিলের আহ্বান

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ মিথ্যাচার বন্ধ করে সুন্দরবন ধ্বংসী প্রকল্পসমূহ বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেছেন, তথাকথিত উন্নয়নের নামে সুন্দরবন ধ্বংসের কোনো ষড়যন্ত্র দেশবাসী মেনে নেবে না। বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প স্থান ও বিকল্প পদ্ধতি আছে, কিন্তু সুন্দরবনের বিকল্প নাই। তাই সুন্দরবন রক্ষায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, সংগঠক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও সাইফুল হক। এসময় সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ, টিপু বিশ্বাস, বজলুর রশীদ ফিরোজ, জোনায়েদ সাকী, মোশাররফ হোসেন নান্নু, জাহাঙ্গীর আলম ফজলু, শহীদুল ইসলাম সবুজ, নাসির উদ্দিন নসু, ফখরুদ্দিন কবির আতিক, সুবল সরকার, মহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন, শামসুল আলম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, সুন্দরবনের কাছে ভারতের সাথে যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি করা হয়েছে, ওই চুক্তিতে ভারতই লাভবান হবে। আমাদের সুন্দরবন ধ্বংস হবে। সচেতন মানুষ হিসেবে আমরা এ ধরনের চুক্তি মেনে নিতে পারি না। তিনি বলেন জাতীয় স্বার্থে আন্দোলন করতে গেলে সরকার বারবার বাধাগ্রস্থ করছে। বাধা দিয়ে, হামলা করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। অতীতে আমরা আন্দোলন করে গ্যাস রপ্তানীর ষড়যন্ত্র বন্ধ করেছি এবারও আন্দোলন করে সুন্দরবন ধ্বংসের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দাড়ানো হবে।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকার যুক্তির কাছে না পেরে মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছেন। সুন্দরবন রক্ষায় যারা আন্দোলন করছে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। তিনি বলেন দেশ বিদেশের গুটি কয়েক স্বার্থান্বেষি ছাড়া অধিকাংশ জনগণ সুন্দরবন রক্ষার পক্ষে তাদের মতামত প্রকাশ করেছে। শুধু আমরা নই, দেশের সচেতন বিশেষজ্ঞবৃন্দ, জাতি সংঘ, রামসারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সুন্দরবনের কাছে তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আমরা তাই অবিলম্বে রামপাল, ওরিয়ন বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সুন্দরবনের পাশের সকল স্থাপনা বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন সম্প্রতি কয়লা, তেল ও সার বোঝাই, জাহাজ ডুবি আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে লক্ষ লক্ষ টন কয়লা সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে পরিবহন করলে সুন্দরবন ধ্বংসের কাজকেই তরান্বিত করবে, জীববৈচিত্র ধ্বংস হবে। তিনি বলেন সুন্দরবন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রাকৃতিক রক্ষাবর্ম। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে এ অঞ্চলের মানুষকে বাঁচায়। আমাদের তাই সুন্দরবনকে বাঁচাতে হবে। তিনি সুন্দরবন রক্ষায় জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানান।

সমাবেশ থেকে আগামী ১৪ নভেম্বর সুন্দরবন রক্ষায় জাতীয় কনভেনশনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সমাবেশ শেষে শত শত মানুষের বিক্ষোভ মিছিল নগরীর সড়ক প্রদক্ষিণ করে।